Link copied!
Sign in / Sign up
16
Shares

গর্ভাবস্থা বা প্রেগনেন্সির খাবার: কি কি খাবেন, কি কি খাবেন না- Foods to eat and not to eat during pregnancy in bengali


একজন নারীর জীবনে যদি সবথেকে বেশি আনন্দের মুহূর্ত বলে কিছু থাকে তাহেল তা হল মা হওয়ার মুহূর্ত অর্থাৎ যখন তিনি জানতে পারেন যে তিনি গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভবতী হওয়া মানে শুধু সেই নারী নয়, তাঁর স্বামী থেকে শুরু করে গোটা পরিবারের জন্যে এটি হল সবথেকে সুখের মুহূর্ত। প্রকৃতির নানা আশ্চযজনক কর্মের মধ্যে গর্ভাবস্থা হল একটি অন্যতম আশ্চর্য্যজনক ও চমৎকার একটি সৃষ্টি কারণ একটি নতুন প্রাণ একজন নারীর শরীরের মধ্যে বেড়ে তৈরী হয়ে বেড়ে ওঠে ও জন্ম নেয়. কিন্তু শুনতে যতটা সহজ লাগে, এই প্রক্রিয়া কিন্তু ততটা সহজ নয়. 

মনে রাখবেন এই সময় আপনি কিন্তু আর এক নন বা শুধুমাত্র নিজের শরীরের জন্যে ভেবে ভালোমন্দ অভ্যেস করলে হবেনা; আপনাকে আপনার গর্ভের সন্তানের জন্যেও ভাবতে হবে কারণ  এই সময়ের সামান্য ভুলও আপনার বা আপনার সন্তানের অনেক বড় কোনো ক্ষতির জন্যে দায়ী হতে পারে। তাই, সবরকমের অভ্যেসের মধ্যে যেই অভ্যেসকে সবার আগে সচেতনতার সাথে লক্ষ্য করতে হবে সেটি হল খাদ্যাভ্যাস! আপনার সন্তান প্রাথমিক পুষ্টি ও বেড়ে ওঠার ক্ষমতা সব থেকে বেশি অপার খাদ্য থেকেই পাবে। আবার ভুল খাদ্যের প্রভাবে তার কিন্তু ক্ষতি বা আপনার গর্ভপাতেরও সম্ভাবনা হতে পারে। 

আজ আমরা এই প্রবন্ধে বিস্তারিত ভাবে আপনাকে জানাবো গর্ভাবস্থার সময় আপনার কি কি খাওয়া উচিত ও কি কি খাওয়া উচিত না. তার জন্যে আমরা গর্ভাবস্থার পুরো সময়টিকে তিনটি ভাগে ভাগ করে জানাবো যাতে আপনার বুঝতে সুবিধা হয়- প্রথম ত্রৈমাসিক, দ্বিতীয় ত্রিমাসিক ও তৃতীয় ত্রৈমাসিক।

যা যা পড়বেন 

১. প্রথম ত্রৈমাসিক 

২. প্রথম ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন 

৩. প্রথম ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন না 

৪. দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক 

৫. দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন

৬. দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন না 

৭. তৃতীয় ত্রৈমাসিক 

৮. তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন

৯. তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন না

প্রথম ত্রৈমাসিক 

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক হল গর্ভাবস্থার সব থেকে প্রাথমিক পর্যায়। অর্থাৎ আপনার শেষ মাসিকের শেষ তারিক থেকে শুরু করে ১২তম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়টিকে ধরা হয় গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক। অর্থাৎ এই সময় আপনি ভালোমত বুঝে গেছেন যে আপনি গর্ভবতী আর তাই প্রাথমিক পর্যায়ে আপনাকে বেশ যত্ন সহকারে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে কারণ আপনার গর্ভে সবে সবে ভ্রুন তৈরী হতে শুরু হয়েছে। 

প্রথম ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন? 

১. দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য

 

এই সময় আপনার শরীরে স্বাভাবিক পুষ্টির তুলনায় ৫গুন বেশি পুষ্টির প্রয়োজন যার অন্যতম পুষ্টি দিতে সাহায্য করে দুধ বা দুধ থেকে তৈরী নানা খাদ্য যেমন ঘি, মাখন, দি, ছানা, ইত্যাদি। দুধে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, প্রয়োজনই ফ্যাট ও অন্যান্য সব ধরণের পুষ্টি। তবে কতটা দুধ বা দুধ জাতীয় খাদ্য খাবেন তা অবশ্যই ডাক্তারের থেকে পরামর্শ নিয়ে নেবেন। অতিরিক্ত দুধের ফলে আপনার ফ্যাট বা ইউরিক এসিডের সমস্যা যেন তৈরী না হয়ে যায়.

Related search:

গর্ভাবস্থায় কতটা দুধ পান করছেন?

২. শুঁটি বা কলাই 

খাদ্যের এই গ্রুপে  মটর, মটরশুঁটি, বিনস, সয়াবিন ও চিনাবাদাম রয়েছে। এগুলিতে  ফাইবার, প্রোটিন, লোহা, ফোলেট (B9) এবং ক্যালসিয়াম থাকে যা সমস্ত শরীরে গর্ভাবস্থার সময় বেশ প্রয়োজন। এগুলি চমৎকার উদ্ভিদ ভিত্তিক উত্স। ফোলেট (বি 9)। মা এবং ভ্রূণের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বেশিরভাগ গর্ভবতী মহিলাদের ফোলোট  খেতে হয় না। এটি নিউরোল টিউব অকার্যকর হওয়া থেকে এবং কম ওজনের জন্ম ঝুঁকির থেকে রক্ষা করে। অপর্যাপ্ত ফোলেট খাওয়ার ফলে শিশুটির পরবর্তীতে ইনফেকশন এবং রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

৩. মিষ্টি আলু 

মিষ্টি আলু বিটা-ক্যারোটিন যুক্ত একটি উদ্ভিদ যৌগ যা শরীরে ভিটামিন এ রূপান্তরিত হতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ ভ্রুনের বৃদ্ধির জন্য এবং বেশীরভাগ কোষ ও টিস্যুর বিভেদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ যা সুস্থ গর্ভধারণের জন্য এটি খুবই জরুরি। গর্ভবতী মহিলাদের সাধারণত তাদের ভিটামিন এ খাওয়া ১০-৪০% বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে ভিটামিন এ খুব বেশী পরিমাণে প্রাণী ভিত্তিক উত্স থেকে এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়, যা অতিরিক্ত খাওয়াতে বিষাক্ত কারণ হতে পারে। মিষ্টি আলু বিটা ক্যারোটিনের একটি চমৎকার উৎস। প্রায় ১০০-১৫০ গ্রাম রান্নার মিষ্টি আলু সমগ্র RDI পূরণ করে। উপরন্তু, মিষ্টি আলু ফাইবার ধারণ করে, যা পূর্ণতা বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার স্পাইস কমাতে এবং পাচন স্বাস্থ্য এবং গতিশীলতা উন্নত করতে পারে।

৪. মাছ 

মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ ও প্রয়োজনীয় ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা গর্ভাবস্থায় শিশুর চোখ ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে. তবে বেশি তৈলাক্তক বা বড় মাছ ভুলেও খাবেন না যার ফলে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে. চেষ্টা করবেন ছোট মাছ খেতে যার মধ্যে ফ্যাট কম থাকে।

Related search:

গর্ভাবস্থায় তৈলাক্ত মাছ খাওয়া কি ভাল?

৫. ডিম 

ডিম একটি চূড়ান্ত স্বাস্থ্যকর খাদ্য, কারণ আপনার প্রয়োজনের প্রায় সব পুষ্টির কিছু অংশ থাকে এতে। একটি বড় ডিমে ৭৭ ক্যালোরি, উচ্চ মানের প্রোটিন এবং চর্বি রয়েছে। এতে অনেক ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। ডিম কোলিনের একটি বড় উৎস। মস্তিষ্কের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সহ শরীরের অনেক প্রসেসের জন্য কোলিন অপরিহার্য। গর্ভাবস্থায় নিম্ন কোলিন গ্রহণের ফলে নিউরোল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি বাড়ায় এবং সম্ভবত মস্তিষ্কের ফাংশন হ্রাস পায়। একটি সম্পূর্ণ ডিমের মধ্যে প্রায় ১১৩ মিলিগ্রাম কোলিন থাকে, যা গর্ভবতী মহিলাদের (৪৫০মিলিগ্রাম) জন্য প্রতিদিনের মাত্রাতিরিক্ত পানীয়ের ২৫%।

৬. সবুজ শাক সবজি 

সবুজ শাক সবজি গর্ভাবস্থায় মহিলাদের প্রয়োজন পুষ্টির অনেক কিছু রয়েছে। এতে ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, লোহা, ফোলেট এবং পটাসিয়াম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্রোকলি ও শাক সবজি এন্টোঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। তারা উদ্ভিদ সংমিশ্রণ ধারণ করে যা ইমিউন সিস্টেম এবং হজমে উপকার দেয়। উচ্চ ফাইবার কন্টেন্ট কারণে, এই সবজি কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে যা গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ সমস্যা। সবুজ, শাক সবজি চাষেও কম জন্মের ওজন কম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

৭. মাংস 

কম তেল ঝাল মশলা দিয়ে রান্না করা চিকেন বা মটন স্যুপ এই সময় বেশ উপকারী কারণ এতে কোলিন, ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ যা গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু তাই নয়, মাংস রক্তাল্পতা কমিয়ে শরীরে আয়রন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে.

৮. ফল 

ফল বিশেষ করে আঙ্গুর, বেরি কমলা, তরমুজ, ইত্যাদি খাওয়া খুব জরুরি। এই ফলের মধ্যে রয়েছে জল, ভিটামিন সি, ফাইবার। তার ওপর গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে বমি বমি ভাব থাকার ফলে কিছু খেতে ইচ্ছে করেন, কিন্তু এইসব ফলগুলির সুগন্ধ ও ত্বক মিষ্টি স্বাদ এই সময় বেশ ভালো লাগে ও মুখে স্বাধ ফিরিয়ে আনে। 

প্রথম ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন না 

১. কাঁচা খাবার 

রান্না না করা কাঁচা সবজি বা যেকোনো আধা রান্না করা মাংস, মাছ, ডিম, না ফোটানো দুধ ইত্যাদি খাবার ভুলেও এই সময় খাবেন না কারণ কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা খাদ্যে থাকে বিষাক্ত জীবাণু যা বিশেষ করে সবজিতে কেমিক্যাল পেস্টিসাইড থেকে এসে থাকে। এই বিষাক্ত জীবাণু আপনার শিশুর ক্ষতি করতে পারে ও গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।

২. না ধোয়া খাদ্য 

 আপনার অনেক সময় ভুল বসত অভ্যেস হয়ে যায় না ধুয়ে ফল বা বাদাম জাতীয় খাদ্য খাওয়ার। কিন্তু এখন ভুলে গেলে চলেনা যে আপনি আর এক নন. তাই ফল বা বাদাম খাবার আগে ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নেবেন।

৩. এলকোহল বা ক্যাফেইন 

 

মদ বা যেকোনো মাদক বা এলকোহল গর্ভপাতের প্রধান কারণ। মদ খাবার অভ্যেস না থাকলেও আপনি যদি কফি বা চায়ের প্রতি আসক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে এই সময় থেকে নিজেকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন। দিনে একবার এক কাপ কফি আপনি খেতেই পারেন, কিন্তু তার বেশি নয়. এগুলি শিশুকে সুরক্ষিত রাখা এমনিওটিক স্যাকের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে ও আপনার কোষ্টকাঠিন্যেরও কারণ হতে পারে।

৪. কাঁচা পেঁপে 

কাঁচা পেঁপের মধ্যে থাকে প্যাপেইন যা ভ্রূণকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। কাঁচা পেঁপে গর্ভপাতের প্রধান কারণের  মধ্যে একটি। প্রথম ত্রৈমাসিকে ভ্রুন বেশ অপরিপক্ক অবস্থায় থাকে যা কাঁচা পেঁপে খেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক 

গর্ভাবস্থার ১৩তম সপ্তাহ থেকে ২৭ সপ্তাহ সময়টিকে বলা হয় দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক। এই সময় বমি বমি ভাব কমে আপনি বেশ নিজেকে উপভোগ করতে পারেন ও শিশুর আন্দোলন অনুভব করার সময় হয়ে আসে. এমনকি যৌন ইচ্ছাও এই সময় ফিরে আসে.

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন

১. প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ 

প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস কম ফ্যাট যুক্ত দুধ এই সময় আপনার জন্যে অমৃত, শক্তি প্রদানকারী খাদ্য ও শিশুর সুরক্ষা অস্ত্র হিসেবে কাজ দেবে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ডি। যদি আপনার দুধ খেতে অসুবিধা থাকে তাহলে প্রতিদিন দই খেতে ভুলবেন না. এছাড়া মাঝে মাঝে মাখন, ঘি, ছানাও খেতে পারেন।

২. ভুট্টা 

ভুট্টায় রয়েছে ভিটামিন সি, এডিবল অয়েল, ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা আপনি স্যালাড করে বা পাউরুটিতে স্যান্ডউইচ করে খেতে পারেন। গর্ভাবস্থায় এর পুষ্টিগুনগুলি বেশ উপকারী।

৩. নানারকমের সবজি 

এই সময় সবজিতে কোনো বাধা নেই তাই নির্দ্বিধায় যেকোনো সবজি খান. তবে অবশ্যই তা ভালোভাবে রান্না করে বা সেদ্ধ করে. আপনার শরীরে জট ফাইবার যাবে ততবেশি আপনার হজম শক্তি বাড়বে ও কস্কটকাঠিন্যঃ মুক্ত হবেন। 

৪. কুমড়োর বীজ ও সরষে 

কুমড়োর বীজ ও সরষে আপনাকে পরিশুদ্ধ পরিমানে ওমেগা ৩ প্রদান করবে। এটি আপনি ভেজে স্যালাড বা তরকারি করে খেতে পারেন।

৫. ড্রাই ফ্রুট 

ড্রাই ফ্রুট অর্থাৎ বাদাম, খেজুর, আমন্ড, আখরোট, কিসমিস, কাজু গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম ও আয়রন প্রদান করে.

Related search:

গর্ভাবস্থার সময় কাজু বাদাম খাওয়ার ফলাফল জানেন?

৬. ব্রাউন রাইস 

ব্রাউন রাইস গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফাইবারের উৎস. 

৭. ডার্ক চকোলেট 

আপনিও ভাবতেও পারবেন না ডার্ক চকোলেটে থাকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও আয়রন। গর্ভাবস্থায় রোজ একবার ডার্ক চকোলেট আপনার মানুষিক ভারসাম্য বজায় রাখবে ও শরীরে ভালো হরমোন প্রদান করবে।

Related search:

গর্ভাবস্থায় ডার্ক চকলেট খাওয়ার প্রভাব কেমন?

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন না 

১. সাদা পাউরুটি বা সাদা চাল 

এই খাবার আপনার রক্তচাপ দ্রুতগতিতে এবং আপনার রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা বৃদ্ধি করে। এই স্পাইকগুলি নিষ্ঠুর নবজাতকের বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে তাদের মস্তিষ্কের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি আপনি একই পরিমাণে ক্যালোরি খেতে চান তবে স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলির সাথে খাবারগুলি খান যেমন স্যুপ। আপনার বাচ্চাকে জন্ম দেওয়ার সময় শরীরে কম চর্বি থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে তার স্থূলতা কম হওয়ার সম্ভাবনা রাখতে হবে। সুতরাং, সাদা পাউরুটি বা চাল না খেয়ে ব্রাউন ব্রেড, গমের রুটি,  বাদামী চাল এবং oatmeal খান।

২. যেসব খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ 

আপনার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের সময়, কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সমস্যা হতে পারে এবং এটি অনেক অসঙ্গতির কারণ হতে পারে। যদি আপনি বুঝতে পারেন যে কোনও বিশেষ খাবারের আইটেম আপনাকে আক্রান্ত করতে পারে, তাহলে তা খাবেন না। পরিবর্তে, ফল এবং সবজি প্রচুর পরিমাণে খান এবং প্রচুর জল পান করুন, যাতে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা কম হবে।

৩. এলকোহল 

আগেই বলিচি এই সময় এলকোহল আপনার শিশুর ওপর অসম্ভব ক্ষতি করতে পারে তা এলকোহল ভুলেও পান করবেন না.

৪. কৃত্রিম সুইটনার 

গবেষকরা এখনও পুরোপুরি প্রমাণ করেননি যে কৃত্রিম সুইটনার শিশুকে ক্ষতি করে কি না, কিন্তু এটা সুপারিশ করা হয় যে গর্ভবতী নারীরা তাদের তৈরি করা রক্ষণশীল ও রাসায়নিক পদার্থের কারণে কৃত্রিম সুইটনার সংগ্রহ করে তাদের উপকারিতার চেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন।

৫. চিনি

অতিরিক্ত চিনি আপনার ওজনের উপর নির্বাণ হতে পারে। আপনার গর্ভাবস্থায় ওজন কমানোর চেষ্টা করা (বা এমনকি এটি হ্রাস করার চেষ্টা) একটি উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত নয় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ানো আপনার বা আপনার সন্তানের জন্য ভাল হবে না। 

Related search:

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস

৬. ক্যাফিন

যদি আপনি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করেন, তবে আপনার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের সময় আপনার আসক্তি ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত কমাবেন। 

৭. জাঙ্ক / মসলাযুক্ত / আম্লিক খাবার

যদিও এটি সুপারিশ করা হয় যে আপনি দিনে কয়েকবার ছোট অংশ জাঙ্ক খাদ্য খেয়ে থাকেন, আপনার পুষ্টির খাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখুন এবং এটিও একটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ফল বা সবজির মত স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান.

৮. কাঁচা খাবার এবং অর্ধেক রান্না করা মাছ

মূলত, আপনার সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থায় এই ধরণের খাবারের থেকে  দূরে থাকা উচিত।

তৃতীয় ত্রৈমাসিক 

গর্ভাবস্থার ২৮তম সপ্তাহ থেকে ৪০তম সপ্তাহকে তৃতীয় ত্রৈমাসিক বলা হয়. এই সময় আপনার গর্ভের শিশু একেবারে প্রস্তুত জন্ম নেওয়ার জন্যে ও আপনি প্রস্তুত হতে পারেন প্রসবের জন্যে। ডাক্তার এইসময় আপনাকে নির্দিষ্ট একটি তারিখও দিতে দিতে পারেন। এই সময় ভীষণ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন

এই সময় আপনার খাদ্য তালিকায় যুক্ত করুন ভুট্টা, বিনস, টমেটো, দল, ফল, বাদাম, ছোলা, অভ্যাক্যাডো, মাছ ও মাংস।

তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কি কি খাবেন না

ভুলেও নিচের উল্লেখিত খাদ্যগুলি এই সময় খাবেন না.

১. কাঁচা দুধ 

২. কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা মাংস 

৩. জাঙ্ক খাবার 

৪. চাইনিস খাবার 

৫. স্টিট ফুড 

৬. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাদ্য 

৭. কাঁচা বা হাফ বয়েল ডিম

৮. আনারস 

৯. জিরা 

১০. এলোভেরা 

১১. পেঁপে 

সারাংশ:

গর্ভাবস্থায় বা প্রেগন্যান্সির সময় খাদ্যের প্রভাব আপনাকে ও আপনার শিশুকে যেমন  পুষ্টি প্রদান করে তেমন ভুল খাদ্য আপনার শিশুর ক্ষতিও করতে পারে। তাই গর্ভাবস্থার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভেবে চিনতে খাদ্য গ্রহণ করুন। কি কি খাবেন ও কি কি খাবেন না তার বিস্তারিত জ্ঞান এই পোস্টে দেওয়া হল.

গর্ভাবস্থায় গ্যাস কমানোর জন্য ৫ টি খাবার

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon