Link copied!
Sign in / Sign up
34
Shares

নতুন বছরে বৈচিত্র আনুন নিরামিষ রেসিপিতে


বাঙালিরা আমিষ থেকে নিরামিষ সব ক্ষেত্রেই রান্নার ব্যাপারে এক নম্বর। তাই নানা পদে নানারকম ভাবে স্বাদ আনতে বাঙালিদের চেয়ে এক্সপার্ট কেউ হয়না। তার ওপর নতুন বছরের রেশ এখনো কাটেনি। এছাড়া থাকে নানা পুজো পারবেন বা দিনক্ষণ মেনে নিরামিষের ভোজন। তাই একটু বৈচিত্রে ভরিয়ে দিন আপনার নিরামিষ রান্নার রেসিপি। আসুন দেখা যাক।

১. মিষ্টি পোলাও

 

উপকরণ: পোলাওয়ের চাল প্রয়োজনমতো, এর সঙ্গে পরিমাণমতো ঘি, আদা বাটা, হলুদ গুঁড়া, জাফরানি রং, এলাচি-দারুচিনি, কিশমিশ, নুন ও চিনি, তেজপাতা কয়েকটি ও একমুঠ কাজুবাদাম।

 

প্রণালি: চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর চালের সঙ্গে সব উপকরণ মাখিয়ে নিন। পাত্রে তেল বা ঘি গরম করে তাতে তেজপাতা ও কাজুবাদাম একটু ভেজে নিন। এবার মাখানো চাল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভাজতে হবে। এবার চালের পরিমাণের দুই গুণ গরম জল দিয়ে ঢেকে সেদ্ধ করে নিন। নামানোর আগে জাফরান ও ঘি মিশিয়ে নিন।

২. পোস্ত বেগুনি

উপকরণ: বেগুন মাঝারি একটা, ময়দা ১ কাপ, চালের গুঁড়া পৌনে এক কাপ, পোস্তদানা এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ, খাবার সোডা সিকি চা-চামচ, এক চিমটি হলুদ গুঁড়া, নুন ও চিনি পরিমাণমতো।

প্রণালি: পাতলা করে বেগুন কেটে নিন। জল র সঙ্গে ময়দা, চালের গুঁড়া, পোস্তদানা, খাবার সোডা ও লবণ-চিনি মিশিয়ে ঘন গোলা করে নিন। বেগুনের টুকরাগুলো মাখিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন।

৩. সরষে পটল

উপকরণ: মাঝারি পটোল ১০টি, কালিজিরা ১ চা-চামচ, কাঁচা লঙ্কা তিন-চারটি, সরষে বাটা দুই টেবিল চামচ, পোস্তদানা দুই চা-চামচ, নুন ও চিনি স্বাদমতো।

প্রণালি: পটোল ছিলে নুন দিয়ে হালকা ভাপিয়ে নিতে হবে। সরষের তেলে কালিজিরা ও কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে হলুদ, সরষে বাটা ও পোস্তদানা দিয়ে কষিয়ে পটোল দিয়ে রাঁধতে হবে। স্বাদমতো নুন ও চিনি দিয়ে নেড়েচেড়ে নারকেলের দুধ দিয়ে ঝোল ঘন হলে নামাতে হবে।

৪. ছোলার ডাল নারকেল

উপকরণ: ছোলার ডাল ১ কাপ, নারকেল কুচি আধা কাপ, ঘি, তেল, লবণ, জিরা, আদা বাটা, চিনি পরিমাণ মতো। তেজপাতা ও শুকনা লঙ্কা ৪টা করে।

প্রণালি: নুন দিয়ে ছোলার ডাল সেদ্ধ করে নিন। ঘি মেশানো তেলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও এলাচি-দারুচিনি ফোড়ন দিতে হবে। এতে নারকেল কুচি একটু ভেজে নিয়ে তাতে আদা বাটা, আস্ত জিরা ও কিশমিশ দিতে হবে। এবার সেদ্ধ ডাল ঢেলে দিয়ে নেড়েচেড়ে পরিমাণমতো লবণ-চিনি দিতে হবে। নামানোর আগে একটু ঘি ও বাটা গরম মসলা মেশাতে হবে।

৫. ছানা-মটরশুঁটির ডালনা

উপকরণ: দু কেজি দুধের ছানা, জিরা এক চিমটি, তেজপাতা কয়েকটি, গুঁড়ো হলুদ, শুকনা লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, আদা বাটা, নুন ও কাঁচা লঙ্কা স্বাদমতো।

প্রণালি: ছানার জল ঝরিয়ে চিপে নিয়ে কিউব করে কাটুন। এগুলো সোনালি রং করে ভেজে নিন। তেলে তেজপাতা ও জিরা ফোড়ন দিন। অল্প জলে গুঁড়ো হলুদ, মরিচ, জিরা, ধোনে ও আদা বাটা দিয়ে কষান। কষানো মসলায় মটরশুঁটি ও কিউব করে কাটা আলু দিয়ে ২-৩ মিনিট নেড়ে ভেজে রাখা ছানার টুকরা দিয়ে আরও দুই মিনিট ভাজুন।

এরপর নুন ও গরম জল দিয়ে ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। ঝোল ঘন হয়ে এলে কাঁচা লঙ্কা আর ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে নামান।

৬. পাঁচমিশালির টক 

উপকরণ: কাঁচা আম বা আমড়া ছোট একটি, চালতা অর্ধেকটা, টমেটো মাঝারি একটা। শুকনো লঙ্কা তিন থেক চারটা, মৌরি, সরিষা, গুড় বা চিনি পরিমাণমতো, চাট মসলা পরিমাণমতো।

প্রণালি: সরষের তেলে পাঁচফোড়ন ও শুকনা লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে কাঁচা আম, চালতা, টমেটো ইত্যাদি পছন্দমতো টক সবজি বা ফল দিন। নেড়েচেড়ে এবার অল্প নুন, হলুদ, লঙ্কা দিন। কষানো হলে অল্প করে জল দিয়ে সেদ্ধ করে নিন।

তারপর এই চাটনিতে আখের গুড় বা চিনি দিয়ে স্বাদমতো মিষ্টি করুন। সরষের তেলে মৌরি ও সরিষার ফোড়ন দিয়ে চাটনিতে মেশান। নামানোর আগে চাট মসলা ছড়িয়ে দিন।

৭. বাঁধাকপির কোপ্তা কারী

উপকরনঃ বাঁধাকপি – ছোট ১ টা, আদা বাটা – আধা চা চামচ, লঙ্কা বাটা- ১ চা চামচ, লবণ – স্বাদমত, চিনি, বেসন, আটা বা ময়দা, জিরা, গোটা লঙ্কা, হলুদের গুঁড়ো, টকদই, গরম মসলা গুঁড়ো ও তেল – সব কিছুই পরিমান মত দিতে হবে। 

প্রনালীঃ প্রথমে বাঁধাকপি কেটে সেদ্ধ করে হাত দিয়ে চটকে নিন। চটকানো বাঁধাকপির মধ্যে আদা বাটা, লঙ্কা বাটা, লবণ, চিনি, বেসন ও ময়দার গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে গোল গোল রলের মত করে গরম তেলে ভেঁজে নিন।

৮. পুঁইশাকের পাতা দিয়ে মাশকালাইয়ের ডাল চচ্চরি

উপকরনঃ পরিমান মত পুঁইশাকের পাতা, মাশকালাইয়ের ডাল, কাঁচালঙ্কা ফালি, সামান্য আদা বাটা, গোটা গোটা জিরা, হলুদের গুঁড়ো, নুন ও সয়াবিনের তেল। 

প্রনালীঃ প্রথমে মাশকালাইয়ের ডাল ভাল করে ভেজে ধুয়ে নিন। এবার পরিমান মত কাঁচা লঙ্কাচ, নুন, হলুদের গুঁড়ো ও সামান্যে জল দিয়ে ডাল সিদ্ধ দিন। ডাল সিদ্ধ হয়ে এলে পুঁইশাকের পাতা ধুয়ে কুচি করে কেটে ডালের মধ্যে ছেড়ে দিন। ডাল ও শাক গায়ে মাখানো হলে চুলা থেকে নামিয়ে অন্য পাত্রে ঢেলে রাখুন। এবার কড়াইয়ে পরিমান মত তেল দিয়ে গোটা জিরার গুঁড়ো ছিটিয়ে ডাল চচ্চরি ঢেলে কিছুক্ষন নেড়ে দিন। তারপর গ্যাস থেকে নামিয়ে আপনার ইচ্ছামত পরিবেশন করুন।

৯. সজনে ডাটা আর লাউ নিরামিষ

উপকরনঃ কচি লাউ, সজনে ডাটা পরিমান মত, সরিষা বাটা, আদা বাটা, জিরা বাটা,  কাঁচা লঙ্কা বাটা, হলুদের গুঁড়ো, ধোনে পাতা কুচি, নুন ও সরিষার তেল। 

প্রনালীঃ প্রথমে লাউ, সজনে ডাটা ও আলু কেটে ভাল করে ধুয়ে রাখুন। তারপর কড়াইয়ে পরিমান মত তেলে ওপরের মসলা গুলো পরিমান মত দিয়ে কষাতে থাকুন প্রায় ২ মিনিট। ২ মিনিট পর লাউ, সজনে ও আলু মসলার মধ্যে দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। কয়েক মিনিট পর ঢাকনা উঠিয়ে নেড়ে পরিমান মত জল দিন। সবজি সিদ্ধ হয়ে গেলে মাখানো মাখানো ঝোল রেখে ধোনে পাতা কুচি দিয়ে ১ মিনিট পর গ্যাস থেকে নামিয়ে ফেলুন। এবার গরম গরম পরিবেশন করুন।

১০. কাশ্মিরী আলুর দম

উপকরনঃ সিদ্ধ আলু, হিং, তেল, জোয়ান, চিনি, নুন, টকদই, ছোট এলাচ, ভাজা জিরার গুড়া, গরম মসলা, ধনিয়া পাতা ও ফ্রেসক্রীম। 

প্রনালীঃ প্রথমে কয়েকটা আলু সিদ্ধ করে নিন। এবার অন্য একটি পাত্রে পরিমান মত তেল দিয়ে সামান্য হিং তেলের উপর দিয়ে সিদ্ধ করা গোটা গোটা আলু ভাঁজতে থাকুন। আলু ভাজা হয়ে গেলে পরিমান মত জোয়ান, চিনি, নুন ও ২ চামচ টকদই দিয়ে নাড়তে থাকুন। ২-৩ মিনিট পর ছোট এলাচ ও ভাজা জিরার গুড়া দিয়ে ভাল করে নেড়ে দিন। গ্যাস থেকে নামানোর আগে পরিমান মত ফ্রেশক্রীম দিয়ে চুলার আচ কমিয়ে নামিয়ে ফেলুন। পরিবারের সবার জন্য গরম গরম কাশ্মিরী আলুর দম ধোনে পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
100%
Not bad
0%
What?
scroll up icon