Link copied!
Sign in / Sign up
4
Shares

থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং উপশম


থ্যালাসেমিয়া প্রধানত একটি রক্তের রোগ। এই রোগটি জিনগত কারণে এবং বংশ পরম্পরায় পরবর্তী প্রজন্মে চলতে থাকতে পারে। এই রোগের কারণে রক্তে কিছু সংখ্যক খারাপ হিমোগ্লোবিন তৈরী হয়। যার কারণে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায় এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি বছর ৭ হাজারেরও বেশি শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই থ্যালসেমিয়া রোগ বোঝা যায়। থ্যালাসেমিয়ার কারণে শরীরে লোহিতকণিকার পরিমান কম থাকলে এবং এর আকার ছোট হলে এনেমিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

থ্যালাসেমিয়ার দুই ধরণের:

১। বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর: সাধারণত থ্যালাসেমিয়া বলতে থ্যালাসেমিয়া মেজরকেই বোঝায়। এক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনের জিনের সমস্যা থাকে এবং তার ফলে বংশ পরম্পরায় সন্তানের মাঝে তা প্রকাশ পায়।

২। বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর: বাবা অথবা মা যেকোন একজনের দেহে ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকে। এরা মূলত রোগী নয় বরং রোগের বহনকারী হিসেবে জানা যায়। কোন ধরণের উপসর্গ ছাড়াই এরা সাধারণ জীবন অতিবাহিত করতে পারে। তবে মাঝে মধ্যে এদের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে কোন ধরণের চিকিৎসা ছাড়াই সাধরণত স্বাভাবিকভাবেই তা ঠিক হয়ে যায়।

থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ:

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত জন্মের প্রথম মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে। এরপর ধীরে ধীরে তার শরীরে রক্তস্বল্পতা তৈরী হয় যা পরবর্তীতে বিশাল আকার ধারণ করে। শিশুর ১বছর বয়স হওয়ার আগেই তার মধ্যে থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে:

১। শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

২। অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া।

৩। স্বাভাবিক কাজ-কর্মে অনীহা প্রকাশ।

৪। খেলা-ধূলার প্রতি আগ্রহ না থাকা।

৫। একা একা ঝিম মেরে বসে থাকা।

৬। খাবারে অরুচি এবং অনীহা তৈরী হওয়া।

৭। শিশু অপুষ্টিতে ভুগতে থাকে।

৮। চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া।

৯। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া।

১০। পেট ফুলে যাওয়া।

১১। পেটে চাকা অনুভূত হওয়া।

১২। কখনো কখনো পেটে ব্যথা হতে পারে।

১৩। ঘন ঘন অসুখ-বিসুখ হওয়া।

১৪। শরীরের তুলনায় মাথা বড় হওয়া।

১৫। সমবয়সী অন্য বাচ্চাদের তুলনায় শারীরিক বৃদ্ধি কম হওয়া।

থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা:

১। রক্ত দেওয়া: থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রধান চিকিৎসা প্রধানত শরীরে রক্ত দেওয়া। আক্রান্ত শিশুকে ১ থেকে ২ মাস পরপর রক্ত দিতে হয়। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুকে লোহিত রক্ত কণিকা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুর দেহে আয়রনের আধিক্য কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ দেয়া হয়।

২। স্থায়ী চিকিৎসা: থ্যালাসেমিয়া রোগের আধুনিক ও স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে

ক। বোন মেরো ট্রান্সপ্লান্টেশন

খ। জিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে কি করণীয়:

১। সচেতনতা বৃদ্ধি:

থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাত্র বা পাত্রী থ্যালাসেমিয়া জিন বহন করছে কিনা তা বিয়ের আগে পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া দরকার।

২। বিয়ের পূর্বে থ্যালাসেমিয়া জিন বহনকারী কিনা তা পরীক্ষা করা:

থ্যালাসেমিয়া জিনগত রোগ। তাই মনে রাখতে হবে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে থ্যালসেমিয়া জিন বহনকারী হলে তাদের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা ২৫%। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যেকোন একজন থ্যালাসেমিয়া জিন বহনকারী হলে স্বাভাবিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% এবং থ্যালাসেমিয়া জিন বহনকারী শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%।

জেনে রাখুন রক্ত দান থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রধান চিকিৎসা। কিন্তু অনেক সময়ই রক্ত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই কারণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরী। স্বাভাবিক ও সুস্থ মানুষদের ৩ থেকে ৪ মাস পরপর রক্ত দানে উৎসাহিত করার দ্বারা থ্যালাসেমিয়া রোগ জনিত শিশুদের অকাল মৃত্যু থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon