Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

সন্তানকে করে তুলুন আত্মবিশ্বাসী


আত্মবিশ্বাস একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আত্মবিশ্বাস মানুষকে তার ইতিবাচক গুণ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। নিজের ক্ষমতা বিচার ও নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সাহায্য করে। একজন মানুষকে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে। সেটা শৈশব থেকেই শুরু হয়। মা-বাবাই এ বিষয়ে শিশুদের সাহায্য করতে পারেন। আবার বিষয়টা এমন যে মা-বাবার ব্যক্তিত্বও শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই শিশুকে শিক্ষাদানের পাশাপাশি মা-বাবার নিজেদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।

শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে ছোট ছোট কিছু ভাল অভ্যাসের প্রতি নজর দেওয়া দরকার। যেমন :
১. নিজে নিজে বাথরুম ব্যবহার

বিষয়টা অনেক ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু শরীরের প্রাথমিক যত্ম ও আত্মসচেতনতার জন্য এটি খুবই দরকারি। বয়স একটু বাড়ার সঙ্গে তাকে জানিয়ে দিন এই বিষয়ে অন্যের সাহায্য নেওয়া ততটা রুচিকর নয়। এর মাধ্যমে তার আচরণে কিছুটা পরিবর্তন ঘটবে।

২. জুতার ফিতা বাঁধা ও স্কুল ব্যাগ গোছানো

বিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিবার থেকে আরও বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে শিশুর অভিষেক হয়। তাই বিদ্যালয়ের প্রথম বছরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে আপনার শিশুকে জু্তার ফিতে বাঁধা, সুন্দর করে ব্যাগ গোছানো ও পড়ার টেবিল গোছানোর শিক্ষা দিতে পারেন। তিনটি কাজই তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। সৌন্দর্য সচেতনতা ও রুচিবোধ তৈরি করবে।

৩. স্কুলে মানিয়ে নেওয়া

অভিভাবকরা স্কুলের ফলাফলের ওপর বেশি জোর দেন। কিন্তু জানতে চান না শিশুটি স্কুলে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে কিনা। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গ উপভোগ করছে কিনা। যদি না করে, তবে একটা নতুন পরিবেশ তার জন্য অস্বস্তিকর। যা সমাজের অন্যান্য মাধ্যমেও একই ধরনের ফল হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই তাকে স্কুলে মানিয়ে নিতে সাহায্য করুন।

৪. মা-বাবার কাজে সাহায্য

বাচ্চারা অনেক ছোটখাট কাজ করে দারুণ আনন্দ পায়। সে আপনাকে এক গ্লাস জল এগিয়ে দিয়ে অথবা বাসন রান্নাঘরে নিতে বেশ আগ্রহী। অথবা আপনি যখন ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখেন, সে সাহায্য করতে চায়। এ সব ক্ষেত্রে উৎসাহ দিন এবং তার সঙ্গ উপভোগ করুন।

৫. পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্ব

পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ শিশুর ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে। তাই মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকা উচিত। নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ হলে শিশু পরিবারের মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। পারিবারিক সম্পর্ক মধুর হলে শিশু সম্পর্কের মূল্য ও অপরকে সহজে মূল্যায়ন করতে পারে। যার সবটাই ইতিবাচক।

৬. সামাজিক সম্পর্কে উৎসাহ দিন

শিশুকে নিয়ে বিকেলে মাঠে বেড়াতে যান। নিয়মিত সম্ভব না হলে ছুটির দিনে বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। এমনকি বাজার ও টুকিটাকি কেনাকাটায় তাকে সঙ্গে নিতে পারেন। তাহলে তার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হবে। সে নিজেকে ও সমাজের অন্যান্য মানুষকে চিনতে শিখবে।

৭. পৃথিবীকে চিনতে হবে

এটা হতে পারে প্রতিবেশী দিয়ে। তারপর ভিক্ষুক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিন। এতে তার মন উদার হবে। তাকে নিয়মিত প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যান ও বই পড়তে উৎসাহ দিন। পৃথিবীর বৈচিত্র্য সম্পর্কে যত বেশি সচেতন হবে, ততটা নিজের অবস্থান, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হবে। যা তার ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

৮. নিজেকে মূল্যায়ন

নিজেকে মূল্যায়ন আত্মবিশ্বাস তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সব কিছুতে আপনি নিজে মূল্যায়ন করবেন না। বরং ভাল-মন্দ যা হোক, সেটা তাকে নিজের বুদ্ধিতে বুঝতে দিন। দেখবেন এক সময় সে অনেক কিছু বুঝতে আপনার সাহায্য চাইছে। কিন্তু নিজের মতামতের ইতিবাচক কিছু দিকও জানাবে। নিজেকে মূল্যায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লেখালেখি ও আঁকাআঁকি। এর মাধ্যমে শিশু নিজের কল্পনা ও চিন্তাকে মূর্তরূপ দিতে চায়। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon