Link copied!
Sign in / Sign up
2
Shares

মহিলাদের মধ্যে PMS (প্রি মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম) কি ও কখন হয়? জানুন সম্পূর্ণ তথ্য

পিএমএস (PMS) কি?

প্রায়ই মেয়েরা বা অন্যান্য বয়সের মহিলাদের মাসিকের আগ দিয়ে, বিষন্নতা, বিরক্তি এসবের ঘন ঘন স্বীকার হয়। কেন জানেন কি? এর কারণ হল পিএমএস। বেশিরভাগ মহিলারা মাসিকের শুরু হওয়ার আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত এই চক্রের মধ্যে থাকেন। েকে বলে প্রি মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম। এই সময়ে অনেকেরই তলপেটে হালকা ব্যাথাও হতে পায়ে।

এই সময় প্রায়ই অনেক নারী ক্লান্ত ও দু:খিত বোধ করে। তবে যদি এসব লক্ষণ মাসিকের আগের মুহূর্ত ছাড়াও সারা মাস ধরে চলতে থাকে তাহলে এটি পিএমএস নয়, অন্য কোনো মানসিক সমস্যার কারণে হতে পারে। পিএমএস মাসিক চক্র শুরু হওয়ার আগে আসে এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক এবং মানসিক উপসর্গের সম্মুখীন হতে হয় এই সময়। কখনও কখনও এই উপসর্গ খুব সাধারণ। তবে যারা মাসিকের সময় গুরুতর এই সমস্যায় গুরুতর ভাবে ভুগতে থাকে তাহলে  তা শুধু সেই  মহিলাকেই নয়, অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আক্রান্ত করে; সেক্ষেত্রে পিএমএস চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

পিএমএস কেন এই সমস্যা তৈরি করে?

মাসিকের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে মহিলাদের এই উপসর্গ দেখা দেয়। মাসিক চক্র শুরু হয়ে শেষ হওয়া পর্যন্ত এটি থাকে। পিএমএস ঠিক কি কারণে হয় তার ঠিক করে কোনো কারণ জানা যায়নিআছে কোন কারণ নেই। কিন্তু এই সময় মহিলাদের শরীরের হরমোন অর্থাৎ এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেসটেরনের মাত্রা পরিবর্তিত হয় এযার জন্যে এই প্রক্রিয়াগুলি হয়ে থাকে। অনেক সময়, হরমোনের সাথে মস্তিষ্কে সেরিব্রাল সেরোটোনিন পিএমএসের জন্য দায়ী। অতএব, এই ধরনের সমস্যা বাড়াবাড়ি হলে মহিলাদেরকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

পিএমএস লক্ষণ

এটি প্রতিটি মহিলার মধ্যে ভিন্নভাবে প্রদর্শিত হতে পারে। তাদের তীব্রতা এবং প্রকৃতি প্রতি মাসিক পরিবর্তনের উপর পরিবর্তিত হতে পারে।

১. শারীরিক লক্ষণগুলি

দেহে ভারী অনুভব, মাথা ঘোরা বা মাথা ব্যথার অনুভূতি, পিঠের ব্যথা, পেটে ব্যথা, যৌনাঙ্গ ব্যথা। অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ করা, অম্লতা, স্তন টনটন করা, ইত্যাদি। আপনি খুব বেশি ক্ষুধার্ত বোধ করবেন না আবার বোধ কোলে খুব বেশী খেতে পারবেন না। পুরো শরীরের ব্যথা অনুভব করতে পারেন।

২. মানসিক লক্ষণ

ক্রমাগত বিরক্তিকর মেজাজ। মনোযোগ নিতে ভালোবাসবেন,  অনেক রাগ ও ক্ষুধা অনুভব করবেন, ক্ষুদ্র জিনিসে কান্নাকাটি করবেন। পিএমএস লক্ষ্য রাখা ও লক্ষণগুলি খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই উপসর্গগুলি বিপন্নতার লক্ষণ। মাসিক চক্রের আগে প্রায় ৮০ শতাংশ মহিলাদের কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণভাবে, পিএমএস ৫ থেকে ৮ শতাংশ মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুতর আকারে দেখা যায়। ডাক্তারদের দ্বারা তাদের নির্ণয় করা উচিত। পিএমএস সঠিকভাবে নির্ণয় করা প্রয়োজন।

কিভাবে নিজের খেয়াল রাখবেন?

১. জীবনধারণের পরিবর্তনগুলি প্রয়োজনীয়

আপনার নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট রুটিন নির্ধারণ করা প্রয়োজন, সময় সময় খাওয়া, রাত না জাগা, চা-কফির পরিমাণ কমাতে কমাতে হবে, ইত্যাদি। হয়তো একটু কঠিন , তও চেষ্টা করতে সমস্যা কি? যদি এটি সম্ভব না হয়, তাহলে মাসিক চক্রের কয়েকদিন আগে এই জিনিসগুলি পালন করা শুরু করুন। এবং একবার এই জিনিসগুলি অভ্যেস হয়ে গেলেদেখবেন আর অসুবিধা হচ্ছে না। জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলি প্রয়োজনীয়।

৩. খাদ্যাভ্যাস 

সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। উদাহরণস্বরূপ, নুন খাওয়ার পরিমাণ কমান, কম তেল যুক্ত খাবার খান, কফির মত উদ্দীপক খাওয়া কমান, ফল, সবজি, সালাদ ভোজন করুন, সঙ্গে চা খাওয়ার অভ্যেস কমান। বাড়ির সাধারণ খাবার খান, বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩. ব্যায়াম 

প্রতিদিনের শারীরিক ব্যায়াম সাধারণত আধ ঘন্টা করলে ভাল হরমোন নিঃসরণ হয়। এই সমস্যাতে যোগব্যায়াম এবং প্রাণায়ামও উপকারী হতে পারে। মানসিক ভারসাম্য অর্জনে ধ্যান বা খুব দরকারী হতে পারে। (তবে মাসিকের সময় বেশি ভারী ব্যায়াম করবেন না)

৪. পরিবার থেকে মানসিক শান্তি 

একজন নারী তার ব্যথা ও কষ্টের স্বীকার হলে তাঁকে মানসিক সমর্থন করা উচিত ও বোঝা উচিত। বিশেষ করে পরিবারের এই সমর্থন খুব প্রয়োজনীয়। তাই এই মহিলাকে এই সমস্যার মোকাবেলা করতে সাহায্য করুন।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon