Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন বা প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতার প্রধান ৬ টি কারন কি?


‘পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন’ বা প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা একটি সাধারন মানসিক সমস্যা যা মুলত প্রসবের পর লাইফস্টাইলে হঠাৎ পরিবর্তনের কারনে হয়ে থাকে । এই ডিপ্রেশন প্রসবের পর কয়েকদিন বা কয়েক মাস ধরেও চলতে পারে । পূর্বের একটি ঘটনা যেমন ভবিষ্যতের অন্য একটি ঘটনার সম্ভাবনা ৭০% বৃদ্ধি করতে পারে, তেমনই পরিবারের কোন সদস্যের মানসিক অসুস্থতা, বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত রাগ ইত্যাদি সমস্যার ইতিহাস থেকে থাকলে তার জিন গত প্রভাবে আপনার মধ্যেও পোস্টপারটাম ডিপ্রেশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

এছাড়াও আরো অন্যান্য কিছু কারন আলোচনা করা হল, যার কারনে পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন এর সমস্যা দেখা দিতে পারে –

১. সাম্প্রতিক কালে আপনাকে অত্যন্ত ‘স্ট্রেসড’ দেখায় । যার সম্ভাব্য কারন গুলি হতে পারে –

- প্রেগনেন্সি সংক্রান্ত সমস্যা – অবসাদ, নিদ্রাহীনতা, শিশুকে স্তন্যপান করাতে সমস্যা যা পরবর্তীকালে মনে অক্ষমতার অনুভব সৃষ্টি করে ।

- প্রসব সংক্রান্ত সমস্যা – ‘সিজার’ পদ্ধতিতে প্রসবের সময় অস্বাভাবিক মানসিক অবস্থা এই সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম । আরো দেখা গেছে, যেসকল মহিলাদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রসব হয় তাদের মধ্যে প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতার ঝুঁকি বেশি ।

- লাইফস্টাইলে হঠাৎ পরিবর্তনের কারনে সমস্যা – আত্মসম্মানবোধের অভাব, ব্যর্থতা/ক্ষতি/হতাশার ভয়, কিংবা প্রস্তুতির অভাবের ভয় ( যেমন প্রথমবার মা হওয়ার অনুভূতি, খুব কম বা বেশি বয়সে প্রসবের অনুভূতি ) ।

- শিশুর কারনে সমস্যা – কিছু কিছু শিশু থাকে যারা অন্যান্য শিশুদের চেয়ে বেশি কান্নাকাটি করে, তাদের সামলানো খুবই কঠিন । এবং তাদের খিদে, ঘুমানোর সময় ইত্যাদি অনুমান করা খুবই কঠিন ।

কিছু শিশু জন্মগত বিভিন্ন সমস্যার শিকার হয়, তাদের প্রতি আলাদা নজর রাখতে হয় । তার উপর মায়ের পাশে যদি কেউ না থাকেন, তবে তার মনে স্ট্রেস দিন দিন বাড়তে থাকে এবং দিনের পর দিন স্ট্রেসের কারনে বিষণ্ণতার শিকার হতে পারেন ।

- পারিবারিক সমস্যা – বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক সমস্যা যেমন শাশুড়ির সাথে খারাপ সম্পর্ক, অসুখকর বিবাহের সমস্যা যার ফলে বিচ্ছিন্নতা, মানসিক এবং সামাজিক সমর্থনের অভাব । এই কারণগুলি পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে ।

২. ঘরোয়া বিবাদের মত বিভিন্ন পারিবারিক হিংসার শিকার ।

৩. প্রেগনেন্সি ব্যাতিত অন্য কোন ডিপ্রেশন, যা পোস্টপারটাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি ৩০% বৃদ্ধি করে ।

৪. বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার উপসর্গ যার কারনে মেজাজ এবং শারীরিক নিয়ন্ত্রন নষ্ট হয় ।

- বার বার ঋতুস্রাব পূর্বের লক্ষন ।

- হাইপারথাইরয়ডিসম ( বেশি থাইরয়ড হরমোন নিঃসরণজনিত সমস্যা ) ।

- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ।

৫. অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ, গর্ভধারণ সম্পর্কে বিভ্রম এবং নিশ্চিত না হওয়া ।

৬. মিশ্র সাংস্কৃতিক অঞ্চল / প্রদেশ – গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়া বা প্রাচ্যের দেশগুলিতে ( যেমন ভারত ) পাশ্চাত্য দেশগুলির তুলনায় প্রেগনেন্সির পর পোস্টপারটাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি অনেকাংশে কম । তার কারন, এশিয়া বা প্রাচ্যের দেশগুলিতে যেভাবে একজন মা প্রেগনেন্সির পর মানসিক ও সামাজিক সমর্থন পায়, তাতে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় । তাই, আমাদের দেশে মা হওয়ার চাহিদার মাত্রা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী । আমাদের দেশে প্রেগনেন্সির পর একজন মা পরিবারের কাছ থেকে যে ভালবাসা এবং আশ্বাস পায় তাতে বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে ।

পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন বা পোস্টনাটাল এর মত মানসিক সমস্যা সন্তান প্রসবের প্রথম ২ বা ৩ সপ্তাহে লক্ষ্য করা যেতে পারে । এটি খুবই বিরল সমস্যা, এবং বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক কারনে এই সমস্যা হয়ে থাকে । এই সমস্যা জিনগত কারনে, পারিবারিক কোন সদস্যের পোস্টপারটাম ডিপ্রেশণের কোন পূর্ব ইতিহাস থাকলে, শরীরে হরমোন মাত্রার হেরফের হলে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে হয়ে থাকে ।

দাবী পরিত্যাগ : এই প্রতিবেদনে পরিবেশিত সমস্ত তথ্য কে চিকিৎসা উপদেশ হিসেবে গ্রহন করবেন না । নিজের এবং নিজের সন্তানের কোন শারীরিক অসুবিধার ব্যাপারে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শই গ্রহন করুন । 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon