Link copied!
Sign in / Sign up
0
Shares

মেনোপজ তো হয়; কিন্তু এই সংক্রান্ত সমস্ত সঠিক তথ্য ও জীবধারার ধরণ জানেন কি?


‘মেনোপজ’ শব্দটা নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা দূরের কথা, এ রকমটা এ বয়সে স্বাভাবিক, এভাবেই আমাদের পূর্বসূরিরা মেনে নিয়েছেন। তখন ‘কুড়ি’তে বুড়ি স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। আজকের পৃথিবীর ৬৫০ কোটি মানুষ ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৯০০ কোটিতে পৌঁছাবার আশঙ্কা রাখে।

আমাদের দেশের বিরাট জনসংখ্যার অর্ধেকই প্রায় নারী। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে রাখা মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নত স্বাস্থ্য প্রকল্প, যেমন-প্রসূতি, শিশু ও কিশোরীদের পুষ্টিমান উন্নত করা সম্পর্কিত কার্যক্রমগুলো শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার আরও কমাবে। এর ফলে নারীর গড় আয়ু ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। বর্তমানে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ লাখ নারীর জীবৎকাল মেনোপজাল সময়ে কাটে জীবনের এক-তৃতীয়াংশ। জীবনের শেষভাগের এই দীর্ঘ সময়ে কষ্টকর সমস্যা নিয়ে দুর্বিষহ-জীবন যাপন করা একটু কষ্টেরই। অথচ একটু সজাগ হলে, মেনোপজ সম্বন্ধে মোটামুটি ধারণা থাকলে, কিছু শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারলে জীবনের অবহেলিত সময়টাকেও অর্থবহ ও কর্মক্ষম করে তোলা যায়। ১৮ অক্টোবর সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব মেনোপজ দিবস’ পালিত হয়।

এ দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের বাস গ্রামে। সহজ-সরল, লাজুক গ্রাম্যবালা নিজের কোনো গোপন কথা, বিশেষ করে মাসিক ঋতুস্রাব-সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে সহজে কারও কাছে মুখ খুলতে চায় না। মেনোপজ আসে তাদের জীবনে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মচক্রে, এর বেশি কিছু জানা বা করার নেই তাদের। 

মেনোপজ কী

 ‘মেনো’ অর্থ মাস আর ‘পজ’ হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া। প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবর্তনে মেয়েদের ‘ওভারি’ বা ডিম্বাশয়ে যখন মাসিকনিয়ন্ত্রক হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্ট্রেরন আর তৈরি করে না, তখনই মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। মেনোপজের সময়কাল হচ্ছে চল্লিশের মাঝামাঝি বা শেষ থেকে পঞ্চাশের কোঠায়।


কীভাবে বুঝবেন মেনোপজ হতে যাচ্ছে

১. মাসিক অনিয়মিত হতে হতে বন্ধ হয়ে যাওয়া; ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত। গরম একটা তাপ ঢেউয়ের মতো মুখ, মাথা, কান, গলা থেকে বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে (হট ফ্লাশ); সঙ্গে যথেষ্ট ঘাম হয়, বিশেষ করে রাতে। প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ নারী এই কষ্টে ভোগেন।

২. ক্লান্তি, অবসাদ, ঘুমের অসুবিধা। মেজাজের পরিবর্তন, অল্পে রেগে ওঠা বা উত্তেজিত হওয়া। উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, হতাশা, শূন্যতার ভাব। দুর্বল স্মৃতিশক্তি, মনঃসংযোগের সমস্যা। প্রস্রাবের নানা অসুবিধা। যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া। এ ছাড়া হরমোন স্বল্পতার প্রতিক্রিয়া শরীরে কিছু বিলম্বিত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. হূদরোগ সমস্যা: মেনোপজের আগে পুরুষের চেয়ে নারীদের এ সমস্যা থাকে অনেক কম। মেনোপজের পর তা হয়ে যায় সমান সমান।

৪. অস্থিক্ষয় সমস্যা: ইস্ট্রোজেনের অভাব শরীরের হাড়কে করে তোলে পাতলা ও ভঙ্গুর। ৬০ বছর বয়সে প্রতি চারজনে একজন হাড় ভেঙে শয্যাশায়ী হন। ৭০ বছর বয়সে শরীরের শতকরা ৫০ ভাগ হাড় ক্ষয় হয়ে যায়। এটা অবশ্য সাদা বা ককেশিয়ানদের পরিসংখ্যান।


কীভাবে কাটাবেন এই সময়

১. একটা সুষম, সহজপাচ্য, কম ক্যালোরি কিন্তু অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারের তালিকা বানান। এতে থাকবে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ দুধ বা দুগ্ধজাত খবার, ভিটামিনসমৃদ্ধ সয়াজাতীয় খাবার এবং অনেক পানীয় রাখবেন প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়। চর্বি, মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও গুরুপাক খাবার বাদ দিন।

২. চিন্তা ও চাপমুক্ত, প্রয়োজনীয় বিশ্রামসহ একটি দৈনন্দিন জীবন।

৩. কিছু ব্যায়াম, যোগাসন, হাঁটাচলা আপনার শরীরকে রাখবে ঝরঝরে, সচল ও কর্মক্ষম। যেসব কাজ করলে মন শান্তি পায়, করতে আনন্দ হয়, তা করার চেষ্টা করুন। ব্যস্ত রাখুন নিজেকে। ত্বকের যত্ন নিন।

৪. এইচটি হরমোন-থেরাপি বা প্রতিস্থাপন প্রয়োজনে আপনার শারীরিক কষ্টগুলো নিরাময় করবে। তবে এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হবে। এখানে উল্লেখ্য, মেয়েদের মতো পুরুষদেরও শরীর ও মন এ ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, যাকে বলা হয় এনড্রোপজ। মেয়েদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের অভাবের মতো পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোসস্টেরনের অভাবে এটা হয়ে থাকে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon