Link copied!
Sign in / Sign up
5
Shares

মায়ের বুকের দুধ খেয়ে শিশুদের নানারকম সমস্যা ও তার সমাধান

মায়ের দুধ যে শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ সুচনা, একথা আজ আর কোনো নতুন কথা নয়।  মায়েরা জেনে গেছেন মায়ের দুধে রয়েছে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে মা ও শিশুর মাঝে গড়ে ওঠে নিবিড় সম্পর্ক। অতএব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে মা তার মাতৃত্ব পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলেই যে সব মা সহজেই সফলভাবে তা করতে পারবেন সেটা নাও হতে পারে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে মায়ের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস, বুকের দুধ খাওয়ানোর ইচ্ছা, কখন কী করতে হবে তা জানা। 

১. মায়ের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন-শিশুর অসুখ হতে পারে, বার বার পাতলা পায়খানা হতে পারে, বমি হতে পারে, পেটে গ্যাস হতে পারে, সে কান্নাকাটি করতে পারে অথবা মায়ের দুধ না খেতে চাইতে পারে।

২. শিশুর যে কোনো অসুস্হতার সময় মায়ের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতে মাত্র দু-একটি অসুস্হতায় বুকের দুধ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা দরকার হতে পারে।

৩. মায়ের দুধ খেলে সাধারণত শিশুর বার বার একটু পাতলা পায়খানা হতে পারে (এই পাতলা পায়খানা ১০-২০ বারও হতে পারে)। এটা কোনো অসুস্হতা নয়। তাই বেশি বেশি করে দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় বমি বা পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে। শিশু যদি মায়ের দুধ ঠিকভাবে মুখে পুরে না খায় তবে দুধ খাওয়ার সময় সে কিছুটা বাতাস খেয়ে ফেলে। এই বাতাসই তার বমি বা পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। তাই দুধ খাওয়ানোর সময় ঠিকমত দুধ মুখে নিয়ে খাচ্ছে কিনা সেটা লক্ষ্য করা অত্যন্ত জরুরি। পেট ফেঁপে গেলে কোলের ওপর বা বালিশের ওপর একটু উপুড় করে শোয়ালে আস্তে আস্তে বাতাস বেরিয়ে যাবে। এজন্য একটি কাজ করা যেতে পারে। সেটা হলো প্রতিবার বাচ্চাকে খাওয়ানোর আগে মা তার বুকের প্রথম দুধ খানিকটা চেপে ফেলে তারপর খাওয়াবেন। শেষের দুধটা প্রথম দুধের চেয়ে ঘন হওয়ার ফলে সমস্যাগুলো কমে যাবে।

৪. শিশু যদি মায়ের বুক না টানতে চায় তবে জোরাজুরি করা উচিত নয়। বরং নিরিবিলি ঘরে বসে মা আস্তে আস্তে তার মাথায় হাত বুলিয়ে কথা বলে ধৈর্যের সাথে চেষ্টা করবেন। যখন সে মুখ হা করবে তখন শিশুকে বুকের সাথে মিশিয়ে ধরতে হবে। মায়ের শিশুর দিকে ঝুঁকে যাওয়ার দরকার নেই।

৫. শুধু মায়ের দুধ খেলে কোনো কোনো শিশু সপ্তাহে একবার বা দু’বার পায়খানা করতে পারে। এর জন্যে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। একদিকে বার বার পাতলা পায়খানা হওয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে একবার পায়খানা হওয়া-এ দুটোই মায়ের দুধ খাওয়া শিশুর জন্য স্বাভাবিক।

৬. সম্পুর্ণ ভিন্ন পরিবেশ থেকে একটা শিশু পৃথিবীতে আসে। তার ঘুম, খাওয়া, পায়খানা, প্রস্রাব এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। এই প্রথম সময়টা যদি একটু ধৈর্যের সাথে পার করে দেয়া যায়। তখন উভয়েই তাদের নিজস্ব নিয়মে বুকের দুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে পারে।

৭. মা যদি চাকরিজীবী হন তবে তিনি চেপে বাটিতে দুধ রেখে যেতে পারেন। গালানো দুধ ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে ২৪ ঘণ্টা রাখা যায়। সামান্য গরম পানিতে দুধের বাটিটা বসিয়ে চামুচ দিয়ে তা শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। যদি বেশি দুধের দরকার হয় তবে মা আগের দিন থেকে তার দুধ চেপে সংগ্রহ করতে পারেন। প্রয়োজনে কর্মক্ষেত্রে শিশুকে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।

৮. সামনে খোলা জামা পরলে দুধ খাওয়াতে মায়ের সুবিধা হয়। সংসারের কাজ করতে করতে, যাতায়াতের সময়, লেখাপড়ার সময়, টিভি দেখা বা মেহমানদের সঙ্গে কথা বলা এবং সেই সাথে বুকের দুধ খাওয়ানো কোনো অসুবিধা হয় না যদি জামার বোতাম সামনে থাকে এবং বড় ওড়না, শাড়ির আঁচল বা চাদর দিয়ে গা ঢাকা থাকে।

৯. কোনো কারণে যদি বুকের দুধ খাওয়ানো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে তবে মা যখনই আবার খাওয়াতে চাইবেন তখনই শিশুকে বুকের দুধ টানাতে হবে। শিশু চুষলেই আস্তে আস্তে আবার আগের মতো দুধ আসবে।

১০. তবে কোনো অবস্হায়ই শিশুর মুখে বোতল বা চুষনী দেয়া উচিত না। তাহলে শিশু তার মায়ের বোঁটা মুখে নিতে চাইবে না। সে ওই নরম রাবারের বোঁটা বেশি পছন্দ করবে।

১১. আপনার শিশুর বয়স যদি দুই বছরের কম হয় এবং আপনি যদি তাকে বুকের দুধ কখনো না দিয়ে থাকেন তবে চেষ্টা করে দেখুন-আজ এবং এখনই। বুকের দুধ পান করা শিশুর জন্মগত অধিকার। তাকে এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার আমাদের কারো নেই।

১২. শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া উচিত নয়। এতে বুকের দুধ কমে যেতে পারে। তাই অন্য কোনো ব্যবস্হা নেয়া উচিত।

 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
100%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon