Link copied!
Sign in / Sign up
9
Shares

ত্বকের উপর তৈরি হওয়া গহ্বর আটকাতে ৭টি সহজ পরামর্শ

ত্বক গহ্বর! হায় ভগবান! এ নরকের অভিশাপ! এগুলোর জন্য আপনাকে শুধু বয়সের থেকে বেশি বয়স্ক দেখাবে তাই নয়, এগুলো আপনার ত্বকের বর্ণের উজ্জলতার ১২টা বাজিয়ে দেবে। তার উপর এই ক্ষতগুলিতে যদি অন্য ময়লা জমে (যার জন্য এগুলিকে আরও বড় বলে মনে হয়) তবে অবস্থা আরো সঙ্গীন হয়ে দেখা দেয় কালো ও সাদা দাগ এবং ব্রণ। ক্ষতগুলি বড় হয়ে ওঠে নিম্নলিখিত কয়েকটি কারণে যেমন দীর্ঘক্ষণ রৌদ্রে থাকা, বয়োঃবৃদ্ধি, বংশগতি এবং ত্বকের খুব বেশী মাত্রায় তৈল নিঃসরণ। তাই এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কীভাবে এই সমস্ত ত্বক গহ্বরের উৎপাত কমান যাবে এবং এইগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখা যাবে যাতে এই সমস্যাকে জয় করা যায়। 

১। এগুলোকে স্ক্রাব করে তুলে দিন!

যখন ত্বক গহ্বরে তেল ও ময়লা জমা হয়, তখন তাদের দেখতে বেশ বড় লাগে। তাহলে ত্বকের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য অন্ততঃ সপ্তাহে দুদিন (আপনার ত্বকের সংবেদনশীলতা বিচার করে) পুরনো ত্বক মোচনের মাধ্যমে পরিষ্কার করুন। যদিও এর জন্য আপনাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে না বা টাকা ব্যয় করে খুব দামী কোন ত্বক মোচন ব্রাশ কিনতে হবে না, আপনি বাড়িতেই একটা উপযোগী ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। আপনার লাগবে শুধুমাত্র চিনি (কাঁচা বা সাধারন) এবং কয়েক ফোঁটা অ্যালমন্ড তেল। এই মিশ্রণ আক্রান্ত ত্বকে লাগান এবং চক্রাকারে লেপন করুন যতক্ষণ না ময়লা পরিষ্কার হচ্ছে। ঠান্ডা জল দিয়ে ওই ব্রাশটিকে পরিস্কার করুন এবং শুকনো অবস্থায় ত্বকে ঘষতে থাকুন। এরপর একটি বরফের কিউব নিন এবং আপনার মুখমন্ডলের চারিদিকে ঘষে লাগান। এর ফলে আপনার ত্বক পরিষ্কার হবে এবং ত্বক গহ্বরগুলি ছোট হয়ে যাবে।

২। মাটির মুখোশ বা মূলতানি মাটি

মাটির মুখোশ বা মূলতানি মাটি উভয়ই ত্বকের অতিরিক্ত তেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য খুব উপযোগী, যা মুখে ত্বক গহ্বর সৃষ্টি হওয়া থেকে আমাদেরকে বাঁচাবে। এই মিশ্রণের সঙ্গে গোলাপ জল বা পাতিলেবু ব্যবহার করতে পারলে তা আপনার মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে। এই প্রলেপ ব্যবহার করার সবথেক বড় সুবিধা এই যে এর ফলে আপনি দেখতে পাবেন আপনার ত্বককে আরো উজ্জল এবং পরিষ্কার দেখাচ্ছে।

৩। দই

দই-এর ত্বক সটান করার বৈশিষ্ঠ্য আছে। এইজন্য ত্বকের ক্ষত চিহ্ন নির্মূল করার জন্য দই-এর প্রলেপ খুব ভালো। আপনার মুখে দই-এর প্রলেপ সাধারণভাবেই লাগান, ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন ও ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। পরে বরফের কিউব ব্যবহার করুন, ঠান্ডা জল বা বরফ কিউব ত্বক গহ্বরগুলিকে মেলে ধরে এবং এইজন্য একযোগে এই দুইরকম জিনিস ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

৪। মুক্তি পেতে বেকিং সোডা!

বেকিং সোডা একটি রান্নার উপকরণ যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পরিচিত, দাঁত সাদা করতে, মুখের কালো দাগ হটাতে এবং অবশ্যই রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। দুই টেবিল চামচ খাবার সোডার সঙ্গে অল্প পরিমানে ঈষদুষ্ণ জল মেশান। আঙুলে করে এই মিশ্রণ নিয়ে চক্রাকারে আপনার ত্বকে লাগান। প্রায় এক মিনিট ধরে এই প্রক্রিয়া বজায় রাখুন এবং পরে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা শুধু স্ক্রাব হিসাবে ভালো নয়, এটি আপনার ত্বকের পি.এইচ. মান পুনঃস্থাপন করে। এছাড়াও বেকিং সোডার ফোলা কমানোর ক্ষমতা এবং ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধক ক্ষমতা আছে যা আপনাকে ব্রণ মুক্তিতে সহায়তা করে।

৫। লেবুজাতীয় ফলের প্রলেপ

এই প্রলেপ বানাতে হলে আপনার লাগবে ৩ টেবিল চামচ টমেটোর রস ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস; এদেরকে ভাল করে মেশান। এই মিশ্রণকে আপনার মুখে লাগান। এই লেবু জাতীয় ফল আপনার ত্বকের দহন ঘটাবে। সুতরাং আপনার ত্বক যদি খুব সংবেদনশীল হয় সবচেয়ে ভাল হবে এই প্রলেপ ব্যবহার না করা, পরিবর্তে অন্য কোন প্রলেপ ব্যবহার করুন। অন্যান্যদের ক্ষেত্রে একটু চিরচিরে ভাব স্বাভাবিক। এই প্রলেপটি ৫ থেকে ১০ মিনিট রাখুন এবং ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টমেটো এবং লেবুতে তৈলাক্তভাব দূরীকরণের ক্ষমতা আছে, যা বাড়তি তেলকে শুষে নেয় এবং ত্বক গহ্বরগুলিকে মুক্ত করে ত্বককে সটান করে।

৬। ডিমের সাদা

ডিমের সাদা অংশ দিয়ে প্রসাধনী প্রলেপ বানাতে গেলে আপনার দুটো ডিম এবং টিস্যূ পেপার লাগবে, ডিমগুলো ভাঙ্গুন এবং ডিমের সাদা অংশ বার করে নিন, এই প্রলেপের জন্য আমাদের ডিমের সুধু সাদা অংশই লাগবে। এই সাদা অংশটিকে নাড়াতে থাকুন যতক্ষণ না ফেনার মত হয়ে যাচ্ছে। এবার এইটি আপনার মুখে লাগান। এরপর মুখ বরাবর টিস্যূ পেপার দিয়ে এটিকে ঢেকে দিন। টিস্যূ পেপার যেন প্রলেপের সঙ্গে লেগে থাকে। এরপর ওই টিস্যূ পেপারের উপর আর এক পরত ডিমের সাদা লাগান এবং সবার উপরে আবার টিস্যূ পেপার লাগান। এবার প্রলেপটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং তারপর প্রলেপটি উঠিয়ে দিন। এই প্রলেপ আপনার মুখের ত্বকে আটকে থাকা কালো দাগ এবং সাদা দাগ সহ অন্য ময়লাগুলো টেনে বের করে আনবে এবং ত্বকগহ্বরগুলি ছোট হয়ে যাবে।

৭। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার বহু রকম রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই উপকরনটি ত্বকের বড় গহ্বর নিরাময়ে খুব কার্য্যকরী এবং এটি ব্যবহার করাও অত্যন্ত সহজ। সামান্য একটু তুলো অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে ভিজিয়ে নিন এবং খুব ধীরে ধীরে আপনার ত্বকের নির্দিষ্ট অংশের উপর লাগিয়ে দিন। ওই তুলো দিয়ে ত্বকের ওই অংশ পরিষ্কার করে নিন এবং পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। বেশী উপকার পেতে চাইলে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আপনার ত্বক পরিচর্যার রুটিনে এই কাজটি যুক্ত করুন। সবচেয়ে ভাল ফল পেতে হলে প্রতি রাতেই এই পরিচর্যা বজায় রাখুন। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার-এর তেল শুষে নেওয়ার গুন আছে যা ত্বকের সটানভাব আনতে সাহায্য করে। এর ফোলাভাব কমানোর গুন ত্বকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাকে কমায় এবং ত্বকের পি.এইচ. মান পুনঃসংস্থাপনে সাহায্য করে।

উপরের পরিচর্যা পদ্ধতিগুলির অতিরিক্ত হিসাবে, আপনি যখনই বাড়ির বাইরে বেরোবেন, আপনার মুখের উপর জমা ধুলোকণা সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলার জন্য আপনার সঙ্গে টিস্যূ পেপার বা ভেজা রুমাল রাখবেন যাতে এই ময়লা ত্বকের উপরের গহ্বরগুলোকে আটকে না দেয়। বাইরে বেরোবার আগে আপনি এমন সানস্ক্রীণ ব্যবহার করা নিশ্চিত করুন যা ত্বক গহ্বরের মুখকে বদ্ধ করে না। হাল্কা ও জলীয় দ্রবণে নির্মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যা আপনার ত্বক গহ্বরের মুখ আটকায় না এবং সেটি সানস্ক্রীণ লাগানোর আগে ব্যবহার করুন।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon