Link copied!
Sign in / Sign up
6
Shares

পৌষ-পার্বনে বাড়িতে বানান বিভিন্ন স্বাদের পিঠা


ভাপা পিঠার নাম শুনলেই মিষ্টি গুড় আর নারকেলের লোভনীয় ঘ্রাণ নাকে চলে আসে? শীতের দিনগুলোতে মা-কাকিমার হাতের তৈরি পিঠা-পায়েশের জন্য মন কেমন করে নিশ্চয়ই। সেই ছেলেবেলা, খেজুর রসের ঘ্রাণ আর ধোয়া ওঠা মজাদার সব পিঠার কথা মনে পড়ে স্মৃতিকাতর হয়ে যান হয়তো। কিন্তু যান্ত্রিকতার এই শহরে সেসবের দেখা পাওয়া মুশকিল। নিজেই যদি পরিবারের জন্য বা প্রিয় মানুষটির জন্য পৌষ-পার্বনে মজার সব পিঠা তৈরি করে চমকে দেন, তবে কেমন হয়

১. ভাপে পুলিপিঠা

উপকরণ:

পুরের জন্য: নারকেল কুড়ানো - ২ কাপ, খেজুরের গুড় - ১ কাপ, চালের গুড়া - ২ টেবিল চামচ (হালকা চেলে নেয়া), এলাচি গুড়া - ১/২ চা চামচ।

ডো এর জন্য: চালের গুড়ো (আতপ চাল) -৩ কাপ, ময়দা - ১ কাপ, জল - ৩ কাপ, সয়াবিন তেল - ১ টেবিল চামচ, নুন - পরিমানমতো।

প্রণালি: নারকেল কোড়ানো, খেজুরের গুঁড়, টেলে নেয়া চালের গুড়ো, এলাচি গুড়া এই সব উপকরণগুলো একসাথে জ্বাল দিতে হবে। আঠালো হয়ে এলে নামিয়ে ফেলতে হবে। একটি হাড়িতে জল নিয়ে তাতে অল্প নুন ও তেল দিয়ে ফোটাতে হবে। ফুটে উঠলে চালের গুড়ো ও আধা কাপ ময়দা দিয়ে নাড়তে হবে। ভালো ভাবে নেড়ে মিশে গেলে গ্যাস ওভেন থেকে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা করে, ডো বানাতে হবে। যদি কিছুটা নরম থাকে ময়দা মিশিয়ে ঠিক করতে হবে। অনেকক্ষণ মথে একটা মসৃণ ডো বানাতে হবে। এবার ছোট ছোট গোল চ্যাপ্টা রুটির মত করে মাঝে নারকেলের তৈরি করা মিশ্রণ কিছুটা দিয়ে দুই মাথা বন্ধ করে দিতে হবে। হাতে বানাতে না পারলে পিঠার ছাঁচেও বানাতে পারেন। এবার স্টিমারে ৩০ মিনিট বা পিঠা না হওয়া পর্যন্ত স্টিম করতে হবে। স্টিমার না থাকলে হাঁড়িতে জল দিয়ে তার উপর ছিদ্র করা থালা রেখে পিঠা সেদ্ধ করতে দিন। সেদ্ধ হয়ে গেলে একটি চালুনিতে রেখে হাওয়াতে ছড়িয়ে দিন।

২. সেমাই পিঠা

উপকরণ: চালের গুড়ো- ২ কাপ, লিকুইড দুধ- ৩ লিটার, কনডেন্সড মিল্ক- ১ টিন (ইচ্ছা), চিনি- স্বাদমতো, খেজুরের গুঁড়- ১/২ কাপ, এলাচ গুড়ো- ১ চা চামচ, নুন- সামান্য, জল- পরিমাণমতো, কিসমিস, পেস্তা- সাজানোর জন্যে

প্রণালি: জল ফুটিয়ে চালের গুড়ো দিয়ে ডো করে নিন। গ্যাস ওভেন থেকে হাঁড়ি নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে বেশ ভালোভাবে ডো-তে ময়ান দিয়ে নিন। ময়ান দেয়া হলে অল্প করে ডো নিয়ে লেচি কেটে সেমাই বানিয়ে নিন। সব বানানো হলে গ্যাস ওভেনে দুধের হাঁড়ি বসান। দুধ ফুটে উঠলে এক কাপ দুধ উঠিয়ে রাখুন। এই এক কাপ দুধ ঠান্ডা করে তাতে গুঁড় গলিয়ে ছেঁকে রাখুন। এবার দুধের সাথে কনডেন্সড মিল্ক, এলাচ গুড়ো ও স্বাদমতো চিনি দিয়ে জ্বাল করুন। চিনির জল শুকিয়ে গেলে অল্প অল্প করে তৈরি করে রাখা সেমাই মিশিয়ে নিন। পছন্দমতো ঘন হলে নামিয়ে নিন। সেমাই কুসুম গরম হলে গুঁড়-দুধের মিশ্রণ মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে কিসমস ও পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

৩. দুধ পুলি

উপকরণ :

মাখা: চালের গুড়ো দেড় কাপ, জল ২ কাপ, নুন পরিমাণমতো।

পুরের জন্য : নারিকেল কোরানো ২ কাপ, লবঙ্গ ৩/৪টি, ময়দা ১ টেবিল চামচ, গুড় ১ কাপ, এলাচ ৩/৪টি

ক্ষীরের জন্য : দুধ ২ লিটার, গুড় ১/২ কাপ, চিনি ১/২ কাপ, নুন ১ চিমটি

প্রনালি : কড়াইতে জল দিন। জল ভাল মত ফুটে নুন ও চালের গুড়ো দিয়ে ভাল করে নাড়ুন। নামিয়ে গরম অবস্থায় হাতে একটু জল লাগিয়ে মাখা তৈরি করুন। পিঠার সব উপকরণ একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে আঠা হয়ে এলে পরে ময়দা দিয়ে নাড়ুন। আঠালো হলে নামিয়ে দিন। ২ লিটার দুধ কে জ্বাল দিয়ে ১ লিটার করুন। এখন ক্ষীরের বাকি উপকরণ গুলো দিয়ে নাড়ুন। মাখার ছোট ছোট গোল করে ভিতরে পুর দিয়ে পুলি বানান। ফুটন্ত জলর হাঁড়ির মুখে বাঁশের চালুনির উপর পুলি রেখে ভাপে সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে দিন। ক্ষীরের মধ্যে পুলি পিঠা গুলো দিয়ে কিছুক্ষন জ্বাল দিন। নামিয়ে ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন।

৪. গোলাপ পিঠা

উপকরণ : দুধ ২ কাপ, ময়দা ৩ কাপ, চিনি ৪ টেবিল চামচ, নুন সামান্য, ঘি ২ টেবিল চামচ।

সিরার উপকরণ : চিনি ৩ কাপ, জল দেড় কাপ, দারুচিনি ২ টুকরা। সব উপকরণ একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে সিরা করতে হবে।

প্রণালি : দুধ গরম হলে চিনি, নুন, ময়দা দিয়ে কাই করে নিতে হবে। পরে ঠাণ্ডা হলে অল্প অল্প করে ঘি দিয়ে ভালো করে মেখে রুটি বেলে দুই ইঞ্চি ব্যাসে গোল গোল করে কেটে গোলাপ তৈরি করতে হবে। গরম ডুবোতেলে বাদামি রং করে ভেজে সিরায় ছাড়তে হবে।

৫. নারকেলের তিল পুরি

উপকরণ: কুরানো নারকেল ২ কাপ, ভাজা তিলের গুঁড়া আধা কাপ, খেজুরের গুড় ১ কাপ, আতপ চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, এক চিমটি এলাচ গুঁড়া, দারচিনি ২-৩টা, আতপ চালের গুঁড়া ২ কাপ, জল দেড় কাপ, নুন স্বাদমতো, ভাজার জন্য তেল দুই কাপ।

প্রণালী: কুরানো নারকেলে গুড় দিয়ে ১৫-২০ মিনিট রান্না করতে হবে। একটু শক্ত হয়ে এলে এলাচ, তিল ও চালের গুঁড়া ছড়িয়ে আরও একটু রান্না করতে হবে। তেল উঠে পুর যখন পাকানোর মতো শক্ত হবে, তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে লম্বাভাবে সব পুর বানিয়ে রাখতে হবে। এবার চালের গুঁড়া সেদ্ধ করে ভালোভাবে গ্যাস ওভেনর আঁচ কমিয়ে নাড়তে হবে, যাতে মাখাতে কোনো চাকা না থাকে। একটু ঠান্ডা হলে জল ছিটিয়ে ভালো করে ছেনে রুটি বানাতে হবে। রুটির এক কিনারে পুর রেখে বাঁকানো চাঁদের মতো উল্টে পিঠে আটকে দিতে হবে। এবার টিনের পাত অথবা পুলিপিঠা কাটার চাকতি দিয়ে কেটে নিতে হবে। কিনারে মুড়ি ভেঙে ও নকশা করা যায়। গরম তেলে মচমচে করে ভাজতে হবে।

 

৬. চিতইপিঠা

উপকরণ: চালের গুড়া ২ কাপ, জল ও, নুন পরিমাণমতো।

প্রণালী: চালের গুড়োতে জল মিশিয়ে তরল মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন বেশি পাতলা বা বেশি ঘন যেন না হয়। তবে পাতলা গোলা করলে পিঠা সুন্দর নরম হয়। যে পাত্রে পিঠা ভাজবেন সেটাতে সামান্য তেল মাখান। এখন পাত্রটি হালকা গরম করে ২ টেবিল চামচ চালগোলা দিয়ে ঢেকে দিন। ২-৩ মিনিট পর পিঠা তুলে ফেলুন। বিভিন্ন রকম ভর্তা, ভুনা মাংস দিয়ে এই পিঠা খেতে বেশ মজা।

৭. দুধচিতই

উপকরণ: চালের গুড়া ২ কাপ, জল ও, নুন পরিমাণমতো, ১ লিটার দুধ, গুড় ২ কাপ ।

প্রণালী: চালের গুড়ায় জল মিশিয়ে তরল মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন বেশি পাতলা বা বেশি ঘন যেন না হয়। তবে পাতলা গোলা করলে পিঠা সুন্দর নরম হয়। যে পাত্রে পিঠা ভাজবেন সেটাতে সামান্য তেল মাখান। এখন পাত্রটি হালকা গরম করে ২ টেবিল চামচ চালগোলা দিয়ে ঢেকে দিন। ২-৩ মিনিট পর পিঠা তুলে ফেলুন। ১ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে সামান্য ঘন করুন। আলাদা করে দেড়কাপ জলে ২ কাপ গুড় জ্বাল দিয়ে গুড়ের সিরা তৈরি করুন। সিরায় পিঠা ছেড়ে গ্যাস ওভেনে দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ঠাণ্ডা হলে দুধ দিয়ে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখুন।সকালে এই পিঠা খেতে মজা।

৮. দুধের হাতকুলি

উপকরণ: ঘন দুধ ২ লিটার, রান্না করা নারকেলের পুর ২ কাপ, খেজুরের গুড় মিষ্টি অনুযায়ী, জল ১ কাপ, আতপ চালের গুড়ো দিয়ে বানানো সিদ্ধ মাখা ২ কাপ, কাজু কিশমিশ পরিমাণমতো, মাওয়া আধা কাপ, এলাচ গুড়ো সামান্য

প্রণালী: হাতে ছোট ছোট পুরির আকারে মাখাতি নিয়ে একটু গর্ত করে তাতে পুর ভরে ভালোভাবে আটকে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। পিঠার মুখ ভালো করে না আটকালে দুধে ভেজালে ভেঙে যেতে পারে। এভাবে সব পিঠা বানানো হলে গ্যাস ওভেনে গুড়-জল দিয়ে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। আস্তে আস্তে ঘন দুধ দিয়ে আরও দু-তিন মিনিট রেখে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পিঠা ছড়িয়ে দিতে হবে। পিঠা সিদ্ধ হয়ে গেলে মাওয়া দিয়ে মাখাতে হবে। সুন্দর বাটি বা ডিশে বেড়ে ওপরে বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

৯. নকশি পিঠা

উপকরণ: চালের গুড়ো ৪ কাপ, জল তিন কাপ, নুন সামান্য, ঘি ১ টেবিল চামচ, ভাজার জন্য তেল ৫০০ গ্রাম।

সিরার জন্য: গুড় ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, জল ২ কাপ জ্বাল দিয়ে সিরা বানাতে হবে।

প্রণালী: জলে নুন ও ঘি দিয়ে গ্যাস ওভেনে দিন। ফুটে উঠলে চালের গুড়ো দিয়ে সেদ্ধ করে কাই বানাতে হবে। আধা ইঞ্চি পুরু করে রুটি বানিয়ে পছন্দমতো আকার দিয়ে কেটে নিন। খেজুর কাঁটা দিয়ে রুটিতে পছন্দমতো নকশা করুন। এবার প্রথমে ডুবোতেলে ভেজে নিন। কিছুক্ষণ পর আবার তেলে ভেজে সিরায় দিয়ে ১ মিনিট রেখে তুলে নিন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন।

 

১০. মালপুয়া পিঠা

উপকরণ: আতপ চালের গুড়ো ৩ কাপ, মিহি করে বাটা নারকেল আধা কাপ, ময়দা ১ টেবিল-চামচ, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, খেজুরের গুঁড় বা রস মিষ্টি অনুযায়ী, জল পরিমাণমতো, ডিম ২টি, এক চিমটি নুন এবং তেল ১ কাপ।

প্রণালী:তেল ছাড়া সবকিছু মিশিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার তেল গরম হলে গোল চামচে গোলা নিয়ে একটা একটা করে ভেজে তুলুন।

পিঠা নরম রাখার উপায়:

১. পিঠা তৈরির করার আগে যদি চালের গুঁড়োতে কিছুটা খই মাখিয়ে নেওয়া হয় তবে পিঠা নরম হয় এবং খেতেও ভালো লাগে।

২. ভাত বেটে গোলার সঙ্গে মিশিয়ে নিলেও একই কাজ করবে অর্থাৎ পিঠা নরম হবে।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Tinystep Baby-Safe Natural Toxin-Free Floor Cleaner

Dear Mommy,

We hope you enjoyed reading our article. Thank you for your continued love, support and trust in Tinystep. If you are new here, welcome to Tinystep!

Recently, we launched a baby-safe, natural and toxin-free floor cleaner. Recommended by moms and doctors all over India, this floor-cleaner liquid gets rid of germs and stains without adding harmful toxins to the floor. Click here to buy it and let us know if you liked it.

Stay tuned for our future product launches - we plan to launch a range of homecare products that will keep your little explorer healthy, safe and happy!

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon