Link copied!
Sign in / Sign up
12
Shares

নিয়মিত স্নান করার সঠিক নিয়ম ও উপকারিতাগুলো জানেন কি?


সুস্বাস্থ ও সুমনোভাব বজায় রাখার জন্যে নিয়মিত  স্নান অপরিহার্য। মানুষ নিজেদের সুবিধা ও স্বাস্থ অনুযায়ী নিজেদের স্নান করার সময় ঠিক করেন। কেউ সকালে, আবার কেউ বিকেলে।তাতে যে কতটা স্বস্তি মেলে তা সবাই জানেন।হয়তো ভাবেন আপনি কত পরিষ্কার হয়ে গেলেন। আবার  অনেকে আছেন যারা দিনে তিনবার স্নান করেন, কিন্তু দায়সারাভাবে। কোনও মতে গায়ে জল ঢেলে চলে আসেন। আবার অনেকে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে স্নান করছেন কিন্তু তাও পরিষ্কার হন না। তাঁদের দেখে মনে হয় না, সারা জন্মেও তাঁরা স্নান করেছেন বলে। আর যাঁরা অলস, তাঁরা এসবের ওপরে! 


যাই হোক, নিয়মিত স্নান করার নানাবিধ উপকার আছে:

১)  যদি আপনি বাথটবে  স্নান করেন, তাহলে বেশ খানিকক্ষণ করলে দেহে রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং শরীরের কোষগুলি পোষণ হয়। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এই ধরনের স্নান খুবই উপকারী। শীতকালে হালকা গরমজলে এবং গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে স্নান করলে অতিরিক্ত চিন্তা বা হাইপার টেনশনের মত রোগ কমে।

২) মাংসপেশীর ক্লান্তি দূর করতে উষ্ণ গরম জলে স্নান দারুণ কাজ করে। পেশীর ফ্লেক্সিবিলিটি এবং ইলস্টিসিটি ফিরিয়ে আনতে স্নান ভীষণ জরুরি।

৩) অবগাহন স্নান রক্ত সঞ্চালন ও হার্ট ফাংশান উন্নত করে।

৪) প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মিনিট বাথটাবে হালকা গরম জলে স্নান করলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫) ঠান্ডা জলে স্নান বিষন্ন বোধ বা ডিপ্রেশান দূর করতে সাহায্য করে। ঠান্ডা জলের স্পর্শ স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে যার ফলে রক্তে বিটা এন্ডরফিন এবং নর অ্যাড্রিনালিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ও ডিপ্রেশান কমে। এছাড়া ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে মস্তিষ্ক সজাগ হয় এবং অবসাদ জনিত প্রভাব কেটে যায়।

৬) ঠান্ডা জলে স্নান করলে রক্ত ও লসীকা সঞ্চালন উন্নত হয়, শরীরে অ্যান্টিবডির উৎপাদন বাড়ে যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে খুব ঠান্ডায় হালকা গরম জলে স্নান করাই ভালো কারণ শীতকালে ঠান্ডা জলে স্নান অনেকেই সহ্য করতে পারে না।

৭) অনেকক্ষণ ধরে স্নান করার ফলে স্ট্রেস এবং টেনশন কমে।

৮) কোল্ড শাওয়ার দেহে টেস্টোস্টেরোনের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক সময় দীর্ঘদিন গরম জলে স্নানের ফলে মেল ইনফার্টিলিটি হতে দেখা যায়।

৯) রাত্রে স্নান করলে পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম হয়। অনিদ্রারর সমস্যায় রাতে শোয়ার আগে স্নান করা খুবই উপকারী।

১০) যারা বেশি বডি স্প্রে, পাউডার এবং পারফিউম ব্যবহার করে তাদের নিয়মিত স্নান করা খুবই জরুরি।

১১) যাদের শরীরে অতিরিক্ত ঘাম বের হয় তারা অবশ্যই নিয়মিত স্নান করবেন। নইলে শুধুমাত্র দামি সুগন্ধীর ব্যবহার গায়ের দুর্গন্ত তাড়াতে পারবে না।

১২) স্নান ত্বকের থেকে নিঃসৃত টক্সিনকে দূর করে।

১৩) শাওয়ারে স্নান করলে লাংস এর  রিফ্লেক্স অ্যাকশন বাড়ে যার ফলে বিশুদ্ধ বায়ু সহজে প্রবেশ করে।

১৪) মাথা ধরা ও মাথা ব্যথার সমস্যায় স্নান খুব উপকারী।

১৫) স্নান ত্বকের আদ্রতা, কোমলতা বজায় রাখে ও ত্বকের নানা রোগ প্রতিরোধ করে।

১৬) ওবেসিটি বা বজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় নিয়মিত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট হট বাথ প্রয়োজন। এতে ওজন কমে। স্নান এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।


বিজ্ঞানীরা স্নানকে থেরাপী হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

স্নান খুব আরামদায়ক এবং দেহের পরিচ্ছন্নতা প্রদানকারী একটি ক্রিয়া শুধু নয়, এটি বিভিন্ন ভেষজ সহযোগে নানা রোগ উপশমেও সাহায্য করে।

১) স্নানের জলে দুধ মেশালে ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল হয় কারণ দুধ ত্বককে পুষ্টি দেয়।

২) সারাদিন সতেজ থাকার জন্য এবং ঘামের দুর্গন্ধ এড়ানোর জন্যে দু চামচ গোলাপজল স্নানের জলে মেশাতে পারেন।

৩) ভাতের মাড় মেশানো জলে স্নান করলে ত্বক নরম থাকে সহজে বলিরেখা পড়ে না।

৪) তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যায় স্নানের জলে তিন চামচ লেবুর রস মেশাতে পারেন।

৫) জুঁই ফুলের পাপড়ির নির্যাস মেশানো স্নানের জল গরমকালের জন্য দারুন কার্যকরী।

৬) বর্ষাকালে জীবাণু সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নিম এবং ক্যাম্ফর পাউডার মেশানো জলে স্নান করতে পারেন।

৭) যারা জয়েন্ট এর ব্যথায় ভুগছেন, স্নানের আগে রাস্না, বচ ও আদার পেস্ট বানিয়ে মাখুন। এরপর উষ্ণ গরম জলে স্নান করুন।

৮) অ্যালার্জির সমস্যায় হলুদ এবং মঞ্জিষ্ঠা ব্যবহার করতে পারেন।

৯) মাত্র দু’ ফোটা ইউক্যালিপটাস তেল বাথটবের উষ্ণ জলে মিশিয়ে নিলে পেশী যন্ত্রনা এবং জয়েন্ট ব্যথা কম থাকে।

১০) সর্দি-হাঁচি-কাশিতে গরম জলে সামান্য পিপারমিন্ট বা আদার রস মিশিয়ে বাথটবে ১৫ মিনিট স্নান করুন।

কোন ধরনের জলে স্নান করা উচিত?

স্নানের জন্য কোনটা বেশি ভালো গরম জল না ঠান্ডা জল সেই নিয়ে অকারণে চিন্তিত হবার প্রয়োজন নেই, মনে রাখা দরকার—

১) প্রচণ্ড গরমকালে ঠান্ডা জলে স্নান করা যেতে পারে। তবে সদ্যজন্ম শিশুদের জন্য কনকনে ঠান্ডা জল কখনোই নিরাপদ নয়। বাচ্চার আম্বিলিকাল কর্ড শুকিয়ে যাবার পর নিয়মিত পাঁচ মিনিট স্নান করানো জরুরি। সপ্তাহে তিন বার ভালো বডি ওয়াশ এবং হেয়ার ওয়াশ শিশুর ত্বককে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

২) ভালো বাথ সল্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে স্নানের পর সতেজতা বাড়ে।  বাথ সল্ট বা ডেড সী সল্ট গরম জলে মেশালে একটু বেশি সময় ধরে স্নান করতে হবে। উষ্ণ জল ত্বকের রোমকূপ খুলে দেয় আর বাথ সল্ট ইউথফুলনেস এবং রিজুভিনেশানে সাহায্য করে। তাই অন্তত ২৫ মিনিট স্নান করা দরকার।

৩) যারা দীর্ঘ সময় বাথটবে গরম জলে স্নান করেন তাদের ডিহাইড্রেশানের সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ফলের রস বা অন্য কোনও সফট ড্রিঙ্কস পান করলে ভালো লাগবে।

৪) অবশ্যই দিনের শুরুতে স্নান করা উচিত। এতে এনার্জি বাড়ে।

৫) একইভাবে দিনের শেষে স্নান করা দরকার। এতে সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়।

৬) অ্যাসমা, আর্থরাইটিসের রোগীদেরজন্য উষ্ণ গরম জলে স্নান করা নিরাপদ।

৭) কনস্টিপেশন সারাতে হলে বাথটবে ঠান্ডা জলে স্নান করা যেতে পারে।

৮) ঠান্ডা অথবা গরম যেটাতে স্বচ্ছ্যন্দ বোধ হয় সেই জলই স্নান করুন। পরিচ্ছন্নতার জন্য স্নানের থেকে ভালো আর কিছুই নেই।


নিয়মিত স্নান করার সঠিক নিয়ম 

১। প্রথমে এক বালতি উষ্ণ গরম জল নিন। ঠান্ডা জলে স্নান করে আরাম আছে ঠিকই কিন্তু ঠান্ডা জল ত্বকের ক্ষতি করে। ত্বক রুক্ষ করে তোলে। ফলে হালকা গরম জলই ভালো। এতে ত্বকেরও ক্ষতি হবে না আবার ক্লান্তিও দূর হবে। যাঁদের ঘুমের সমস্যা, তাঁদের সকলেরই হালকা গরম জলে স্নান করা মাস্ট। কিন্তু মাথা ধোয়ার সময় কিন্তু গরম জল ব্যবহার করবেন না। ঠান্ডা জলই ব্যবহার করুন। গরম জল চুল রুক্ষ করে তোলে।

২। স্নানের সময় কাচা ও পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা নিয়ে বাথরুম যান। প্রথমে ভালো করে গায়ে জল ঢালুন। তারপর সাবান মাখুন। ত্বক অনুযায়ী সাবান ব্যবহার করুন। রুক্ষ ত্বকের জন্য গ্লিসারিন যুক্ত সাবান আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মিল্ক যুক্ত সোপ। যাঁদের নর্মাল ত্বক, তাঁরা যে কোনও সাবানই বেছে নিতে পারেন।

৩। গা থেকে ময়লা দূর করতে স্ক্রাবিং করা খুব জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা সাবান মাখার সময় স্ক্রাবিং করে নিন। এতে ময়লা দূর হয় ও রোমকূপ থেকে অতিরিক্তি তেল বেরিয়ে আসে। তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার করতে স্ক্রাবার কাম বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

৪। স্ক্রাবিং করে সাবান মাখা হয়ে গেলে ভালো করে গা ধুয়ে নিন। এখানেই শেষ নয়। ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে তেল মাথা অত্যন্ত জরুরি। ৭৫ শতাংশ মানুষ তেল মাখেন না। কিন্তু এটা খুবই জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক রুক্ষ তাদের তেল মাথা আরো জরুরি। বাজারে অনেক ধরনের বডি অয়েল কিনতে পাওয়া যায়। চন্দন দেওয়া বডি অয়েল বেছে নিতে পারেন। মাখতে পারেন অলিভ অয়েলও। তা না হলে বাড়িতে রাখা সরষের তেলও মাখতে পারেন। তেল মাখার পর ছেড়ে দেবেন না ও মনে করবেন না স্নান সমাপ্ত। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা দিয়ে গা মুছে নিন।

৫। স্নানের সময় মুখ ও পায়ের পাতায় বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। মুখে কখনওই গায়ে মাখার সাবান মাখবেন না। মুখের ত্বক অনুযায়ী উপযুক্ত ফেসওয়াশ বেছে নিন। স্নান করার পর দু’ ফোঁটা ফেসওয়াশ আস্তে আস্তে মুখে মেখে ধুয়ে ফেলুন। পায়ের পাতা ও তলার জন্য স্ক্রাবিংয়ের ব্যবস্থা করুন। বাজারে পিউমিক স্টোন কিনতে পাওয়া যায়। তার সঙ্গে ব্রাশও পাওয়া যায় স্নানের শেষে হাতে সামান্য শ্যাম্পু নিয়ে পায়ের গোড়ালি ও তলায় ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর প্রথমে পিউমিক স্টোন ও ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। দেখবেন পা ফাঁটার সমস্যা দূর হয়েছে নিমেষে।

৬। শ্যাম্পু করার প্ল্যান থাকলে আগে শ্যাম্পু করা সেরে নিতে হবে। SLSযুক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলুন। Sodium lauryl sulphate। এটি শ্যাম্পুতে ফেনা তৈরি করে। এর সাহায্যে ক্ষণিকের জন্য চুল চকচকে হলেও চুলের ডগা ফাটিয়ে দেয়, স্বাভাবিক রংও নষ্ট করে। তাই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন যাতে SLS উপাদানটি নেই। চুলের ধরন বুঝে বেছে নিন হার্বাল শ্যাম্পু।

৭। অনেকে মনে করেন শ্যাম্পু করা মানেই চেটোয় অনেকটা শ্যাম্পু নিয়ে ফেনা তৈরি করে চুলে লাগানো, আর তারপর ধুয়ে ফেলা। এটা কিন্তু সঠিক পদ্ধতি নয়। আগের দিন রাতে তেল মেখে পরদিন শ্যাম্পু করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা -

৮। প্রথমে ঠান্ডা জলে চুলে ধুয়ে মাথার তেল বের করে নিতে হবে। তারপর হাতে সামান্য শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে হবে। ফেনা হতে শুরু করলে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। চুলকে জটমুক্ত রাখতে কন্ডিশনাক মাস্ট। সামান্য কন্ডিশনার চুলে মাখিয়ে মিনিট দুই অপেক্ষা করুন। দেখবেন, চুলের গোড়ায় যাতে কন্ডিশনার না লেগে যায়। তারপর জল দিয়ে পুরো চুল ধুয়ে তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন।


মনে রাখবেন: 

গা পরিষ্কারের তোয়ালে আর মাথা মোছার তোলায়ে আলাদা করাই ভালো।

রোজ এই ভাবেই স্নান করুন। এতে বেশি সময় নষ্ট হয় না। কিন্তু আপনি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার পরিচ্ছন্নতা আপনার দায়িত্ব। ভিতর থেকে পরিষ্কার না হলে, চারপাশটাকেও পরিষ্কার মনে হবে না।

Tinystep Baby-Safe Natural Toxin-Free Floor Cleaner

Dear Mommy,

We hope you enjoyed reading our article. Thank you for your continued love, support and trust in Tinystep. If you are new here, welcome to Tinystep!

We have a great opportunity for you. You can EARN up to Rs 10,000/- every month right in the comfort of your own HOME. Sounds interesting? Fill in this form and we will call you.

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon