Link copied!
Sign in / Sign up
7
Shares

শিশুর নাভিতে প্রতিদিন তেল দেন তো?


প্রাকৃতিক তেল আয়ুর্বেদ এর একটি বিশাল অংশ। নিত্যদিনে ব্যবহার্য তেল থেকে শুরু করে এসেনশিয়াল অয়েল সবই এর অন্তর্ভুক্ত। সামান্য এই তেল ব্যবহার আপনার শিশুর স্বাস্থ্য, আবেগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও অনেকখানি প্রভাব ফেলে?

আপনার শিশুর শরীরের যেকোন স্থানে আপনি তেল ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি আপনার নাভীতে তেল ব্যবহার করার মধ্যেও রয়েছে অনেক ভালো দিক! শিশুর শরীরের সাথে সাথে তার নাভিরও যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। শরীরের খুবই ছোট এই অংশটিকে আপনি যতোটা ছোট মনে করছেন আসলে সেটা সুস্থতার জন্যেও অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করে। তাই জেনে নিন নাভীতে তেল ব্যবহারের কিছু চমৎকার উপকারিতা।

১. ত্বককে নমনীয় করে

ত্বককে নমনীয় করতে তেল খুবই উপকারী একটি উপাদান। বিশেষ করে, শরীরের যে অংশগুলোর যত্ন নেওয়ার কথা আপনি একেবারেই ভুলে যান, সেসব অংশগুলোর জন্যে তেল খুবই উপকারী, যেমন- নাভী, এবং পেটের চারপাশ। বিশেষ করে শীতের সময়ে যখন আবহাওয়া খুব বেশী শুকনো থাকে তখন তেল খুব দারুণ কাজে দেয়।

শিশু ছাড়া বড়দের ব্যবহারের জন্য নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এদের মধ্যে রয়েছে ইমোলিয়েন্ট ইফেক্ট এবং ফ্যাটি এসিড এর উপাদান সমূহ। পেটের উপরে কয়েক ফোঁটা তেল দিয়ে নাভী চারপাশ এবং পুরো পেটে তেল ভালোভাবে মালিশ করে নিন। দেখবেন ত্বক একদম নমনীয় হয়ে গিয়েছে।

২. ময়লা পরিষ্কার করে

শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন মুখের ত্বক, হাত কিংবা পায়ের যত্ন আমরা নিয়ে থাকি। এর মাঝে আমাদের নাভী পরিষ্কার করার কথা আমরা কিন্তু একেবারেই ভুলে যাই। সেক্ষেত্রে নাভীতে প্রচুর ময়লা জমে খুবই বাজে অবস্থা হয়ে যায়। এই ময়লা পরিষ্কার করার জন্যে একটি কটনবাড তেলে ডুবিয়ে এরপর সেটার সাহায্যে নাভী পরিষ্কার করতে হবে। তেল মরা চামড়া এবং ময়লাকে সহজে উঠে আসতে সাহায্য করে। যেহেতু নাভী খুব একটা পরিষ্কার করা হয় না, নাভীর ময়লা খুব শক্ত হয়ে আটকে থাকে। সেক্ষেত্রে খুব বেশী জোরাজুরি করলে নাভীতে ব্যথা পাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই খুব সাবধানের সাথে এই কাজটি করতে হবে।

৩. ইনফেকশন ভালো করতে সাহায্য করে

যেহেতু নাভী খুব দ্রুত ময়লা হয়ে যায় এবং সচরাচর নাভী পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না, সেহেতু নাভীতে জমে থাকা ময়লা থেকে ইনকেশনের সৃষ্টি হয়। এছাড়া নাভী অনেক বেশী সময় ধরে আর্দ্র থাকলেও নাভীতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। অন্য যে কারণে নাভীতে ইনফেকশন বেশী হয়ে থাকে, নাভী পরিষ্কার করতে গিয়ে কোন খোঁচা লেগে কেটে গেলে সেখান থেকে ইনফেকশনের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে, সঠিক তেল ব্যবহার করলে নাভীর ইনফেকশন দ্রুত সেরে যায়।

৪. পেটে ব্যথা ভালো হতে সাহায্য করে

পেটে ব্যথার জন্যে নাভীতে তেল দেওয়া খুবই কার্যকরী একটি উপায়। বিশেষ করে হজমে সমস্যা, ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং এর মতো সমস্যাগুলোতে নাভীতে তেল দেওয়া খুব দারুণ কাজে দেয়। এছাড়া, এটাকে পেট ব্যথার প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবেও অভিহিত করা হয়। বড়দের জন্য পেটে ব্যথা কমানোর জন্যে আদা অথবা পুদিনা পাতার এসেনশিয়াল অয়েল ভালো কাজে দেয়। নিত্যদিনের ব্যবহার্য তেলে যেমন- নারিকেল তেল কিংবা অলিভ অয়েল এর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৫. মাসিকে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে

প্রতি মাসে মাসিকের সময়টাতে প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কারণে কমবেশি সকল নারীকেই ভুগতে হয়। তবে এই পেটে ব্যথা অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব নাভী এবং পেটে তেল ব্যবহার করার মাধ্যমে। সকল তেলের মাঝে পুদিনা পাতা অথবা আদার এসেনশিয়াল অয়েল সবচেয়ে বেশী ভালো কাজে দেবে। কয়েক ফোঁটা তেল নারিকেল কিংবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিয়ে পেটে খুব নমনীয়ভাবে ম্যাসাজ করলে কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে ব্যথা কমে গেছে অনেকখানি।

৬. গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উপকারী

এটা নিশ্চয় জানেন যে, গর্ভধারণ এর সাথে নাভীর একটি যোগসূত্র রয়েছে। আপনি যখন মায়ের পেটে ছিলেন তখন আপনার মায়ের নাভীর সাথেই সংযুক্ত ছিল আপনার নিজের নাভী! নাভীতে সরাসরি তেল দেওয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

বড়দের জন্য নিয়মিত কিছু এসেনশিয়াল অয়েল নাভীতে ব্যবহারের ফলে শরীর অনেক রিল্যাক্স থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে স্পার্ম ভালো থাকে, মেয়েদের মাসিকের সমস্যা কমিয়ে আনে এবং শরীরে হরমোনের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৭. ‘নাভাল চক্রর’ ভারসাম্য ঠিক রাখে

আয়ুর্বেদে, শক্রি এবং কল্পনার একটি বড় উৎস হলো এই নাভাল চক্র আপনার সকল স্বপ্ন, ইচ্ছা এবং লক্ষ্যের মূল স্থান। আপনি যদি আপনার ক্রিয়েটিভিটি ঠিক রাখতে চান তবে আপনাকে এই নাভাল চক্রটি ঠিক রাখতে হবে। কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল নারিকেল কিংবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নাভীতে দিতে হবে এবং পুরো পেটে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে হবে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon