Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

অনুপ্রেরণীয় মা কেমন হন? উত্তর শুনলে আপনি অবাকঃ হবেন!


মা বলতে আমরা কি বুঝি? ইনি শুধুমাত্র জন্মদাত্রী নন, তার চেয়ে অনেক বেশি। ইনি হলেন এমন এক মানুষ যিনি মন ও প্রাণ দিয়ে নিজের সন্তানের যত্ন করেন। তিনি রাজি আছেন তাই হতে যা তাঁর সন্তানের প্রয়োজন - এক শিক্ষক, এক বন্ধু, এক ভরসার স্তম্ভ। আমরা যেখানেই যাই, বা যাই করি, আমাদের মায়েরা সব সময় আমাদের হৃদয়ের মধ্যে থাকবেন, ও তাঁদের শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের পথ দেখবেন। আমরা যখন নিজেরা অভিভাবক হই, তখন আমরা চেষ্টা করি নিজেদের মা বা বাবার আদর্শ অনুসরণ করে চলতে। এখানে এমন তিন মায়ের কথা বলবো, যাঁরা নিজেদের দায়ীত্বের অতীত কাজ করে আমাদের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।


১। সঙ্গী

“আমার মা, যতদিন আমার মনে পড়ে, সব সময় আমার পাশে ছিলেন। আর শুধু এটা রূপকভাবে বলছি না, তিনি শারীরিক ভাবেই সর্বদা আমার সঙ্গে থাকতেন। সেটা স্কুলের কোনো অনুষ্ঠানে হোক বা এমন কোনো পরিস্থিতি যখন তিনি জানতেন যে আমার তাঁর সঙ্গ দরকার, তিনি নিশ্চিতরূপে আমার সাথে থাকতেন। ছোটবেলায় এমন কোনো সময় হয়নি যখন আমার মা-বাবা আমার দেখাশোনা করার জন্য কোন বেবিসিটার বা প্রতিবেশীর সাহায্য নিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা বাড়ি ফেরেন। আমার মা সব সময়েই থাকতেন।

আমি এখন বুঝতে পারি যে তাঁর কতটা অসুবিধা হতো সময় কাটানোর জন্য হাতে কাজ না থাকলে। কিন্তু তিনি তাও এই অসুবিধা বেছে নিলেন, আমার ও আমার ভাইয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। তিনি এমন কাজ বেছে নিলেন যার কার্যকাল প্রয়োজন মত বদলানো যায়, যাতে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেন আমরা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময়। তিনি কিছু সময়ের জন্য শিক্ষিকা ছিলেন, ও ফ্রিল্যান্সিং আর ক্যাটারিং-এও কাজ করেছিলেন। যখন কোন কাজ পাওয়া যেত না, তিনি কাজ না করেই সন্তুষ্ট থাকতেন, যাতে আমরা তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে পারি। তাঁকে যখনই দৈনিক কাজে বাইরে যেতে হত, তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন, এবং নিশ্চিত করতেন যে আমরা আনন্দে সময়টা কাটাই। তা গাড়ি ধোয়াই হোক বা বাজারে যাওয়া, তিনি সেটাকে এমন একটা কাজে পরিবর্তিত করতেন যা আমরা সকলে একসঙ্গে করতে পারি। মা জানতেন যে সবচেয়ে জরুরি ছিল নিশ্চিত করা যে আমরা অবহেলিত বোধ না করি, এবং তিনি সেটা কখনই হতে দেননি।”


২। হাসি

আমরা এই মায়ের বিষয়ে জানি তাঁর ছেলে ও মেয়ের কাছ থেকে। তারা আমাদের এই কথা জানালো -

“আমাদের মা ছিলেন আমাদের শৈশবের আলো। তিনি সবার জীবন আলোকিত করে তুলেছেন, আর বাকি সবার জীবন ও, যাদের সংস্পর্শে তিনি এসেছেন। তিনি সর্বদা হাসিখুশি থাকেন, এবং আমরা তাঁর মত দয়ালু মানুষ খুব কম দেখেছি। আমরা যখন খুবই ছোট ছিলাম, আমাদের বাবার চাকরি চলে গিয়েছিল, এবং আমাদের মা গৃহিণী ছিলেন। সেই কষ্টের সময়েও, তিনি সব সময় বাড়িতে খুশির পরিবেশ বজায় রাখতেন। তিনি খেয়াল রাখতেন যে আমাদের যেন এই অশান্তির ভার বহন না করতে হয়। বাড়িতে যা ছিল তাই দিয়েই তিনি চালাতেন, এবং আমাদের কোনোদিন কিছুর অভাব বোধ করতে হয়নি। তিনি এক পত্রিকায় লেখার সাময়িক চাকরিও নেন, যাতে বাবা নতুন চাকরি পাওয়ার আগে অবধি হাতে টাকা আসতে থাকে। তিনি খুব হিসেবি ছিলেন, এবং পয়সা নিয়ে খুবই সাবধানী ছিলেন। কোনো উৎসবে বা কারো জন্মদিনে বাড়িতে যথেষ্ট পয়সা থাকতো যাতে আমরা অন্যান্য সবার মতোই আনন্দ করতে পারি।

আমাদের জীবনে কোন দুঃখের ঘটনা ঘটলে তিনি জানতেন কিভাবে আমাদের খুশি করে তুলতে হয়। তিনি সত্যি এক অসামান্য নারী ছিলেন।”


৩। শক্তি

“আমার মা জীবনে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। একটি সনাতন এবং রক্ষণশীল সমাজের অংশ হওয়ার ফলে তাঁকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যখন তিনি এক পোষ্যপুত্র গ্রহণ করতে চান। তিনি এবং আমার বাবা তখন বিবাহিত ছিলেন, কিন্তু তিনি পোষ্যপুত্র গ্রহণ করার বিশাল সমর্থক ছিলেন, ও তাই জন্যই আমি তাঁর পরিবারের অংশ হতে পারি। তিনি পুরো সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ান আমাকে তার পরিবারের সদস্য করার জন্য, এবং তাঁর মুখে কোনোদিন কোন অভিযোগ শুনিনি, আমার বিষয়েও না, তাদের বিষয়েও না। আমার মা বাবা আরেকটি সন্তান চাইতেন, এবং আমার বোনের জন্মের ঠিক আগে আমি বাবাকে হারাই। আমার তখন ৭ বছর মত বয়েস ছিল, কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে সেই সময়ের কথা। আমি এই কারণে এটি মনে রেখেছি যে আমার মা এই সময়টি আমার পক্ষে আতঙ্কজনক হইতে দেন নি। তাঁর মানসিক শক্তি ছিল প্রবল। তিনি গর্ভবতী ছিলেন এবং সবে নিজের স্বামীকে হারিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র চেষ্টা করতেন যাতে আমার বা আমার বোনের কোন কষ্ট না হয়। তিনি সর্বদা নিজের খেয়াল রাখতেন যাতে বাচ্চার কোন ক্ষতি না হয়। আমার বোনের জন্ম হয়ে মাতৃদুগ্ধ পান ছাড়ার আগে অবধি তাঁর দাদা আমাদের দেখাশোনা করেন। মা এমন একটি চাকরি খুঁজে বের করেন যেখানে তিনি বোনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন। যদিও আমরা কোনোমতে খরচ মেটাতাম, তিনি আমাদের জীবন করে তুলেছিলেন আনন্দময় ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। কোনোদিন আমরা বাবা হারানোর দুঃখ বুঝতে পারিনি। শেষে, কিছু বছর আগে যখন তিনি আবার বিয়ে করবেন ঠিক করলেন, তিনি নিশ্চিত করলেন যে আমাদের বিপিতার ও আমরা একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারি, ও আমার ও বোনের কোন আপত্তি নেই পরিবারে নতুন সদস্যের বিষয়ে।

আমি যে সব মানুষদের চিনি, তাদের মধ্যে আমার মায়ের মত মানসিক শক্তি খুব কমই দেখেছি। আশা করি আমি তাঁর সাহসের অর্ধেক অন্তত পেয়েছি।”


Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon