Link copied!
Sign in / Sign up
14
Shares

সন্তানের জন্য এমন কিছু বিশেষ জিনিস যা কেনা উচিত নয়


বাবা মা হিসেবে আপনি সব সময় চান ছেলেমেয়ের জন্য সেরা জিনিসটা কিনে দিতে। সবচেয়ে ভালো ডাইপারটা, সবচেয়ে দামী জামাকাপড় বা এমন সব খেলনা যেগুলো আমাদের মতে শিশুদের বেড়ে ওঠার আদর্শ সঙ্গী হতে পারে। কিন্তু কখনও নিজের অজান্তেই আমরা এমন সব বেবি প্রোডাক্টের দিকে ঝুঁকে পড়ি যেগুলো আমাদের ছেলেমেয়ের বেড়ে উঠতে সাহায্য করার বদলে তাদের আরও পিছিয়ে দেয়। দৈনিক ব্যবহারের এমন বেশ কিছু বেবি প্রডাক্ট রয়েছে যা আদতে আপনার শিশুর জন্যে ক্ষতিকারক।

১. ওয়াকার

আপনি হয়ত ভেবেছিলেন যে ওয়াকার আপনার শিশুর জন্য একটা দারুণ উপহার কারণ এতে সে নিশ্চিন্তে যেখানে খুশি চলে যেতে পারে নিজের ইচ্ছেমত। কিন্তু পৃথিবী জুড়ে পিডিয়াট্রিশিয়ানরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। আপনি কি জানেন যে কানাডায় সেই ২০০৪ থেকেই ওয়াকার নিষিদ্ধ? ওয়াকারে আপনার শিশুর নিজে থেকে দাঁড়াতে পারার সহজাত প্রবৃত্তিগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওয়াকারে ভর দিয়ে একজন শিশু বিপদজনক জিনিসপত্রকে নিজের আওতায় এনে ফেলতে পারে। ওয়াকারে নির্ভরশীল হওয়ার ফলে শিশু নিজের পা সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করতে শিখছে না, সে নিজের ব্রেনকেও সঠিক ভাবে ব্যবহার করছে না।

সুতরাং, শিশুকে নিজের মত খেলে বেড়াতে দিন। হয়ত সে পরে যাবে, হোঁচট খাবে কিন্তু ওদের সহজাত বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করে ওরা কত তাড়াতাড়ি কত কিছু শিখতে পারে।

২. ফিডিং বোতল

বেশির ভাগ বাবা মা ফিডিং বোতলের দিকে ঝোঁকেন কারণ এতে শিশু জল খাওয়ার সময় জল চলকে পড়ে না। এবং এতে বোতল থেকে জল খাবার মতই সহজ। স্তন্যপান আর দুধের বোতল থেকে খাওয়ায় কোনও অসুবিধে নেই কারণ সেখানে নিপ্‌ল নিজে থেকে আকার পালটে নেয় কিন্তু প্লাস্টিকের ফিডিং বোতলে সে উপায় নেই। সে জন্যেই ফিডিং বোতলে মুখের মধ্যে অনভিপ্রেত পরিবর্তন ঘটাতে পারে, এমনকি ভবিষ্যতে দাঁতের সমস্যা বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়াও আশ্চর্যজনক নয়।

সুতরাং, সাধারণ গ্লাস ব্যবহার করুন। হ্যাঁ, তা’তে জল পড়তে পারে বা হুড়মুড় করে জল খেতে গিয়ে গলায় জল আটকে গলা বেয়ে কাশি উঠে আসাও বিচিত্র নয়, কিন্তু ভুললে চলবে না যে শিশুটি এখনও গেলাস চুমুক দিয়ে জল খেতে শেখেনি কিন্তু ধীরে ধীরে সে ব্যাপারটা শিখে নিতে পারবেই।

৩. প্যাসিফায়ার

বিদেশে প্যাসিফায়ারের প্রচলন অনেক বেশি। আজকাল অবশ্য আমাদের দেশীয় বেবিস্টোরগুলোতেও প্যাসিফায়ারের ছড়াছড়ি। অনেক বাবা-মা প্যাসিফায়ারের ব্যবহার শুরু করেন শিশুদের বুড়ো আঙুল চোষা বন্ধ করতে। তাছাড়া বিমান অবতরণের সময় শিশুদের আচমকা অস্বস্তি থেকে রেহাই দিতেও প্যাসিফায়ার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়েছেন যে প্যাসিফায়ার ব্যবহারে ভবিষ্যতে দাঁতের ব্যারাম দেখা দিতেই পারে। কিছু ক্ষেত্রে, প্যাসিফায়ার ব্যবহারে কানের সংক্রমণও হতে পারে।

সুতরাং, এটির ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন। আপনার শিশু ক্রমশ প্যাসিফায়ারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে, কাজেই ব্যবহার যতটা সম্ভব কম করলে তার উপকারই হবে। যদি আপনি বিমানে প্যাসিফায়ার ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে একবার শিশুর মুখের এক টুকরো গুড় দিয়ে দেখুন কারণ ঢোক গিললে কানের অস্বস্তি কমে আসে।

৪. কথা বলা খেলনা

এ’টা বোধ হয় আপনি ভাবতে পারেননি, তাই না? অনেক সময় বাবা মায়েরা ঝকমকে, দামী কথা বলা খেলনা কিনে ফেলেন ছোটদের ভালো লাগবে ভেবে। কিন্তু এই কথা বলা খেলনাগুলো নিয়ে খেললে শিশুরা তাড়াতাড়ি কথা বলতে শিখবে কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বিশেষজ্ঞরা ব্যাপারটা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মত হচ্ছে যে এসব শব্দ খেলনা উলটে কথা বলতে শেখার পথে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। আসলে অসুবিধে হচ্ছে এই সব খেলনায় কথাবার্তা ঘটে একতরফা। শিশুরা যে কোনও কিছু শিখতে আরম্ভ করে সাধারণত নকল করার চেষ্টা করতে গিয়ে। ইলেক্ট্রনিক কথা বলা যাবতীয় খেলনায় কিন্তু এই সুবিধেটা নেই।

সুতরাং, এসব দামী খেলনা মাঝে মধ্যে কিনতেই পারেন কিন্তু নিয়মিত নয়। শিশুটিকে সাধারণ খেলনাগুলোর মধ্যেই মজে থাকতে দিন। ছোটরা একটা সামান্য বাক্স বা ছোট চামচ নিয়ে খেলে আনন্দে আটখানা হতে পারে, সেটা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন? চেষ্টা করুন তেমনি সহজ ভাবেই তাকে রাখতে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon