Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

শিশুদেরও হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ?


শিশু-কিশোরদের মধ্যে চার থেকে পাঁচ ভাগেরই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে অনেক দেরিতে৷ যদিও শিশুর রক্তচাপকে কখনোই গুরুত্ব দেয়া হয় না। তবে এরফলে শিশুদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সমস্যা দেখা যায়।

 

পূর্বে স্ট্রেস বিশয়টি শুধুমাত্র বড়দের ক্ষেত্রে চিন্তা করা হয়। কিন্তু সেই দিন এখন এর নেই। আজকালকার বাচ্চাদের স্কুল থকেই শুরু হয়ে যায় প্রতিযোগিতার যুদ্ধ, যার ফলে ওদেরও থাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ৷ আর উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণই যে হলো মানসিক চাপ। তাই শিশুদের এই মানসিক চাপ দূর করার জন্য স্কুলের পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান-বাজনা বা যে কোন শখ থাকা অনেক জরুরি। যাতে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা তাদের রাগ, দুঃখ, কষ্ট ভুলে গিয়ে মাথাটাকে পুরোপুরি অন্য দিকে ঘোরাতে পারে৷ যেসব বাচ্চার কিডনি, ইউরিনারি নালী এবং আয়োডিনের সমস্যা রয়েছে অথবা যারা হার্টে খুঁত নিয়ে জন্মেছে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত চাপ মাপা প্রয়োজন৷

 

বর্তমান যুগের বাচ্চারা সাধারনত ‘পিৎসা’, তেলে ভাজা ‘ফ্রেঞ্চফ্রাই’ বা ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেতে বেশী পছন্দ করে। কিন্তু এসব খাবারে থাকে প্রচুর লবন ও তেল। তাছাড়াও এনার্জি ড্রিংক বা মিষ্টি পানীয়ও এখনকার বাচ্চাদের বেশ পছন্দ। যা শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। শিশুদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ সেভাবে প্রকাশ পায় না। তবে হঠাৎ করেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যা এসময় দেখা দেয়। তাই নিজের সন্তানদের মাঝে এধরনের সমস্যা দেখা দিলে মা-বাবার সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা দরকার৷

 

অনেক শিশুই তাদের বংশগত ধারাকে রক্ষা করে বাবা মায়ের মতন উচ্চ রক্তচাপ ও অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হয়, অনেক সময় বংশগত ধারাকে উপেক্ষা করার উপায় থাকে না – তা উচ্চ রক্তচাপই হোক বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যাই হোক৷ তাই যাদের মা-বাবার অতিরিক্ত ওজন এবং উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকে খাদ্যাভাসের দিকে নজর রাখা ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন৷

‘শিশুদের উচ্চ রক্তচাপকে মোটেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না৷ যদিও এর ফলে শিশুদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে৷ কারণ বাচ্চাদের স্কুল থকেই শুরু হয়ে যায় প্রতিযোগিতার যুদ্ধ, যার ফলে ওদেরও থাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ৷ আর উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণই যে হলো মানসিক চাপ! এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন পড়াশোনা বা স্কুলের অন্যান্য চাপের পাশাপাশি খেলাধুলা, গান-বাজনা বা কোনো হবি থাকা৷ যাতে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা তাদের রাগ, দুঃখ, কষ্ট ভুলে গিয়ে মাথাটাকে পুরোপুরি অন্য দিকে ঘোরাতে পারে৷

নিয়মিত শরীরচর্চা অনেক রোগব্যাধিকে দূরে রাখে৷ তাই শৈশবেই শরীর চর্চা ও সুষম খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন৷ বিশেষ করে যথেষ্ট কলা, বিভিন্ন বাদাম, আলু ইত্যাদি৷ অন্যদিকে লবণ জাতীয় খাবারকে না বলা দরকার৷ স্ট্রেস এড়িয়ে যোগ ব্যায়াম ও বিনোদনমূলক কোনো ব্যায়াম করাও যেতে পারে৷ তার সঙ্গে অবশ্যই নিজের সন্তানকে ধূমপায়ীদের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে৷

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণঃ

ঘাড় ব্যথা, চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা, রাতে ঘুমাতে না পারা।

ক্ষতিকর দিকঃ

দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিচের ব্যাধিগুলো হতে পারে।, স্ট্রোকঃ মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ, হার্ট ফেইলিওর, হার্ট অ্যাটাক, মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন, কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া।

চিকিৎসাঃ

অতিরিক্ত ওজন কমানো। শরীরের ওজন অতিরিক্ত হলে ধীরে ধীরে তা কমানো উচিত। এজন্য উচিত নিয়মিত খেলা ধুলো করা পরিশ্রম করা। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য তাড়াহুড়ো করেন এটা কিছুতেই ঠিক নয়। খাবার পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত নুন বা নুন জাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত। ফাস্টফুড বা ফ্রোজেন ফুড-এ নুনের পরিমাণ বেশি থাকে। প্রাণীজ প্রোটিন ত্যাগ করে শাক-সবজি, সালাদের দিকে ঝোঁকা ভাল। প্রাথমিক অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লে উপরের নিয়ম মানলে অনেকের রক্তচাপ ৩-৬ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসে। যদি এরপরও স্বাভাবিক না হয় তবে ওষুধের সাহায্য নিতে হয়। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিয়ে করা হয়। ১টি ওষুধ দিয়ে এর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। প্রয়োজনবোধে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে ডোজ বাড়ানো বা কমানো অথবা নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু ওষুধ কখনোই বন্ধ রাখা যাবে না।

সতর্কতাঃ

হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ রাখা বা অনিয়মিতভাবে ওষুধ গ্রহণ না করা। ওষুধ গ্রহণ অবস্থায়ও অন্তত প্রতিমাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা। একজন বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকা এবং পরামর্শ অনুযায়ী চলা। নুন, ফাস্টফুড, ফ্রোজেন ফুড খাওয়ায় সতর্ক থাকা। যেহেতু এ রোগে দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয় কাজেই বছরে অন্তত একবার কিডনি এবং হার্টের পরীক্ষা অথবা শারীরিক সকল পরীক্ষা চেকআপ করানো উচিত।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon