Link copied!
Sign in / Sign up
7
Shares

শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জি বা হাঁপানি বেড়ে যায় কেন জানেন?

 

বড়দের চেয়ে শিশুদের অ্যালার্জিজনিত অসুখ-বিসুখ বেশি হয়ে থাকে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। অ্যালার্জিতে হাঁচি থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অ্যালার্জি সামান্য অসুবিধা করে আবার কারও জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঘর-বাড়ির ধুলো ময়লায় মাইট জীবাণু, ফুলের বা ঘাসের পরাগ রেণু, পাখির পালক, জীব-জন্তুর পশম, ছত্রাক, কিছু খাবার ও ওষুধ, নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জিজনিত রোগ হয়ে থাকে।

১৯৯৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জি সংক্রান্ত নানা সমস্যা বেড়ে গিয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সম্প্রতি এমনই এক তথ্য জানা গিয়েছে এক সমীক্ষা থেকে। সমীক্ষায় এও বলা হয়েছে যে, অ্যালার্জি-আক্রান্ত শিশুদের হার বেশি দেখা যাচ্ছে প্রগতিশীল দেশগুলিতে। বর্তমানে শিশুকে রোগমুক্ত রাখতে মা-বাবারা খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেন। যার ফলে, শিশুদের শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিক মতো কাজই করে না। ফলে, খুব সহজেই শিশুরা নানা ধরনের অ্যালার্জির শিকার হয়।

শরীরের এই অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বহিরাগত বস্তুকে অ্যালার্জি উৎপাদক বা অ্যালার্জেন বলা হয়। অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা অনবরত হাঁচি, নাক, চুলকানো, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারও কারও চোখ দিয়েও জল পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়।

অ্যাজমা বা হাঁপানি : কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে চাপ লাগা, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা লাগা। অনেক শিশুর রাতে নাক দিয়ে জল পড়ে বা কাশি হয়। এই লক্ষণগুলো অনেক মা নিউমোনিয়া বলে ধরে নেন। এটি শিশুদের অ্যাজমার প্রাথমিক লক্ষণ। পরবর্তী পর্যায়ে বড়দের মতো অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন-

-বুকের মধ্যে বাঁশির মতো শাঁই শাঁই আওয়াজ

-শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট

-দম খাটো অর্থাৎ ফুসফুস ভরে দম নিতে না পারা

-ঘন ঘন কাশি

-বুকে আটসাট বা দম বন্ধ ভাব

-রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকা

ত্বক লালচে ফোলা হয় এবং চুলকায়। হাত-পা ফুলে যেতে পারে। এটি কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যে কোনো বয়সে আর্টিকেরিয়া হতে পারে, শিশুদের স্বল্পমেয়াদে দেখা যায়। ত্বকের স্থানে স্থানে শুকনো, খসখসে, ছোট দানার মতো ওঠে। এটি ছোটদের বেশি হয়। একজিমা বংশগত চর্মরোগ। এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়, চুলকায়, আঁশটে ও লালচে হয়। চুলকানোর জন্য ত্বক পুরু হয় ও উঠে যায়। ফলে ত্বক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে জল পড়ে এবং দেখতে ব্রণের মত হয়। বচ্চাদের মুখে ও ঘাড়ে এবং হাত-পায়ে বেশি দেখা যায়।

অ্যালার্জিক কনজাংকটাইভাইটিস উপসর্গ হচ্ছে

-দুই চোখই লাল হবে।

-দুই চোখে চুলকানি এবং জ্বলুনি ভাব।

-চোখের পাতা ফুলে যেতে পারে।

খাবার থেকে অ্যালার্জি : গরুর দুধ, গরুর গোশত, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেট ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধ খাদ্য অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন।

 

আপনার শিশুকে অ্যালার্জি থেকে বাঁচানোর কয়েকটি পদ্ধতি

১। বাড়িতে কোনও পোষ্য থাকলে, অবশ্যই তার সঙ্গে খেলতে দিন শিশুদের। কারণ পোষ্যের গায়ের লোম, মুখের লালা, হাতে পায়ের ধুলো থেকে যে ধরনের অ্যালার্জি হতে পারে, তার অ্যন্টিবডি তৈরি হয় শিশুদের পাকস্থলীতে।

২। ছোট থেকেই সব ধরনের খাবার, ফল ও সবজি খাওয়ানো অভ্যাস করান শিশুকে। পারলে গরুর দুধও খাওয়ান একেবারে ছোট থেকে। এর ফলে, খাদ্যজাত অ্যালার্জির হাত থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকবে সে।

৩। শিশুদের মধ্যে হাঁপানি বর্তমানে খুবই দেখা যায়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভিটামিন D সেবন করলে, শিশুদের মধ্যে হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসজনিত রোগের হার অনেকটাই কম থাকে।

৪। শিশুদের জন্মের পরে, চার মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে শুধুমাত্র হাঁপানি নয়, অন্যান্য অনেক ধরনের অ্যালার্জির হারই কমে যায় শিশু দেহে।

৫। শিশুদের কাছাকাছি কোনওভাবেই ধুমপান করা উচিত নয়। এমনকী, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মা-কেও ধূমপান না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

৬। বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেলেও অ্যালার্জির সমস্যা হয়।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা

অ্যালার্জির মাত্রা বেশি আছে কি-না তা দেখা হয়। রোগীর ত্বকের ওপর বিভিন্ন অ্যালার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং কোনো জিনিসে অ্যালার্জি আছে তা ধরা পড়ে। পরীক্ষার জন্য রক্ত নিতে হয়। স্কিন প্রিক টেস্ট কোনো কারণে করা না গেলে এই পরীক্ষা করা হয়। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য। বুকের এক্স-রে করে দেখা দরকার অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা। রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ৫ বছরের বেশি বয়সের শিশুর জন্য প্রযোজ্য। অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে তা পরিহার করে চললে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধ প্রয়োগ

অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি ভ্যাকসিন অ্যালার্জি রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রায় ৮০ বছর ধরে ভ্যাকসিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Tinystep Baby-Safe Natural Toxin-Free Floor Cleaner

Dear Mommy,

We hope you enjoyed reading our article. Thank you for your continued love, support and trust in Tinystep. If you are new here, welcome to Tinystep!

We have a great opportunity for you. You can EARN up to Rs 10,000/- every month right in the comfort of your own HOME. Sounds interesting? Fill in this form and we will call you.

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon