Link copied!
Sign in / Sign up
4
Shares

গর্ভধারণের তৃতীয় ত্রৈমাসিক সময়ে কি করবেন কি করবেন না


অভিনন্দন, আপনি সফল হয়েছেন। প্রথম দুটি ত্রৈমাসিক আপনি ভালোভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এখন আমরা তৃতীয় ত্রৈমাসিক ভালভাবে কাটানোর জন্য কিছু পরামর্শ দেব। এই ত্রৈমাসিকের সময়কালে আপনার মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা এমনকি কিছু উদ্বেগও কাজ করবে এবং আপনাকে শান্তি এবং আরামে রাখা আমাদের দায়িত্ব।

আপনার আগত অপেক্ষার দিনে আপনাকে সতেজ রাখার জন্য এই ত্রৈমাসিকে আপনি কি করবেন বা কি করবেন না সের বিষয়ে আমরা নীচে দেওয়া একটা সারণি প্রস্তুত করেছি।

কি করবেন

১। শিশু কবে জন্মাতে পারে সেই বিষয়ে একটা দিন ঠিক করুন

শিশুর জন্মানোর ক্ষেত্রে বেশীরভাগ সময়েই পরিকল্পনা অনুসারে সবকিছু ঘটে না। তবুও আওনার সুবিধিজনক দিন স্থির করে নেওয়া অপেক্ষাকৃত ভাল। নিজেকে প্রস্তুত রাখার জন্য এর সম্বন্ধে আরো বেশী করে জেনে নিন। এই সময়ে ঠিক করে নিন বাচ্চা জন্মানোর সময়ে প্রসূতি ঘরে আপনার সঙ্গে কে থাকবেন এবং অতিরিক্ত ব্যাথা সহ্য করার এবং নিয়ন্ত্রন করার পদ্ধতি অভ্যাস করে রাখুন, যাতে আপনার শিশু জন্মানোর প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব উদ্বেগমুক্ত রাখা যায়।


২। শিশুর যত্ন এবং পরিচর্চা সম্পর্কে আরো বেশী করে পড়াশুনা করে জেনে নিন।

সঙ্গে বাচ্চা নিয়ে আপনি বেশী কিছু শিখতে পারবেন না। এটাই সেই সময় যখন আপনি শিশুর পরিচর্চা বিষয়ে জেনে নিয়ে নিজেকে তৈরী রাখতে পারবেন। আপানার জীবনসঙ্গীকেও এই কাজে যুক্ত করুন কেনেনা তাকেও শিশুকে প্রতিপালনের জন্য তাকেও আপনার মত প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে। যদিও আপনার মা বাবা বা অন্য কোন বয়স্ক লোক আপনাকে উপদেশ দেওয়ার জন্য অনেক বেশী অভিজ্ঞ কিন্তু আপনি সবসময় তাদের উপরে নির্ভর করে থাকতে পারেন না।

৩। শিশুকে স্তন্যপান করানোর জন্য তৈরী থাকুন

বাচ্চাকে স্তন্যপান করানোর পদ্ধতি সম্বন্ধে যতটা সম্ভব পড়ুন এবং জেনে নিন। অন্যদের সঙ্গে কথা বলুন এবং এই বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা জেনে নিন। এটা সত্যি যে একটি হাতে কলমে করা কাজ সম্বন্ধে পড়ে খুব বেশি জানা যায় না, কিন্তু জেনেশুনে প্রস্তুত থাকা সবসময়ই ভাল।


৪। আপনার গৃহকে শিশুর আগমনের জন্য প্রস্তুত করে রাখুন

যদি আপনি আপনার গৃহকে শিশুর জীবন যাপনের নিরপদ্ভাবে উপযুক্ত করে তুলতে চান তবে এটাই সঠিক সময়। যদি আপনার গৃহ প্রস্তুত করে রাখা না থাকে তবে এখনই শুরু করুন। শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি কিনে সংগ্রহ করে রাখুন, সারবিকভাবে ঘরবাড়ি পরিস্কার করুন যদি কিছু জায়গাতে রঙ করানোর থাকে বা গঠঙ্গত পরিবর্ধন বা পরিবর্তন করতে হয় তবে সেগুলো তাড়াতাড়ি সেরে ফেলুন।

৫। ধীরে সুস্থে চলাফেরা করুন

সকলে জানেন যে গর্ভকালীন অবস্থা আপনাকে আরও ক্লান্ত করে দেয়, বিশেষতঃ,তৃতীয় ত্রৈমাসিকের এই ক্লান্তি বিশেষভাবে ঘটে।এই ত্রৈমাসিক শেষে সন্তানের জন্মের আগে মায়ের প্রসব যন্ত্রণার মুখোমুখি হওয়ার জন্য এইসময়ে আপনি কিছু শক্তি সঞ্চয় করে রাখুন । এর সঙ্গে আপনি নিশ্চিত করুন যে হঠাৎ রক্ত সঞ্চালনের হার বৃদ্ধি পেতে পারে এমনভাবে হঠাৎ করে বসা থাকে উঠে দাঁড়াবেন না।

এবং কি করবেন না

১। আপনার ঘুম যেন কমে না যায়

আপনার যতটা বিশ্রাম প্রয়োজন সেটুকু বিশ্রাম নেওয়া জরুরী।কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিন্তা করতে গিয়ে আপনার ঘুম কমিয়ে দেবেন না। এর ফলে শুধুমাত্র আপনার অবস্থার অবনতিই হবে। আপনার জন্য প্রয়োজন মত.বিশ্রাম পাওয়া খুব জরুরি। ছোট ছোট বিষয়ে চিন্তা করে ঘুম নষ্ট করবেন না। এটা অবস্থাকে আরো খারাপ করে দেয়। সবকিছু ভুলে রাত্রে ভালো করে ঘুমোন। এই সময়, শরীরের শক্তি বাঁচানোই সবচেয়ে জরুরী।

২। মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণ করুন

যেমন আগে বললাম, গর্ভাবস্থা মান্সিক চাপের সৃষ্টি করে। তা বাচ্চার জন্যই হোক, বা অন্য কোন সামান্য কারণে, এটিকে আপনার জীবন প্রভাবিত করতে দেবেন না। তৃতীয় ত্রৈমাসিক কালের সময় মান্সিক চাপ বাচ্চার পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক হতে পারে। বলা হয় এই সময় বাচ্চারা আশেপাশের পরিবেশকে বুঝতে শেখে। যোগব্যায়াম করে বা বাগানে গাছের দেখাশোনা করে চাপ কমাতে চেষ্টা করুন। বড়দের জন্য রঙ করার বইও উত্তেজনা অনেক কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।মানসিক চাপকে আপনার বা আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে দেবেন নয়া।


৩। জন্মদানের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও চিন্তা করবেন না

অনেক হবু মায়েরা চিন্তা করেন জন্মদানের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে জাওওার বিষয়ে। কিন্তু এটা মনে রাখা জরুরী যে সবার গর্ভধারণের অনুভূতি এক রকম হয় না। আপনার ডাক্তারের দেওয়া জন্মের নির্দিষ্ট তারিক গড় সময়ের ওপর নির্ভর করে হিসেব করা। এই তারিখের একটু আগে বা পরে জন্ম হলে চিন্তার কিছু নেই।

৪। কুঁজো হয়ে বসবেন না

বসা সঠিক ভঙ্গি গর্ভকালীন অবস্থায়ে খুব জরুরী। ভঙ্গি খারাপ হলে তার থেকে পিঠে প্রচণ্ড ব্যাথা হতে পারে, বিশেষত তৃতীয় ত্রৈমাসিক কালে, যখন আপনার ওজন অনেক্তা বেড়েছে। গর্ভবতী হওয়ার অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে এটা আপনার জন্য আরেক কষ্ট হয়ে উঠবে।


৫। জন্ম দেওয়ার পরেই আপনার শরীরের গঠনের কথা ভাববেন না

প্রসবের পরেও আপনাকে দেখে গর্ভবতী মনে হওয়া সম্ভব। এর কারণ হল এই যে গর্ভকালীন সময় আপনার পেটের পেশীIগুলো অনেকটা টান হয়ে যায়, যদিও তা ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সাহায্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন – এই নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon