Link copied!
Sign in / Sign up
188
Shares

শিশুর প্রতি অভিভাবকত্ব নিয়ে ১১ টি সত্য যা প্রত্যেক নতুন মায়েদের জানা আবশ্যক


১.স্তন্যপান করানো

এই ভূমিকাটি আপনাকে গর্ভাবস্থার থেকে শুরু করে শিশুর এক বছর বয়স অবধি পালন করতে হবে! যে যাই বলুক এটা খুব একটা সহজ কাজ নয় এবং সময়সাপেক্ষ। এটা আপনার ও আপনার শিশুর ধৈর্যের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে! বোতলে দুধ না খাওয়াতে পারার জন্য দুঃখ করবেন না; শিশু তার পুষ্টি পেয়ে সুস্থ থাকলেই হলো!


২. মাতৃক প্রবৃত্তি

মাতৃত্ব সুলভ প্রবৃত্তি শিশু জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই লাইট বাল্বের মত জ্বলে উঠবে না! তাই শুরুর দিকে মা, মাসি, কাকীর মত শুভচিন্তকদের বক্তব্য ও উপদেশ চুপ চাপ গ্রহণ করে নিন!


৩. নিয়ম ও শাসন মুক্ত

বইয়ে যা লেখা আছে তা আপনার শিশুর নাও হতে পারে। সে কোনো দিন প্রত্যেক ঘন্টায় উঠে খেতে চাইবে তো কোনদিন প্রত্যেক ৫ ঘন্টায়। তাই নির্দিষ্ট সময় অবধি খাওয়া, ঘুম, বা পরিষ্কার করার কোনো কঠিন নিয়ম বা শাসন ঠিক করবেন না!


৪. প্রসবের পর বিষন্নতা

এটি প্রত্যেক নতুন মায়ের হতে পারে- রাগ হতে পারে, দুঃখ হতে পারে, স্বামীকে ব্যাঙ্গার্থ করে মারতে ইচ্ছে করতে পারে বা শিশুর থেকে দুরে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করতে পারে। কাজেই লজ্জা পাবেন না বা নিজেকে কষ্ট দিয়ে গুটিয়ে রাখবেননা। দরকার হলে মনোস্তত্ববিদের সাহায্য নেবেন!


৫. প্রথমে নিজের খেয়াল নিন

স্বার্থপর শোনালেও নিজের খেয়াল রাখাটা সবচেয়ে দরকারী। মা খুশি থাকলেই তার পরিবার খুশি থাকতে পারবে! নিজের যা ইচ্ছে বিনা সংশয়ে করে ফেলুন- হাটুন, ঘুমোন, বই পড়ুন বা জিমে যান! সংকোচ বোধ করবেননা, প্রয়োজন হলে নিজের ইচ্ছেগুলোকে পরিবারের কাছের মানুষের কাছে প্রকাশ করুন।


৬. তুলনা করতে যাবেন না

“ আমার শিশু ১০ ঘন্টা ঘুমোয়!” “ আমার মেয়ে সব খেয়ে নেয়!” “ আমার ছেলে তো ৮ মাস বয়সে হাঁটতে শুরু করেছিল!” এই কথাগুলিতে পাত্তা দেবেন না! সব সন্তান ও সব মা আলাদা। তবে সব মা-শিশুর সম্পর্কে একটা জিনিস থাকেই আর সেটি হল নিঃশর্ত ভালোবাসা! বাচ্চা কত তারাতারি হাঁটল বা কতটা ঘুমোলো এটা নিয়ে পরে থাকার কোনো মানেই থাকবে না! দরকারী এই যে সে বড় হয়ে মুশকিল সময়ে আরামে ঘুমাক আর যাদের দরকার তাদের সাহায্য করুক! দরকার শুধু তার ভালো মানুষ হওয়া!


৭. খেলনা

খেলনা যতই দামি হোক, সুন্দর হোক, সেরা হোক, বাচ্চারা যেকোনো খেলনা দিয়েই খেলতে ভালবাসবে। এমনকি খেলনা ছাড়াও সে যেকোনো উপায় খুশি থাকতে পারে! খেলনার দরকার হবেও না! কাজেই, সেরা খেলনা কিনতেই হবে, দামি গাড়ি দিতেই হবে, এমন ধারণা থেকে মুক্ত থাকুন। শিশু ফোন, ওয়্যার, চশমা সব চিবিয়ে দেখবেই! তাই এগুলির জন্যে বেশি কষ্ট করবেন না!


৮. ক্রোধ ও কান্নাকাটি

সব বাচ্চাই কেদে কেটে মা বাবাকে সবার সামনে লজ্জিত করে এবং সবচেয়ে বেশি করে বেড়ানোর সময়! অন্যরা কড়া চোখ করে তাকালে পাত্তা দেবেন না! আপনি খারাপ মা নন, বাচ্চারা এরকমই হয়! কে দেখল, না দেখল বা কি ভাবলো এসব নিয়ে ভাববেননা।


৯. ওজন কমানো

এই নিয়ে ভেবে রাতের ঘুম নষ্ট কর্বেন না! গর্ভাবস্থার পর ওজন কমানো শক্ত এবং খুবই ধীরগতিতে কমে! চিন্তা করবেন না! পুষ্টিকর খাবার খাবেন! ওজন কমানোর চিন্তায় খাওয়া দাওয়া বন্ধ করবেননা। বাচ্চা আরেকটু বড় হলেই তার পিছনে দৌড়াদৌড়ি করেতে গিয়ে সব ওজন কমে যাবে!


১০. শিশুকে কোলে নেওয়া ও জড়িয়ে ধরে থাকা

যতটা পারবেন শিশুকে কোলে নেবেন, তার গালে গাল লাগিয়ে শোবেন! শিশুকে জড়িয়ে ধরবেন ও যেখানে যাবেন শিশুকে নিয়ে যাবেন। এতে শিশু বিগড়াবেনা না! মনে রাখবেন এই অপূর্ব দিনগুলি বেশি সময় থাকে না! এতে শিশু ও আপনার ঘনিষ্ঠতা বাড়বে। শিশু কোলে ওঠার বায়না করলে তাদের কোলে নেবেন। কখনো দেখেছেন ১৬ বছরের কিশোর কিশোরীদের মা বাবার কোলে উঠে তাদের জড়িয়ে ধরতে?


১১. বড্ড তারাতারি বড় হয়ে যায়

বাচ্চাকে খাওয়াতে, ঘুম পাড়াতে, পরিষ্কার করতে রাতের ঘুম চলে যায় আর মা বাবার মনে হয় সময় তো কাটছেই না! তবে একবার শিশুর ৫ বছর বয়স হযে গেলে সময় যে কোথা দিয়ে কেটে যাবে তা বোঝাই যাবে না! তাই প্রত্যেকটি মুহূর্ত আনন্দময় করে তুলুন শিশুর সাথে!

যখনি আমি নিজের ৬ বছরের শিশুর ছোটবেলার ছবি দেখি, মনে হয় ফেরত চলে যাই! তবে তা তো সম্ভব নয়! তাই যা সময় পাবেন চুটিয়ে আনন্দ করে নিন! লোকে পরে এটা দেখবে না যে আপনি কত তারাতারি মানুষ করেছেন, তারা দেখবে আপনি কত ভালো মানুষ করেছেন! তাই নয় কি?

Click here for the best in baby advice
What do you think?
100%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon