Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

সৎ মাতা-পিতা : নতুন সম্পর্ক স্থাপনের আগে যে বিষয় গুলি আপনার জেনে রাখা উচিৎ


একজন সৎ পিতা বা মাতাকে অনেক রকম অভিজ্ঞতারই সম্মুখীন হতে হয় । এবং যদি আপনার কোন সন্তান না থাকে, তবে আপনি সেই ছোট্ট মানুষটির সাথে জীবনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং তাদের চরিত্র গঠনেও আপনি সাহায্য করতে পারেন । এবং আপনার যদি কোন সন্তান থেকে থাকে, তবে তাদের সাথে সেই ছোট্ট মানুষটির সম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করতে পারেন, এতে তাদের মধ্যে সম্পর্কের বাধন আরও মজবুত হবে, এবং তারা একাকিত্ব বোধ করবে না ।

কিন্তু, এই সৎ-পিতা বা সৎ-মাতা শব্দ দুটিই অত্যন্ত কলঙ্কযুক্ত, কারন এই শব্দগুলি ভাবলেই সাধারণত প্রথমেই আমাদের দজ্জাল প্রকৃতির সৎ পিতা মাতার কথাই মাথায় আসে, কারন মিডিয়াতে সাধারণত তাদেরকে এইভাবেই বর্ণনা করা হয় । কিন্তু, খুশির খবর হল যে এমন অনেক উপায় আছে যেগুলো অবলম্বন করে আপনি তাদের সাথে নিজের সম্পর্কের বন্ধন আরও মজবুত করতে পারবেন, এমনই কিছু উপায়ের কথা আলোচনা করা হল –

নিজের ভূমিকা স্থাপন করুন

আপনার পার্টনারের সন্তানের জীবনে আপনার ভুমিকা ঠিক কি হবে, সেটা আপনার পার্টনারের সাথে আলোচনা করে ঠিক করুন । তবে, এই ব্যাপারটি অনেকাংশে শিশুটির উপরেও নির্ভর করে, এবং বড় হয়ে ওঠার জন্য ও চরিত্র গঠনের জন্য আপনাদের দুজনকেই তার প্রয়োজন হবে । আপনার ভুমিকা টি সঠিক ভাবে বুঝে নিতে পারলেই, পরিবারে একে অপরের সাথে ভালোভাবে মিশে যেতে পারবেন ।

প্রথম পরিচয়

প্রথম আলাপের দায়িত্ব টি নিজের হাতেই তুলে নিন, পরিচয় পর্বটি যথাসম্ভব ছোট হলেই ভালো হয়, এবং দীর্ঘসময় ধরে ডিনার বা দামী উপহার দেওয়ার প্ল্যান এড়িয়ে চলুন । “ নিজের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রনে রাখুন । আপনি নিশ্চয়ই সেখানে সারাদিন ধরে সময় ব্যয় করতে চাইবেন না, তাই একটি ছোট পরিচয় পর্বই যথেষ্ট “ । মাথায় রাখবেন, যে কোন ব্যাপার যা শিশুটির উপর অত্যাধিক চাপ সৃষ্টি করে তা আপনার বিপক্ষে যেতে পারে, এবং তাতে কেউই উপকৃত হবেন না । সম্পর্কের গতি প্রকৃতি শিশুটিকেই ঠিক করতে দিন । যখন শিশুটি সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ানোর জন্য তৈরি হয়ে যাবে, তখন সে নিজেই জানাবে । এটা সম্ভবত প্রত্যাখ্যানের তুলনায় অনেক ভালো উপায় ।

বিচ্ছেদের গভীর প্রভাবটি কে বোঝার চেষ্টা করুন

বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স সন্তান এবং বাবা-মায়েদের অত্যন্ত গভীর ভাবে প্রভাবিত করে, কখনও কখনও এর প্রভাবে ঝামেলারও সৃষ্টি হয় । এক্ষেত্রে মুলত বাবা মায়েরাই বেশি দায়ী, কারন তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক সহজ করে নিতে ব্যর্থ হন । এই সমস্ত ব্যাপার শিশুটিকে ভালো করে বুঝিয়ে তার মনের সমস্ত বাধা দূর করা উচিৎ ।

বিশ্বাস এবং ন্যায়পরায়ণতা গড়ে তুলুন

বিশ্বাসই হল একটি সম্পর্কের চাবিকাঠি, আপনার প্রতি বিশ্বাস গড়ে উঠতে শিশুটির একটু সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষত তা নির্ভর করে কিভাবে আপনি বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন তার উপর । আপনি কি তার কথা গুরুত্ব সহকারে শোনেন ? আপনি কি ব্যক্তিগত গোপনীয় কথা গোপন রাখেন ? শিশুটির জন্য কি কি প্রয়োজন তার খেয়াল কি রাখেন ? শিশুরা প্রতারনা এবং নিষ্ঠাহীনতা বা ভন্ডামি সহজেই বুঝতে পারে । ওয়েঙ্ক এবং হ্যানসেন বলেছেন, “ শিশুদের সর্বদা বিশ্বাস, ভরসা, সঠিক নির্বাচন, এবং নিজের আসল রুপ টিই প্রদর্শন করান, শিশুদের যা জানার, তা তারা ঠিক জানবেই “ । যদি আপনি তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেন, তবেই তাদের কাছে একজন প্রয়োজনীয় ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারবেন ।

পরিবারে নতুন প্রথা চালু করুন

ছোট্ট সদস্যটির সাথে আলোচনা করে, দুজনে মিলে কোন বিশেষ কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন । কিছু বিশেষ প্রথা যেমন রাতে বোর্ড গেমস খেলা, একসাথে সাইকেল চড়া, রান্না কিংবা ওয়ার্ড গেমস খেলা আপনাদের সম্পর্কের বাধন আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে । তাদের ভালোবাসা অর্জন নয়, একসাথে মজা করাই হল মুল চাবিকাঠি । বাচ্ছারা সাধারণত খুব চালাক চতুর হয়, আপনি বলপূর্বক কোন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে বাচ্চারা তা সহজেই বুঝে যাবে ।

নিজেকে প্রতিপক্ষ ভাবার কোন প্রয়োজন নেই

আরেকটি সমস্যার সৃষ্টি হয় যখন প্রায়শই একজন সৎ বাবা বা মা হিসেবে আপনাকে আপনার পার্টনারের প্রাক্তনের সাথে ইন্টারেক্ট করতে হয় । যদি এই ব্যাপারে শিশুটি কোন ভাবেই জড়িত না থাকে, তাহলে নিশ্ছই আপনি আপনার পার্টনারের প্রাক্তনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইবেন না, নাহলে তা থেকে বিশৃঙ্খলা এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে । সেই ব্যক্তি টিকে শুধুমাত্র আপনার পার্টনারের সন্তানের পিতা বা মাতা ভাবাই শ্রেয় । এর ফলে, কোন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে না । তাদের সম্পর্ককে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন এবং মন থেকে হিংসা ও নিজেকে প্রতিপক্ষ ভাবার ধারনা গুলি মুছে ফেলুন ।

মনে রাখবেন, শিশুটি আপনাকে নির্বাচন করেনি

এটা হজম করা সত্যিই কঠিন, কিন্তু এটাই চরম সত্য । আপনার পার্টনার আপনাকে ভালবাসে এবং আপনার সাথে সম্পর্ক গড়তে চায় তার মানে এই নয় যে তার সন্তান ও তাই চায় । আপনি বলপূর্বক তাদের ভালোবাসা আদায় করতে পারবেন না । এই ধারনা টিকে যত তাড়াতাড়ি বিদায় করবেন, ততই আপনার মঙ্গল হবে । তাদেরকে স্নেহের চোখে দেখুন, যা একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে ।

সৎ পিতা মাতা হওয়া ব্যাপারটি প্রথম প্রথম একটু অস্বাভাবিক লাগতে পারে, এবং কোনটা ঠিক কোনটা ভুল জানা টাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে । নিজের প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রনে রেখে এবং শিশুটিকেই নতুন সম্পর্কের গতি প্রকৃতি ঠিক করতে দিলে তা আপনার, আপনার পার্টনার এবং তার সন্তানের পক্ষে ভালো হবে ।

“সৎ পিতা মাতা হওয়া একটি কঠিন কাজ । কিন্তু, এমন একটি শিশু আপনাকে ভালবাসে যার আপনি বায়োলজিক্যাল পিতা বা মাতা কোনটাই নন, এটি একটি দুর্দান্ত অনুভুতি ।“

সৎ পিতা বা মাতা হিসেবে আপনার মাথায় রাখা দরকার একটি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের কারনে সবচেয়ে বেশি বাচ্চাদেরই ক্ষতি হয় । ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুদেরকে এমন অবস্থা সহ্য করতে হয় যেগুলির জন্য তারা দায়ী নয়, এবং সেগুলির কারনও তাদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা । এটা শুধুমাত্র সৎ মাতা বা পিতার নয়, তার বায়োলজিক্যাল মাতা-পিতা এবং পুরো পরিবারেরই দায়িত্ব যে পরিবারে যা ঘটছে তার প্রভাব যেন বাচ্ছাটির উপর না পড়ে । এতে সৎ পিতা মাতার সাথে তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়বে এবং তাদের কাছে নতুন সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে ।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon