Link copied!
Sign in / Sign up
0
Shares

সারাদিন অফিসে বসে কাজ করতে করতে আপনার শরীরে ক্ষতি


অফিসের সময় বর্তমানে ৯টা থেকে ৬টায়। মানে, ন’ঘণ্টা। কিন্তু আপনি অনেক বেশি কাজ করেন প্রমাণ করতে গিয়ে, কাজের সময়ের সঙ্গে যোগ হয়ে যায় আরও বেশি দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এই ভাবেই সারা দিন বসে কাজ করতে করতে আপনি নিজের শরীরে ক্ষতি করছেন।

লন্ডনের এক ক্লিনিকের ডাইরেক্টর, মহম্মদ তাহা, যিনি নিজে একজন অভিজ্ঞ অস্টোপ্যাথ, তিনি জানিয়েছেন যে, মানবদেহে ৩৬০ জয়েন্ট ও ৭০০ মাসল রয়েছে। এবং এদের নড়াচড়ার উপরে নির্ভর করে ভাসকুলার ও নারভাস সিসটেম।

তবে জানুন কি কি ভাবে ক্ষতি হচ্ছে আপনার শরীরে।
কাঁধ ও পিঠ

মানুষ তিন-চার মিনিটের বেশি সোজা হয়ে বসে থাকতে পারে না। এর ফলে, শিঁড়দাড়ার লিগামেন্টের বেশ ক্ষতি হয়। এর সাথে পিঠের মাসলেও বেশ চাপ পড়ে। যাঁরা কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পিঠ, কাঁধের, ঘাড়ের সমস্যা দেখা দেয়।

কোমর ও পা

বেশিক্ষণ বসে থাকলে, কোমরের নীচের অংশের ও পায়ের মাসল ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে, হিপ-জয়েন্টের সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে রক্ত চলাচলেও সমস্যা হয়। ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়।

হৃদযন্ত্র

দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মানুষের হার্ট সব থেকে ভাল কাজ করে। কিন্তু, সারাক্ষণ বসে থাকার কারণে, মানুষ হার্ট নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকক্ষণ বসে থাকার ফলে, লিপোপ্রোটিন লিপেস নামে একটি এনজাইম অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে, হার্টে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ফুসফুস

সারা দিন প্রায় একই ভাবে বসে থাকার ফলে, ফুসফুসে অক্সিজেন কম পরিমানে পৌঁছায়। এর ফলে ফুসফুসের আয়তনও ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে থাকে।

মস্তিষ্ক

ফুসফুসে কম অক্সিজেন প্রবেশ করার ফলে, মস্তিষ্কেও তার প্রতিফলন ঘটে। যার ফলে ব্রেনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। এর ফল দেখা যায় সমগ্র শরীরে।

অগ্ন্যাশয়

দিনের বেশির ভাগ সময়ে বসে থাকার ফলে, ইনসুলিন হরমোন কমতে শুরু করে। এই হরমোন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস থেকে। ইনসুলিন শরীরের গ্লুকোজ ভাঙতে সাহায্য করে। কিন্তু, ইনসুলিন তৈরি না হওয়ার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার হার বেড়ে যায়।

পাচনতন্ত্র

সারাক্ষণ বসে কাজ করার ফলে পেট সঙ্কুচিত হয়ে থাকে। যার ফলে খাবার হজম হতে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে গ্যাস, বদহজম, এমনকী কনস্টিপেশনের সমস্যাও হয়।

কিভাবে এর থেকে মুক্তি পাবেন

বেশি সময় ধরে যাঁরা বসে কাজ করেন, তাঁদের জন্য অনেকে অনেক ধরনের প্রতিকার আছে। যেমন, এক ঘণ্টা অন্তর দশ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়ানো, সম্ভব হলে একটু হাঁটাচলা করা।

এছাড়াও

১। ফোনে কথা বলার সময়ে দাঁড়িয়ে বলুন।

২। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর, নিজের জায়গাতেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন মিনিট দুই তিনের জন্য।

৩। বসার সময়ে চেষ্টা করুন যথাসম্ভব সোজা হয়ে বসার।

৪। বসার চেয়ার ও কাজের টেবিল যেন শারীরিক কোনও অসুবিধা না ঘটায়।

৫। যতটা সম্ভব দাঁড়িয়ে কাল করার চেষ্টা করুন।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon