Link copied!
Sign in / Sign up
18
Shares

বৈচিত্রে ভরা বাঙালির প্রিয় খাবার পিঠা


শীত মানেই শীতের পিঠা । বিকেলে কিংবা সকালে শীতের পিঠার জুড়ি নেই। পিঠা পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া আমার কাছে মনে হয় কঠিন কাজ । তাইতো শীতের পিঠার রেসিপি । কম খরচে ও খুব সহজেই ঘরেই তৈরী করতে পারেন এই পিঠা। যদিও সকল খাবারের মুল উপকরণ সাজসজ্জা বা ডেকরেশন।

১. নারকেলের পুলি পিঠা

উপকরণ: নারকেল ১টি, চালের গুঁড়া আধা কেজি, চিনি ১ কাপ, ময়দা সোয়া কাপ, জল ১ কাপ, নুন স্বাদমতো, তেল পরিমানমতো৷

প্রণালী: প্রথমে নারকেল কুড়িয়ে নিন। এবার কড়াইয়ে নারকেল ও চিনি এক সঙ্গে দিয়ে পুর তৈরি করে নিন। এবার জল ফুটিয়ে চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে ডো তৈরি করে নিন। চালের গুঁড়া সিদ্ধ হলে নামিয়ে ভালো করে মেখে নিন। এবার ছোট ছোট লেচি কেটে পুর ভরে মুখ বন্ধ করে পুলি বানিয়ে নিন। বানানো হয়ে গেলে কড়াইয়ে তেল গরম করে ডুবো তেলে ভাজুন।

২. ঝিনুক পিঠা

উপকরণ: আটা বা ময়দা পরিমাণ মতো, চিনি, নারিকেল কোরানো, সয়াবিনের তেল, এলাচ ও দারুচিনি, একটি তালপাখা।

পদ্ধতি: প্রথমে একটি পাত্রে পরিমাণ মতো আটা বা ময়দার মধ্যে চিনি ও খুব অল্প পরিমাণ কোরানো নারিকেল দিয়ে জল গরম করে সিদ্ধ করে নিন। তারপর সিদ্ধ করা ময়দা ঠাণ্ডা করে হাত দিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে ছোট ছোট লম্বা টুকরো করে রাখুন। এবার তালপাখা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। শুকানো হয়ে গেলে সিদ্ধ ময়দার লম্বা করা টুকরাগুলো তালপাখার গোড়ার চিকন দিকে দিয়ে হাত দিয়ে চাপ দিন। দেখবেন পিঠাগুলো দেখতে একদম ঝিনুকের মতো দেখাবে। অন্য একটি পাত্র জল, চিনি, এলাচ ও পরিমাণ মতো দারুচিনি নিয়ে হালকা গাঢ় করে চিনির সিরা তৈরি করুন। এবার আর একটি পাত্রে পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল দিয়ে গ্যাস ওভেন গরম করুন। এবার তালপাখা দিয়ে তৈরি করা পিঠাগুলো ভাজুন। হালকা বাদামি রং হলে নামিয়ে চিনির সিরার মধ্যে চুবিয়ে অন্য পাত্রে রাখুন।

৩. সবজির পাটিসাপটা

উপকরণ: ময়দা – ১ কাপ, সুজি – ১/২ কাপ, ডিম – ২ টি , গাজর মিহি কুঁচি – ১ টি, বাঁধাকপি মিহি কুঁচি – ১/২ কাপ, পেঁয়াজ, কুঁচি – ১ টি, কাঁচা লঙ্কা কুচি – ৪/৫ টি , সয়া সস – ২ টেবিল চামচ, নুন – স্বাদ মত, তেল – পরিমান মত, ধনে পাতা কুঁচি – ১ গোছা ।

প্রণালী: প্রথমে ময়দা আর সুজি একটি বাটিতে নিয়ে তাতে সামান্য নুন ও একটি ফেটানো ডিম দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে গোলা তৈরি করুন। প্রয়োজনে একটু জল মেশান। মোটামুটি ঘন একটি গোলা তৈরি করতে হবে যেটা আপনি প্যানের ওপর পাটিসাপটার মত ছড়িয়ে দিতে পারবেন। গোলাটি মূল রান্নার ৩০ মিনিট আগেই তৈরি করে রাখতে হবে। এবার কড়াইতে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা কুচি বাদামি করে ভেজে নিন। এবার সবজিগুলো দিয়ে দিন। পরিমান মত নুন দিন। মিনিট পাঁচেক রান্না করুন। একটু নরম হলেই একটি ডিম ফেটিয়ে নিয়ে তাতে ছেড়ে দিন। ভালো করে মিশিয়ে নিন। সয়াসস দিয়ে নেড়েচেড়ে বেশ মাখামাখা হয়ে আসলে ধনেপাতা কুঁচি ছিটিয়ে নামিয়ে নিন। এবার ননস্টিক প্যান বা তাওয়া গরম করে তেল দিয়ে ব্রাশ করে নিন। ব্রাশ না থাকলে একটা ছোট কাপড় চামচে বেঁধে টেলে দুবিয়ে সেটা দিয়ে তাওয়াটা ভালো করে মুছে দিতে পারেন। এবার ২ টেবিল চামচ গোলা প্যানে ঢেলে সমান ভাবে গোল করে ছড়িয়ে দিন। এসময় আঁচ কম রাখতে হবে। গোলাটা একটু শুকিয়ে আসতে শুরু করলে খুন্তি দিয়ে নিচের দিক টা তুলে নিন। উলটে দেবেন না। এবারে ২ চামচ ডিম-সব্জির পুর পাটিসাপটার এক পাশে লম্বা করে বিছিয়ে দিন। তারপরে সাবধানে চামচের সাহায্যে পাটিসাপটার মত রোল করুন। মুড়িয়ে নেয়ার পর আরও ২/৩ মিনিট তাওয়ায় রাখুন, উল্টে-পাল্টে ভালোভাবে সেঁকে নিন।সস দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

৪. সাবুদানা পিঠা

উপকরণ: সাবুদানা ১/২ কাপ, ময়দা ১ কাপ, চিনি ১/২কাপ, নুন পরিমানমত , জল ১ কাপ, তেল ভাজার জন্য।

প্রণালী: কড়াইতে জল নিয়ে তাতে নুন ও চিনি দিয়ে মাঝারি আঁচে গ্যাস ওভেন দিন। জল ফুটে উঠলে তাতে সাবুদানা ও ময়দা একসাথে মেখে ডো তৈরী করুন। এবার পিঁড়িতে ১/২ ইঞ্চি পুরু রুটি বেলে তা বরফি আকারে বা অন্য যে কোন নকশায় কেটে কড়াইতে ডুবো তেলে ভেজে নিন। ব্যস্ হয়ে গেল মজাদার সাবুদানা পিঠা।

৫. দুধের রাবড়িতে ভেজা সুজির পিঠা

উপকরণ: সুজি দুই কাপ, ডিম দুইটি বেকিং পাউডার ১/২ চা চামচ, চিনি এক কাপ, দুধ এক লিটার, পেস্তা বাদাম, কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম ব্লেন্ড করা ২ টেবিল চামচ, তেল ভাজার জন্য

প্রণালী:

সুজির পিঠার জন্য: একটি পাত্রে সুজি, ডিম, দুই টেবিল চামচ চিনি, বেকিং পাউডার নিয়ে মিশিয়ে ডো তৈরি করে নিন। গ্যাস ওভেন তেল গরম করে নিন। গরম তেলে গোল চামচ দিয়ে ডো গুলো অল্প অল্প করে দিন। একদম হালকা করে ভেঁজে তুলে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন, যেন পিঠা বেশি ভাঁজা না হয়। নতুবা ভেতরে দুধ ঢুকবে না।

দুধের রাবড়ির জন্য: একটি পাত্রে এক লিটার দুধ গরম দিন। এর সাথে এক কাপ চিনি মিশিয়ে নিন। দুধ ঘন করে পৌনে এক লিটার করুন। এবার ব্লেন্ড করে রাখা বাদাম মিশিয়ে নিন। আরো কিছুক্ষন নাড়ুন।

দুধে ভেজানো: তেলে ভেঁজে রাখা পিঠাগুলো ধীরে ধীরে দুধে দিয়ে দিন। ২০ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন দেখবেন পিঠাগুলো ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এবার ফ্রেজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন সুস্বাদু দুধের রাবড়িতে ভেজানো সুজির পিঠা।

৬. লবঙ্গ লতিকা পিঠা

উপকরণ: ময়দা, চালের গুড়া, নুন, দুধ, নারকেল, চিনি বা গুড়, লবঙ্গ ও তেল।

প্রনালী: প্রথমে ময়দা, চালের গুড়া ও নুন একসাথে নিয়ে জল দিয়ে মাখিয়ে ময়ান করে নিন। তারপর দুধ জ্বাল দিয়ে নারকেল কোড়া চিনি বা গুড় দিয়ে জ্বালিয়ে পুর বানিয়ে নিন। এরপর রুটির মত গড়ে গোল করে কেটে ওর মধ্যে নারকেলের পুর দিয়ে চারদিক দিয়ে ভাঁজ করে মাঝখানে লবঙ্গ গেঁথে মুখ আটকে দিন। এবার গরম তেলে একটি একটি করে ডুবো তেলে ভেঁজে গরম গরম পরিবেশন করুন।

৭. মুগের পুলি

উপকরণ: ভাজা মুগ ডাল – ১ পোয়া, নারিকেল কুরানো – ২ কাপ, ময়দা – ১ কাপ, চিনি – ৩ পোয়া নুন ও সয়াবিনের তেল পরিমান মত।

প্রনালী: প্রথমে মুগের ডাল গরম জলে সিদ্ধ করে পাটায় বেটে নিন। এবার দেড় পোয়া চিনিতে ৩/৪ কাপ জল দিয়ে সিরা করে নিন। তারপর নারিকেল ও বাকি চিনি মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে থাকুন। ঘন ও আঁঠালো হয়ে আসলে চুলা থেকে পাত্রটি নামিয়ে ফেলুন। এরপর ময়দা ও ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ময়ান বানিয়ে নিন। ময়দার সাথে ১/৪ ভাগ জল ও সিদ্ধ ডাল দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন। ২০-২৫ ভাগ করে প্রত্যেক ভাগে নারিকেলের পুর দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। এবার ডুবো তেলে ভেজে চিনির সিরায় চুবিয়ে পরিবেশন করুন।

৮. পাকা কলার পিঠা

উপকরণ: ময়দা – পরিমান মত, ডিম – পরিমান মত, দুধ – পরিমান মত, পাকা কলা – পরিমান মত, চিনি ও ঘি – পরিমান মত।

প্রনালী: প্রথমে পরিমান মত পাকা কলা নিয়ে লম্বা লম্বা করে কেটে রাখুন। যেমন ১ টি কলা চার ভাগ হবে। এবার অন্য একটি পাত্রে দুধের সাথে ময়দা ও ডিম দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর কড়াইয়ে ঘি দিয়ে একটি একটি করে কলার পিচ নিয়ে ময়দার গোলায় চুবিয়ে ভেজে নিন। এরপর চিনির রসে ডুবিয়ে তুলে মজাদার এই পিঠা টি পরিবারে সবার জন্য পরিবেশন করুন।

৯. চন্দ্র পুলি

উপকরণ: নারকেল – ৩ টি, চিনি – ৩ পোয়া, গুড় – আধা কেজি, ময়দা – ১ কেজি, দুধ – ২ কেজি, তেল – পরিমান মত।

প্রনালী: প্রথমে নারিকেল মিহি করে কুরে নিন। কুরানো অর্ধেক নারিকেল আবার শিল পাটায় আর ও মিহি করে বেটে নিন। বাকি অর্ধেক নারিকেলের সঙ্গে গুড় জ্বাল দিয়ে হালুয়ার মত করে পুর বানিয়ে নিন। হালুয়া শুকিয়ে চটচটে হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। এবার একটি পাত্রে ঘন করে দুধ জ্বাল দিয়ে নিন। তারপর পাটায় মিহি করা নারিকেল ও চিনি মিশিয়ে ময়দা দিয়ে কাই করে নিন। এরপর রুটি বেলে নারিকেলের পুর ভরে বাঁশের চটা বা ছুড়ি দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারে কেটে নিন। চন্দ্রপুলি ডুবো তেলে ভাল করে ভেজে নিন। গরম গরম এই মজাদার ও সুস্বাদু চন্দ্রপুলি পরিবারে পরিবেশন করুন।

১০. ম্যারা পিঠা

উপকরন: চাউলের গুড়া, নুন ও জল।

প্রনালী: প্রথমে চাউলের গুড়া সামান্য ভেজে নিন। এবার ভাজা চাউলের গুড়ার মধ্যে গরম জল ও নুন দিয়ে আটা সিদ্ধর মত হাতে কাই করে নিন। তারপর হাতের তালুতে গোল গোল বা লম্বা করে বিভিন্ন আকৃতি করে ভাপে সিদ্ধ দিন। এভাবে তৈরি হয়ে গেল মজাদার ও সুস্বাদু ম্যারা পিঠা। এই পিঠা শুটকি ভর্তা, গুড়, বা মাংস দিয়ে পরিবেশন করুন।

১১. ছিটা পিঠা

উপকরণ: চাউলের গুড়া, আদা বাটা, পেয়াজ বাটা, ডিম ও সামান্য তেল।

প্রনালী: চাউলের গুড়ার মধ্যে আদা বাটা, পেয়াজ বাটা দিয়ে হালকা ঘন করে মাখিয়ে নিন। এবার ফ্রাই প্যান হালকা তেল দিয়ে মুছে দিন। তারপর আটার মধ্যে হাত দিয়ে কয়েক বার গুলানো চাউলের গুড়া ফ্রাই প্যানে ছিটিয়ে দিয়ে রুটির মত করে আঁচ দিন। রুটি গুলো ৩ কোনা ভাজ করে নামিয়ে ফেলুন। তারপর মুরগীর মাংস দিয়ে পরিবেশন করুন।

১২.পাকান পিঠা

উপকরণ: চালের গুড়া, ডিম, মসুরের ডাল, চিনি ও তেল।

প্রনালী: প্রথমে মসুরের ডাল ধুয়ে সিদ্ধ করে নিন। একটি পাত্রে পরিমান মত চিনি দিয়ে শিরা করে নিন। গরম জলে চাউলের আটা দিয়ে সিদ্ধ করুন এবং হাত দিয়ে কাই করে নিন। কাই করা আটার মধ্যে সিদ্ধ ডাল ও কাঁচা ডিম ফাটিয়ে একসাথে পেস্ট করে নিন। তারপর ঐ আটা দিয়ে মোটা করে রুটি বানিয়ে নিন। এবার খেজুর কাটা দিয়ে রুটির উপরে বিভিন্ন নকশা করুন। কড়াইয়ে পরিমান মত তেলে বাদামী রঙ করে ভেজে শিরার মধ্যে চুবিয়ে উঠিয়ে নিন।

১৩.বকুল পিঠা

উপকরণ: কোড়ানো নারিকেল, গরুর দুধ, চিনি, তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, কিচমিচ, লং ফড়িং ও ময়দা।

প্রণালী: প্রথমে একটা পাত্রে পরিমান মত গরুর দুধ নিন। দুধের মধ্যে দারুচিনি, তেজপাতা, এলাচ, কিচমিচ ও পরিমান মত চিনি দিয়ে সামান্য ঘন করে আঁচ দিন। দুধ ঘন হয়ে আসলে চুলার আঁচ কমিয়ে মৃদু মৃদু তাপে দুধের পাত্রটি চুলার ওপর রেখে দিন বা চুলা থেকে নামিয়েও রাখতে পারেন। অন্য পাত্রে সামান্য তেল দিয়ে তেলের ওপর দুইটা তেজপাতা, দারুচিনি এলাচ ও লং ফড়িং ছেড়ে দিন। তারপর কোড়ানো নারিকেল ও পরিমান মত চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। নারিকেল নাড়তে নাড়তে আঠা আঠা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। আরেকটি পাত্রে পরিমান মত ময়দা ঘন করে গুলিয়ে রাখুন। তারপর পাত্রে পরিমান মত তেল দিয়ে চুলার আঁচ দিতে থাকুন। এখন জালানো নারিকেল হাত দিয়ে গোল গোল চ্যাপ্টা করে চপ এর মত করে গুলানো ময়দার প্রতিটি নারিকেলের চপ গুলো ময়দার মধ্যে চুবিয়ে তেলে ছেড়ে দিন বাদামী রঙ এ পিট অপিট ভেজে ঘন করা দুধের মধ্যে ছেড়ে দিন। এক ঘন্টা পর দুধের পাত্রের ঢাকনা খুলে দেখবেন পিঠাগুলো দুধে ভিজানোর জন্য ফুলে ফুলে উঠেছে। তৈরী হয়ে গেলো হয়ে গেলো দারুন স্বাদের বকুল পিঠা।

১৪. ছানার পিঠা

 

উপকরণ : দুধ : ১ লিটার, সিরকা : ১ টেবিল চামচ, জল : ১ টেবিল চামচ, ময়দা : ১ টেবিল চামচ, বেকিং পাউডার : ১/৪ চা চামচ, তেল : পরিমান মত (ভাজার জন্য)

সিরা তৈরীতে লাগবে: চিনি : ১ কাপ, জল : ২ কাপ

প্রণালী: প্রথমে একটি হাড়িতে জলের সাথে চিনি মিশিয়ে সিরা তৈরী করে নিন। এবার তৈরী করে রাখা ছানাগুলো একটু মেখে এর সাথে বেকিং পাউচার মেশানো ময়দা ভালোমত মিশিয়ে নিন। এরপর কড়াইয়ে তেল ঢেলে গরম করে নিন। এবার ছানাগুলোকে গোল গোল করে পিঠার আকৃতিতে বানিয়ে নিন। বানানো হয়ে গেলে গরম তেলে ছেড়ে দুইপাশ লাল করে ভেজে পাত্রে তুলে নিন। এরপর কাটা চামচ দিয়ে পিঠাগুলোর মাঝখানে একটু কেটে সিরায় ছেড়ে কিছূন ঝাল দিন। সবশেষে পিঠাগুলো পাত্রে তুলে এর ওপর সিরা ঢেলে ২ ঘন্টার জন্য রেখে দিন। ব্যাস তৈরী হয়ে গেল দারুন সুস্বাদু ছানার পিঠা

১৫. ক্ষীরের পাটিসাপটা

উপকরণ: ক্ষিরের জন্য: দুধ ৩ লিটার, চিনি ১ কাপ, চালের গুঁড়ি ১ টেবিল-চামচ,

গোলার জন্য: চালের গুঁড়ি ৭ কাপ, আটা বা ময়দা আধা কাপ, চিনি বা গুড় ৮০০ গ্রাম,

প্রণালী:

ক্ষীর তৈরি: পাত্রে দুধ ফুটান। মাঝে মাঝে নাড়তে হবে যেন লেগে না যায়। দুধ কমে অর্ধেক হলে আধা কাপ থেকে একটু বেশি দুধ আলাদা করে রাখুন। এবার চিনি দিয়ে দুধ ভালো করে নাড়তে থাকবেন। মোটামুটি ঘন হয়ে আসলে আলাদা করে রাখা দুধের মধ্যে চালের গুঁড়ি দিয়ে মিশিয়ে ঘন দুধের মধ্যে দিয়ে নাড়তে থাকুন। কয়েকবার ফুটে উঠলে নামিয়ে ফেলুন। পাত্রটি ঢেকে রাখুন।

গোলা তৈরি: ২ কাপ জলে গুড় গুলিয়ে নিন। চালের গুঁড়ি, আটা আর গুঁড় দিয়ে গোলা তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন গোলা যেন খুব ঘন আবার খুব পাতলা না হয়।

পিঠা তৈরি: লোহার কড়াই কিংবা ফ্রাইপেন যেটাতে বানাতে চান তাতে ভালো করে সামান্য তেল মাখিয়ে নিন। আধাকাপ গোলা নিয়ে প্যানে গোল করে ঘুরিয়ে ছড়িয়ে দিন। পিঠার উপরের দিক শুকনা হয়ে আসলে কড়াই থেকে আলাদা হয়ে আসছে কিনা খেয়াল করুন। এই পর্যায়ে ১ টেবিল-চামচ ক্ষির একপাশে লম্বা করে দিয়ে দিন। ক্ষীর ভেতরে রেখে পিঠা আস্তে আস্তে করে মুড়িয়ে ফেলুন। চামচ দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে পিঠা চ্যাপ্টা করে দিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন মজদার ক্ষীরের পাটিসাপটা।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon