Link copied!
Sign in / Sign up
0
Shares

সুস্বাস্থের জন্যে স্নান করার সঠিক সময় কোনটি? দিন না রাত?


নিয়মিত জীবনের  গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক ক্রিয়াকলাপের মধ্যে পড়ে স্নান করা। স্নানের গুরুত্ত্ব নিয়ে নানা জায়গায় নানা কথা বলা হয়েছে। পুজো পার্বন থেকে শুরু করে বিয়ে, শুভ কাজ ইত্যাদি বিভিন্ন মঙ্গলময় অনুষ্ঠানে স্নানের গুরুত্ব যে কতটা তার উদাহরণ সমস্ত ধর্মীয় ও চিকিৎসা গ্রন্থে পাওয়া যায়। বর্তমানে সৌন্দর্য্যচর্চার অত্যাধুনিক পদ্ধতি ‘স্পা’ এই স্নান করারই একটি রূপ যা একই সঙ্গে শরীর ও মনকে তত্তাজা ও চনমনে করে তোলে।

জল বা জলীয় পদার্থ দিয়ে শরীরকে পরিষ্কার করাকেই বলে স্নান। সাধারণত দু ভাবে স্নান করা যেতে পারে। 

ধারা স্নান যা ঝরনা বা শাওয়ারের জল দিয়ে করে এবং অবগাহন স্নান যা বাথটাব বা নদী-পুকুর ইত্যাদিতে করে। এছাড়া রয়েছে সূর্যস্নান (সানবাথ) বা আতপ স্নান (ফোম বাথ)। প্রাচীন ভারতীয় শাত্রে দিনে ৩ বার স্নান করার কথা বলা হয়েছে। স্নানের সময় নানা আয়ুর্বেদিক পদার্থ, সাবান বা বডি সোপ দ্বারা দেহ পরিষ্কার করা একটি অপরিহার্য নিয়ম। 

পরিচ্ছন্নতা বোধ এবং সৌন্দর্য চর্চা এই দুটি শব্দই স্নানের সাথে জড়িত। বহু বছর ধরেই স্নানের নানা উপকরণ নিয়ে গবেষণা চলছে। নানা ধরনের তেল, বডিওয়াশ, হেয়ারওয়াশ, স্ক্রাব মানুষের চাহিদা অনুসারে এবং বিভিন্ন বয়সের উপযোগী করে তৈরি করা হয়ে আসছে। এর মধ্যে সর্ব শেষ যোগ করা হয় মেডিকেটেড সাবান ও শ্যাম্পু; যা পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে রোগ নিরাময় করতেও সাহায্য করে থাকে। 

তবে স্নান কখন করা উচিত; করলে তা ঠান্ডা জলে না গরম জলে করা উচিত এই নিয়ে নানা মতামত রয়েছে। তবে একটা বিষয়ে সবাই একমত যে নিজেকে রোগমুক্ত এবং তরতাজা রাখতে স্নান করা অপরিহার্য। আমাদের দেশে সাধারণত দিনে একবার করে স্নান করে থাকেন সকলে। 

আপনারা অনেকেই সকালে স্নান করার সময় পান না। দিনের শেষে অফিস থেকে বা স্কুল কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে ভাল করে সময় নিয়ে স্নান করতে পছন্দ করেন। আবার অনেকেই আছেন যারা সকালে স্নান না করে বাড়ি থেকে বেরনোর কথা ভাবতেই পারেন না। এরকমও অনেক মানুষ আছেন যারা হয়তো সকালে স্নান করেছেন কিন্তু রাতে বাড়ি ফিরে ভাল করে আরেকবার স্নান না করলে ঘুমই আসে না। অভ্যাস অনুযায়ী একেক জন দিনের একেক সময় বেছে নেন স্নানের জন্য। কিন্তু আপনারা জানেন কি সকালে বা রাতে যে কোনও সময়ই স্নান করার কিছু উপকারিতা রয়েছে। 

যদি আপনি খুব অগোছালো স্বভাবের হয়ে থাকেন, তা হলে অবশ্যই দিনে স্নান করবেন কারণ দিনে স্নান করলে তা ত্বকের ফোলা ভাব কমাতে ও পরিষ্কার দেখাতে সাহায্য করবে। এবার যদি আপনি কোনও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তা হলেও সকালে স্নান করার অভ্যেস করুন। সকালের স্নান আপনাকে সারা দিনের কাজের জন্য সক্রিয় ও সতেজ রাখবে। যদি সকালে ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট করার অভ্যাস থাকে তাহলে অবশ্যই সব ক্রিয়াকলাপের পর স্নান করুন। শরীর থেকে যে ঘাম বের হয়, তা পরিষ্কার করে ত্বক ভাল রাখতে সাহায্য করে স্নান।

গরম জল দিয়ে স্নান করলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং তার ফলে ক্লান্তি দূর হয় ও ঘুম আসে। যাদের ঘুম না আসার বা অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য রাতে স্নান করা খুবই উপকারী। রাতে যাদের স্নান করার অভ্যেস রয়েছে তাদের ত্বক পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে। সারা দিন শরীর থেকে যে অতিরিক্ত তেল ও ধুলো বের হয় বা ময়লা জমে তা রাতে স্নান করলে পরিষ্কার হয়ে যায়।

আবার স্নান করার সময় জলের তাপমাত্রা বজায় রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাংস পেশীর শিথিলতার বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে কার্যকর হল অল্প উষ্ণ গরম জল যা ঘুম আনতে সাহায্য করে। ঘুম যত ভাল ভাবে হবে শরীর তত সুস্থ থাকবে এবং ত্বক ও চুলও হবে উজ্জ্বল। আবার খুস্কি দূর করতেও উপকারী অল্প উষ্ণ সরম জল।

যদি সকালে কাজে বেরনোর সময় আপনার স্নান করার সময় না হয় বা স্নান না করলে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই সকালে স্নান করার অভ্যেস করুন। কিন্তু যদি অনিদ্রার সমস্যা থাকে বা ভাল ত্বক পেতে চান তা হলে অবশ্যই রাতে স্নান করুন। যদি রাতে স্নান নাও করেন, ঘুমনোর সময় অবশ্যই খুব ভাল করে মুখ হাত পা ধুয়ে, পরিষ্কার হয়ে তবেই শুতে যাবেন।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon