Link copied!
Sign in / Sign up
19
Shares

রান্নাঘরের জন্যে অসাধারণ কিছু টিপস!

 


রান্নাঘর আপনাদের জন্য হয়তো প্রিয় জায়গা। প্রতিদিন কত শত সুস্বাদু খাবার তৈরী করেন। কিন্তু খেতে যতটা সহজ, রান্নাঘরে রান্না করা কিন্তু ততটা সহজ নয়! প্রতিদিনই রান্নাঘরে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। কিন্তু সামান্য কিছু টিপস ফলো করে এই ঝামেলা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।  

সবজির রঙ ঠিক রাখতে ঢাকনা দিয়ে জ্বাল না দেয়াই ভালো। আর কিছু সবজি আছে যেগুলো সামান্য সেদ্ধ করে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেও রান্নার পরও রঙ ঠিক থাকে।

খাবার পুড়ে গেলে কি করবেন

১. ভাত, পোলাও, বিরিয়ানি বা চাল জাতীয় যে কোন খাবার পুড়ে গেলে তেতো হয়ে যায় না। এটা দূর করতে কী করবেন? প্রথমেই যে হাঁড়িতে পোড়া লেগেছে, সেখান থেকে খাবারকে সরিয়ে নিন। অন্য একটি হাঁড়িতে রাখুন এবং তাঁর ওপরে রাখুন এক টুকরো পাউরুটি। এরপর দম দিন কিছুক্ষণ। আপনার খাবারের পোড়া গন্ধ শুষে নেবে পাউরুটি।

২. মাংস ভুনা পুড়ে গিয়ে একেবারে তলায় লেগে গেছে? সাথে সাথে গ্যাস বন্ধ করে দিন। তারপর মাংসগুলোকে আলতো করে তুলে নিন হাঁড়ির নিচে লেগে থাকা খাবার বাদ দিয়ে। খাবারে তেতো ভাব আছে আর পোড়া গন্ধও। মাংসকে হাত দিয়ে ভেঙে নিন। তারপর সমপরিমাণ পেঁয়াজ যোগ করে ভালো করে মেখে নিন। এবার প্যানে অল্প তেল দিয়ে ভাজা ভাজা করে নিন এই মিশ্রণকে। ইচ্ছা হলে লবণ, নানান রকমের সস ও মশলা আপনার যা যোগ করতে পারেন।

৩. মাংস বা মাছ কষাতে গিয়ে পুড়ে গিয়েছিল, এখন ঝোলের মাঝেও পোড়া গন্ধ? কিংবা স্যুপ বা অন্য কোন তরল খাবার রাঁধতে গিয়ে পোড়া গন্ধ ও তেতো ভাব হয়েছে? কয়েক টুকরো মিষ্টি কুমড়া কেটে দিয়ে দিন ঝোলে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ফোটান। সেদ্ধ হয়ে গেলে আগুন নিভিয়ে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। কুমড়াগুলো উঠিয়ে পরিবেশন করুন। পোড়া গন্ধ থাকবে না।

৪. যে কোন খাবারের পোড়া ভাব দূর করতে দই, দুধ, চিনি এগুলো অসাধারণ। বিশেষ করে গ্রেভি জাতীয় খাবারে। খাবার পোড়া লাগলে প্রথমেই সরিয়ে নিন পাত্র থেকে। অন্য পাত্রে গ্রেভি জাতীয় খাবারটি রাখুন, তারপর এতে যোগ করুন ফেটানো টক দই বা দুধ, সাথে চিনি দিতে ভুলবেন না। এবার রান্না করুন আবার। খাবার হয়ে উঠবে সুস্বাদু।

৫. পোড়া ভাব দূর করতে টমেটো সসও ম্যাজিকের কত কাজ দেয়। এমনকি পোড়া ভাজা ঠিক করতেও। যে কোন ঝাল খাবারে কেবল যোগ করুন স্বাদ অনুযায়ী টমেটো সস। দেখবেন পোড়া পোড়া ভাব মাত্র থাকবে না।

৬. কাবাব বা ভাজাভুজি জাতীয় কোন খাবার পুড়ে গেছে। এটার সাথে পরিবেশন করুন টক দইয়ের রায়তা ও প্রচুর সস। পোড়া স্বাদটা কেউ টের পাবেন না।

৭. যদি চামড়ায় কোথাও পুড়ে যায়, ঠান্ডা জল ঢেলে দিন। এরপর পাকা কলা চ্যাপ্টা করে নিয়ে পোড়া স্থানে লাগিয়ে দিন। জ্বলুনি একদম কমে যাবে।

৮. বাসুনে যদি খাবারের পোড়া দাগ লেগে যায়, অনেক সময় ঘষেও তোলা যায় না।এই ক্ষেত্রে কী করবেন? রান্নাঘরে গিয়ে অল্প কিছু পেঁয়াজ কেটে নিন।এরপর খাবার পোড়া পাতিলে গরম জল ঢেলে তাতে পেঁয়াজ কুচি রেখে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।তারপর পরিষ্কার করুন। দেখবেন পোড়া দাগ উঠে গেছে।

সাধারণ কিছু

১. যদি পাকা নারকেলের শাঁস তুলতে কষ্ট হয়, তাহলে আধ ঘন্টা জলে চুবিয়ে রাখুন।এরপর দেখবেন সহজেই উঠে আসছে।

২. কড়াইতে গরম তেলে কিছু ভাজার সময়, যা দেবেন তার সঙ্গে সামান্য নুন দিন। তাহলে আর তেল ছিটবেনা।

৩. চিনেবাদাম ও কাজুবাদাম তেলে ভেজে পরে রান্নায় ব্যবহার করুন। খাবারের স্বাদ বাড়বে।

৪. কেক বানাতে যদি ডিমের পরিমাণ কম হয়, তার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন কর্নফ্লাওয়ার।

৫. আলু ও ডিম একসঙ্গে সেদ্ধ করুন। দুটো দুই কাজে ব্যবহার করলেও সেদ্ধ তাড়াতাড়ি হবে।

৬. যদি কাজুবাদামের খোসা ছাড়াতে কষ্ট হয়, তাহলে বাদামগুলোকে গরম জলে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। খোসা নরম হয়ে সহজেই উঠে আসবে।

 

৭. কাটা আপেলের উপর হালকা করে লেবুর রস লাগিয়ে দিন। আপেল লালচে হবে না। বরং ফ্রেশ দেখাবে অনেক দিন ধরে।

৮. ওল, কচু অথবা কচুশাক রান্না করলে তাতে কিছুটা তেঁতুলের রস বা লেবুর রস দিয়ে দিন। তাহলে খাওয়ার সময় গলা চুলকানোর ভয় থাকবে না।

৯. অনেক সময়ই তাড়াতাড়ি স্যুপ রান্না করতে গিয়ে তা পাতলা হয়ে যায়। তখন দুটো আলু সেদ্ধ করে স্যুপে মিশিয়ে ফোটালে স্যুপ ঘন হবে।

১০. বাজারের সাধারণ মাখন ব্যবহার যত কম করবেন ততই ভালো। বাজারে লো স্যাচুরেটেড ফ্যাট বহনকারী আলাদা মাখন পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি একেবারেই কম।

১১. করলা মাঝখানে কেটে নিয়ে তার ভেতরে লবণ, ময়দা এবং দই এর মিশ্রণ ঢুকিয়ে আধা ঘন্টা রেখে দিন। এরপর কেটে রান্না করুন, স্বাদ বেড়ে যাবে দ্বিগুণ।

মিষ্টি জাতীয়

১. খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস করতে গিয়ে অনেক সময় দুধটা ফেটে যায়। দুধ ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে তারপর গুড় মেশাবেন। ভালো করে নেড়ে আবার কিছুটা ফুটিয়ে নেবেন, দুধ ফাটবে না।

২. সেমাই বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে অনেকে বাদাম ব্যবহার করেন। বাদামে যদি তেল মেখে পরে তাওয়ায় ভাজেন তাহলে তেল কম লাগবে। নয়তো শুকনো ভাজতে গেলে তেল বেশি লাগবে।

৩. আপনার চিনির বয়ামে খুব বেশী পিঁপড়ার আক্রমণ হচ্ছে? বয়াম এর মুখ খুলে চিনির উপর ৩-৪ টি লবঙ্গ রেখে দিন। পিঁপড়ে পালিয়ে যাবে।

৪. আপনি যদি বিস্কুটের বয়ামের নিচে এক টুকরো ব্লটিং পেপার রাখেন, তাহলে সেই বয়ামে রাখা বিস্কুট সহজে নষ্ট হবে না। বরং সেগুলো শুষ্ক ও মচমচে রাখতে পারবেন অনেক দিন ধরে।

আলাদা রকম 

সবজি কাটার জন্য কাঠের চপিং বোর্ড ব্যবহার করুন।প্লাস্টিকের গুলো ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কারণ প্লাস্টিকের কুচি সবজির সাথে খাবারে চলে যেতে পারে।

রান্নাঘরে খুব তেলাপোকার উপদ্রপ? রান্না ঘরের সিংকের নিচে এবং কোণাগুলোতে বোরিক পাউডার ছড়িয়ে দিন। তেলাপোকা রান্নাঘর তো বটেই, বাড়ি ছেড়ে পালাবে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon