Link copied!
Sign in / Sign up
2
Shares

অনিয়মিত ঋতুচক্রর সত্ত্বেও কিভাবে গর্ভবতী হওয়া যায়?


 

অনিয়মিত ঋতুচক্র,সাধারণ ঘটনার নিদর্শন হলেও,এর ফলাফল কিন্তু সুদূরপ্রসারী।এর অর্থ হলো আপনার শরীরে ডিম্বাণু উৎপাদন অনিয়মিত হচ্ছে অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে হয়তো আদৌ ডিম্বাণু উৎপাদিত হচ্ছে না।ডিম্বাণু ছাড়া গর্ভে সন্তান আসা অসম্ভব,সুতরাং শরীর যত কম ডিম্বাণু উৎপাদন করবে আপনার সন্তানসম্ভবা হওয়ার সুযোগও ততই কমে যাবে। গর্ভবতী হওয়া সহজ কাজ নয়,যেসব নারীর ঋতুচক্র নিয়মিত তাঁদের বছরে এগারো থেকে তেরো বার রজঃস্রাব হয়ে থাকে,এবং প্রতি বছর তাঁরা গর্ভাধানের সর্বাধিক তেরোটি সুযোগ পেয়ে থাকেন।

আপনাদের মধ্যে যাঁদের ঋতুচক্র অনিয়মিত, সন্তান ধারণের সম্ভাবনা তাঁদের ক্ষেত্রে প্রায় তিরিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ কমে যায়।যার ফলে আপনার মাতৃত্বের পথ দীর্ঘ এবং দুর্গম হতে পারে ।কিন্তু ভগ্নমনোরথ হবার কোন প্রয়োজন নেই, অনিয়মিত ঋতু-স্রাব সত্ত্বেও সন্তানসম্ভবা হওয়া সম্ভব।আপনার ঋতুচক্র কেন অনিয়মিত আপনাকে সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং কি কি পদ্ধতিতে আপনি এই চক্র নিয়মিত করবেন সেটাও নির্ধারণ করতে হবে।এতে আপনার মাতৃত্বের পথে অগ্রগতি সুগম হবে।

অনিয়মিত ঋতুচক্রের কারণে আপনার সন্তান ধারণ কতটা সমস্যা সঙ্কুল হবে সেটি বেশ কতগুলি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যেমন,আপনার ঋতুচক্র ঠিক কতটা অনিয়মিত এবং আপনি আপনার যৌনসঙ্গমের সময় সঠিক ভাবে নির্ধারণ করতে পারছেন কিনা।

“ ঋতুচক্র অনিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও গর্ভাধানের সম্ভাবনা কি করে বাড়ানো যায়?”,এই প্রশ্নটি আপনি নিশ্চয়ই বারংবার নিজেকে করে থাকেন। আপনার গর্ভবতী হওয়ার অন্বেষণে এই সামান্য কটি বিষয় অনুসরণ করলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুন বৃদ্ধি পাবে:

১. পুষ্টিকর খাদ্য এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্য তালিকা: 

চেষ্টা করুন আরো বেশি পরিমাণ সবুজ শাকসবজি,ফল এবং ফাইবার যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে। উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট বা শালিজাতীয় পদার্থ যেমন ময়দা বা চিনি এবং ফ্যাট বা তৈলাক্ত খাদ্য অর্থাৎ ছাঁকা তেলে ভাজা যে কোন খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

২. সুগঠিত শরীরের জন্য যত্ন নিন :

আপনার ওজন যদি বেশি হয়,খাদ্যে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা কমিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশ কয়েক পাউন্ড ওজন কমিয়ে ফেলা আপনার পক্ষে দারুণ উপকারী হতে পারে। একইভাবে আপনার ওজন যদি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, অবশ্যই কয়েক পাউন্ড ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করুন,কারণ শরীরে ফ্যাট বা চর্বি কম থাকলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার অভাবে ঋতুচক্রে অসামঞ্জস্য ঘটতে পারে।

 

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুতর অবদান রাখে।কিন্তু ব্যায়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন কারণ অতিরিক্ত ধকল শরীরে অনাকাঙ্খিত প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. ফার্টিলিটি সাপ্লিমেন্টস বা উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সম্পূরক খাদ্য

এই ভিটামিন এবং খাদ্য সম্পূরকগুলি সন্তান ধারণে ইচ্ছুক নারীকে একটি বাড়ন্ত ভ্রূণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়।

উপরন্তু, কিছু গাছগাছড়া এবং ভিটামিন সম্বন্ধে এমন মতবাদ শোনা যায় যে সেগুলি হরমোন বা গ্রন্থিরসের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ঋতুচক্রের নিয়মানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনে,এবং ডিম্বাণু উৎপাদনের পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৫. পরিবর্তী পদক্ষেপ,হিসাব করে দেখা চক্রের কোন দিনগুলিতে আপনি সর্বাধিক উর্বর থাকেন এবং গণনা করা কবে আপনার ডিম্বাণু উৎপাদিত হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী যৌনসঙ্গমের সময় নির্দিষ্ট করা।অনিয়মিত ঋতুচক্র যুক্ত মহিলাদের পক্ষে ডিম্বাণু উৎপাদনের সঠিক সময় গণনা করা বিরক্তিকর প্রচেষ্টা হতে পারে।কাজটিকে সহজতর করতে,আপনি বৈদ্যুতিক ফার্টিলিটি মনিটর বা উর্বরতা নির্দেশক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।

যদিও অনিয়মিত ঋতুচক্র আপনার গর্ভাধানকে কঠিন করে তুলতে পারে কিন্তু হতোদ্যম হবেন না , আপনার এতো খাটনি এবং স্বার্থত্যাগ অর্থপূর্ণ এবং আনন্দময় হয়ে উঠবে যখন আপনি আপনার ছোট্ট শিশুকে আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরবেন। দুঃখ-কষ্ট জ্বালা যন্ত্রণা যা আপনি এতদিন সহ্য করেছেন সবই আপনার মাতৃত্বকে আরো মধুর করে তুলবে, তাইনা?

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon