Link copied!
Sign in / Sign up
13
Shares

সাজসজ্জা ছাড়া আপনার ত্বককে উজ্জ্বল রাখার ১০টি কৌশল


১। ময়েশ্চারাইজার

আপনার ত্বককে সিক্ত রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনাদ্রতা শুধুমাত্র আপনার ত্বককে খসখসেই করে তোলে না, আপনার রোমকূপগুলিতে ক্ষতও তৈরি করে। এর ফলে আপনার চামড়া শিরিষ কাগজের মত রুক্ষ হয়ে যায়। ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বকে সিক্ততা এনে দেয় ও করে তোলে এতটাই মসৃণ ও নরম যে আপনার ত্বক থেকে আলো প্রতিফলিত হয়, যা আপনার রূপকে করে তোলে আরও উজ্জ্বল।


২। পুষ্টিকর আহার

আপনি যত পুষ্টিকর খাবার খেতে পারবেন আপনার ত্বক ততই স্বাস্থ্যবান হবে। এটা খুব সহজ মনে হলেও এইধরণের খাবারের অভ্যাস করা হালকা কাজ নয়। সমস্ত ধরণের “ফার্স্ট ফুড” এবং “জাঙ্ক ফুড” খাওয়া বন্ধ করুন। আপনার শরীরে ক্ষতিকারক খাবার থেকে আসা বিষক্রিয়ার প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। আপনার ত্বকে নতুন কোষ সৃষ্টির জন্য জরুরী হল ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডান্ট এবং পুষ্টি - স্বাস্থ্যবান খাবার আপনার এই প্রয়োজন মেটাবে।


৩। শরীরচর্চা

সুষম খাবারের সঙ্গে শরীরচর্চাও সমান উপযোগী। দ্রুত ফল পেতে চাইলে আপনাকে আরো বেশি শরীরচর্চা করতে হবে। ভাবতে অবাক লাগে যে প্রায় সব অ্যাথলিট এই বিষয়ে কীভাবে নিজেদের রক্ষণাবেক্ষণ করে রাখেন। যখন আপনি ব্যায়াম করেন, আপনার শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য দ্রব্যগুলি ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। আপনি যত পরিমাণে বিষাক্ত বর্জ্যপদার্থ শরীর থেকে বার করে দিতে পারবেন ততটাই নিজেকে সুস্থ ও স্বাবাভিক মনে করবেন।


৪। শুধু ফলের রস খেয়ে থাকা

ফল খাওয়ার চেয়ে ভালো একটাই জিনিস হতে পারে, ফলের রস পান করা। আপনি যদি কোন নতুন খাদ্যাভ্যাসের সন্ধানে থাকেন তবে আমরা আপনাদের কিছু মতামত দিতে পারি। শুধু ফলের রস পান করে অনশন করতে পারেন। এটা শুধু আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করবে না, আপনার শরীরের বিষক্রিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। শুধু ফলের রস পান করে অনশন হল স্বাস্থ্যবান থাকার একটি প্রমাণিত উপায় এবং এর ফলে আপনাকে আরও পরিচ্ছন্ন এবং সুদর্শন দেখাবে।


৫। বেশী পরিমাণে জল পান

আমাদের শরীরের ৭০ শতাংশ জল। তাই এটা চিন্তার বিষয় হবে যদি আমরা যথেষ্ট পরিমাণে জল পান না করি। আপনার ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য জল পান করা হল সবচেয়ে সহজ এবং কম খরচ সাপেক্ষ উপায়। নিজের শরীরে জলের পরিমাণ বাড়াতে পারলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে। সুপার মডেল নোয়ামি ক্যাম্পবেলের কথায়, “আমার সময় নষ্ট করবেন না, আপনাকে শুধু শুনতে হবে। কথা প্রসঙ্গে আমি চাই আপনারা প্রচুর প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। সিক্ততা...জল, জল, জল...”


৬। ত্বক মোচন (ত্বকের মৃত কোষ বর্জন পদ্ধতি)

ত্বকে মৃত কোষ রয়ে গেলে আপনাকে নির্জীব এবং প্রানহীন দেখায়, যা শারীরিক সৌন্দর্য প্রকাশের অন্তরায়। এই মৃত কোষকে শরীর থেকে বের করার জন্য ত্বক মোচন পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া উচিত। মুখের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য যদি আপনার কোন “ফেস স্ক্রাব” না থাকে তবে এখনি একটা কিনে নিন। এর সাহায্যে আপনি ত্বকের মৃত কোষ বর্জন করতে পারবেন। তার সঙ্গে আপনার ব্রণের পুরানো দাগের ঘনত্ব কমে যাবে এবং নতুন করে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। আপনার মুখমণ্ডল থেকে অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব কমাতেও এটি বেশ উপযোগী।


৭। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নির্মিত ফেস প্যাক

এই ধরণের ফেস প্যাক তৈরি করা খুবই সহজ। ফেস প্যাক তৈরি করতে আপনি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন যেগুলি খুব কম খরচে আপনার ত্বকের দূষণ নিরসন করে। এই প্যাক প্রস্তুত করার জন্য আপনার দরকার এক চা-চামচ শশার রস, এক চা-চামচ লেবুর রস, এক চা-চামচ হলুদ ও এক চা-চামচ গ্লিসারিন (শুষ্ক ত্বকের জন্য)। শশা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, এবং যে কোন ধরণের রোদ-পোড়ার দাগ কমায়। সমস্ত উপাদানগুলি একসঙ্গে মেশান এবং আপনার মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন ।


৮। স্মার্ট স্নান

প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা জলে স্নান সবসময় খুব খারাপ নাও হতে পারে। স্নান থেকে বেরোনোর ঠিক আগে গরম জলের কল বন্ধ করুন এবং আপনার ত্বককে ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আনুন। জলের তাপের এই হঠাৎ পরিবর্তন আপনার ত্বকের জন্য দারুন উপযোগী। এর ফলে আপনার রোমগ্রন্থি মুক্ত হয়ে যায়। প্রত্যহ এই অভ্যাস বজায় রাখলে আপনার ত্বক সোনার মত উজ্জ্বলতা বিচ্ছুরণ করবে।


৯। রক্তের দূষণ পরিহার

প্রত্যহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, পরিবেশ দূষণ এবং মানসিক চাপের ফলে আপনার রক্তে দূষিত দ্রব্য জমা হতে থাকে। দূষণ নিরসন এমন একটি পদ্ধতি যার সাহায্যে শরীর অপ্রয়োজনীয় পদার্থ থেকে নিজেকে মুক্ত করে বা তার প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে। এর মধ্যে দিয়ে আপনার দেহের প্রতিরোধশক্তি উজ্জীবিত হয়, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের নানা স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন নিয়ন্ত্রিত হয়। রক্তের দূষণ রোধ করার জন্য বিভিন্ন দূষণ নিরোধক পদার্থ আছে যেগুলি খেতে খারাপ। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এর শেষ ফল ভালই হয়।


১০। আরও বেশী হাসুন

পরিশেষে আপনি যদি আপনার ত্বক বা রূপ নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকেন, তাহলে কোন কিছুই আপনাকে তেমন সাহায্য করতে পারবে না। আপনি নিজেই আপনার শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী। একটা ছোট্ট হাসিও আপনার জন্য খুবই উপকারী হতে পারে। হাসির প্রাচুর্য শুধুমাত্র আপনার মুখের উজ্জ্বলতাই বৃদ্ধি করে না, আপনার আসেপাশে থাকা সব মানুষের মৌখিক উজ্জ্বলতাও বাড়ায়। এই ভাবে আপনি নিজের সব ক্লান্তি থেকে মুক্তি পান এবং আপনার দিন হয়ে ওঠে আরও সুন্দর। মুখে হাসি নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা আপনার জীবনের উপর ভাল প্রভাব ফেলে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon