Link copied!
Sign in / Sign up
0
Shares

ইউটিউব টিউটোরিয়াল পর্যবেক্ষন দ্বারা স্ক্র্যাচ থেকে একটি সম্পূর্ণ ঘর নির্মাণ করলেন একজন মা


আমাদের জন্যে এখন বুঝতে আর সময় রাখে না যে বর্তমান দুনিয়ায় ইন্টারনেট কতখানি মূল্যবান ভূমিকা পালন করছে। তার ওপর এখন যদি আমরা বলি যে এটি একজন মায়ের ওপরে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত রেখেছে, তাহলে কেমন হয়? হ্যাঁ, দৃষ্টান্তের মুলে হল একটি বাড়ি যার নাম ইনকওয়েল ম্যানর যেটি তৈরী হয়েছে স্ক্রাচ থেকে তাও আবার ইউটিউব ভিডিও দ্বারা পর্যবেক্ষণ করে। হয়তো এই দৃষ্টান্তই আবার একবার প্রমান করলো যে মায়েরা সব পারেন।

কারা ব্রুকিংস নামক এই ভদ্রমহিলা তাঁর জীবনে দু দুটো অসফল বিবাহের স্বীকার হয়েছেন যার অভিজ্ঞতা যথেষ্টই দুঃখের। উনি যেই পীড়া ও অত্যাচারের ভুক্তভুগি হয়েছেন, তা কখনোই তাঁর সন্তানদের ওপর কোনোরকম প্রভাব ফেলুক তা চাননি। তাই তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে তাঁর সন্তানদের বড় করতে চেয়েছিলেন। এদিকে তাঁর থাকার মত একটি ঘর ও ছিলনা না ছিল সেভাবে আর্থিক সক্ষমতা। এই অভাব ই তাঁকে ইউটিউবের সাহায্য নিতে বুদ্ধি দেয় এবং তার ফলস্বরূপ বেরিয়ে আসে এই চমৎকার বাসস্থান।

ব্রুকিংস তাঁর যৎসামান্য সঞ্চয় থেকে কিনে ফেলেন একটি এক একর জমি আর্কানসাসের লিটিল রক বলে একটি জায়গায় এবং সেখান থেকে শুরু তাঁর সন্তানদের সাথে মিলিত হয়ে তাঁর স্বপ্নের বাড়ি বানানোর প্রচেষ্টা। ওনার হিসেবে মত উনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আনুমানিক ১৩০,০০০ ডলার খরচ করলে উনি ওনার স্বপ্নে সফল হবেন।

একটি বক্তব্যে উনি স্বীকার করেছেন, “আমার বড় ছেলে ড্রিউ আমাকে প্রাথমিক স্টোরে বাড়ির ডিসাইন এঁকে দিতে সাহায্য করেছে। এমনকি, শহরে এই বাড়িটি যাতে স্বীকারোক্তি পায়, তার জন্যেও তার অবদান কম না। যেই মাত্র আমরা এই স্বীকারোক্তিই এযে যাই, আমি এবং আমার সন্তানরা একসাথে লেগে পড়ি কঠোর পরিশ্রমে।”

প্রায় ৯মাস ধরে তারা ইউ টিউব ঘেটে গেছে এবং ওনাকে সাহায্য করেছে ওনার কেক পারিবারিক বন্ধু যার বাড়ি ঘর বানানোর অভিজ্ঞতা আছে। যখনই ওঁরা কোনোরকম বাধা বুঝতে পেরেছেন, সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য নিয়েছেন ইউ টিউবের।

ঠিক ৯ মাস পর, অর্থাৎ ৩১সে মার্চ, ২০০৯ সালে অবশেষে এই চমৎকার কাজটি সম্পূর্ণ হয়।

বাড়িটির নাম হল ইনকওয়েল ম্যানর যেটি ৩৫০০ স্কয়ার ফুটের এবং রয়েছে ৫টি ঘর আর একটি লাইব্রেরি, কারণ ব্রুকিংস চিরকালই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসেন।

উনি ওনার জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই রচনা করেছেন; “রাইস: হাউ এ হাউস বিল্ট এ ফ্যামিলি” অর্থাৎ কিভাবে একটি বাড়ি একটি পরিবার সৃষ্টি করলো। উনি এই রচনার দ্বারা সকল মহিলাদের অনুপ্রেরণা দিতে চান।

“আমি কোনোদিনও কোনো বই লিখব বলে ভাবিনি, কারণ আমি নিজেকে যোগ্য মনে করতাম না, কিন্তু পরে আমি ভাবলাম জীবনের সমস্ত অন্ধকার দিনগুলি সবসময় আলোয় পরিবর্তন করে ইতিবাচক বানিয়ে নিতে হয় এবং সকলকে সেই সফলতার কথা জানিয়ে উৎসাহ দিতে হয়”, ব্রুকিংস বলেছে।

উনি আরো বলেছেন, “কখনো কোন পরিস্থিতিতে ভাববেননা আপনি একা, কোনো যাত্রাই একার নয়। আপনি সমস্ত পীড়া সরিয়ে তুলে এগিয়ে যেতে পারেন আপনার পরিবারের সাথে।”

মানুষের জীবন তাদের ওপর হয়তো মাঝে মাঝে হঠাৎ অন্ধকার নামিয়ে আনে কিন্তু কারা প্রমান করেছেন যে পরিবারের সাহায্য পেলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা যায়। এই চমৎকার বাড়িটি তাদের প্রত্যেকের মধ্যে এক অসাধারণ ঐক্যের ছাপ ফেলে এবং কে বলতে পারে আরো কত অসাধ্য তাঁরা সাধন করে ফেলল।

এই পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন এবং প্রত্যেকটি মানুষকে অনুপ্রেরণা দিন যাতে আগামী অন্ধকার দিনে বা বিপদে কেউ পিছিয়ে না পড়ে ও মনের জোর বজায় রেখে এগিয়ে যেতে পারেন। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon