Link copied!
Sign in / Sign up
14
Shares

ডেট পেরিয়ে যাছে অথচ মাসিকের দেখা নেই! কেন জানুন

 

পিরিয়ডস ঠিক সময়ে না হলে সব মেয়েরাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। প্রাপ্তবয়স্ক বেশিরভাগ মেয়েরই মাথায় আসে প্রথম কথা—প্রেগনেন্সি। তবে পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যা যাঁদের থাকে তাঁদের কখনওই নিয়ম অনুযায়ী ঠিক ২৮ দিনে পিরিয়ডস হয় না।

কিন্তু এ ছাড়াও আরও ৭টি কারণ রয়েছে যা পিরিয়ডস দেরিতে হওয়ার কারণ—

১. দৈনন্দিন রুটিন হঠাৎ করে বিরাট পরিবর্তন হলে পিরিয়ডস পিছিয়ে যেতে পারে।

২. দূরে কোথাও বেড়াতে গেলে, বিশেষ করে যদি সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তবে শরীর তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নেয়। এই কারণেও দেরি হতে পারে।

৩. প্রচণ্ড স্ট্রেস থাকলে তা শরীরের সব সিস্টেমের উপরেই প্রভাব ফেলে। এর কারণেও পিরিয়ডস দেরিতে হয়।

৪. শরীর অসুস্থ থাকলে শরীরের সব অর্গানের উপরেই প্রভাব পড়ে। এর জন্যেও দেরিতে পিরিয়ডস হয়।

৫. হঠাৎ করে ওজন কমলে বা বাড়লেও পিরিয়ডস পিছিয়ে যেতে পারে।

৬. পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খেলে বা শরীরে জলীয় পদার্থের পরিমাণ অনেক কম থাকলে পিরিয়ডস ঠিক সময়ে হয় না অনেক সময়।

৭. তীব্র ডিপ্রেশনের শিকার হলেও তা পিরিয়ডসের উপরে প্রভাব ফেলে। শুধু পিছিয়ে যাওয়া নয়, একটি মাস স্কিপও হতে পারে।

৮. শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা হয়।

৯. বিবাহিত নারীরা হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ বন্ধ করে দিলে হতে পারে।

১০. শরীরের রক্ত কমে গেলে অর্থাৎ এনিমিয়া হলে অনিয়মিত মাসিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

১১. জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে হতে পারে।

১২. যেসব নারী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারীর অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

১. যদি বছরে তিন বারের বেশি ঋতুস্রাব না হয়।

২. যদি ঋতুস্রাব ২১ দিনের আগে এবং ৩৫ দিনের পরে হয়।

৩. ঋতুস্রাবের সময় বেশি রক্তপাত হলে।

৪. সাত দিনের বেশি সময় ধরে ঋতুস্রাব হলে।

৫. ঋতুস্রাবের সময় খুব ব্যথা হলে।

 

জীবনযাপনে পরিবর্তন

১. শরীরের ওজন সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

৩. পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।

৪. আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে যাতে শরীরে পরিমিত পরিমাণে রক্ত থাকে।

হঠাৎ করে আপনার মাসিক অনিয়মিত হওয়া শুরু করলে সেটিকে নিয়মিত করার সহজ কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। আসুন উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
১। আদা

ঋতুস্রাবের চক্রকে নিয়মিত করতে আদা বেশ কার্যকর। ১ কাপ জলে ১/২ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট সেদ্ধ করে নিন। আপনি চাইলে এতে সামান্য চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন। তিনবেলা খাওয়ার পর এটি পান করুন। নিয়মিত এক মাস এটি পান করুন।

২। তিল এবং গুড়

তিল আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে। তিলের উপাদান হরমোন উৎপাদন করে থাকে। অল্প পরিমাণের তিল ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এর সাথে এক চামচ গুড় মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন খালি পেটে এক চা চামচ করে খান। প্রতিদিন গুড় খেলেও আপনার মাসিক নিয়মিত হবে।

৩। আপেল সাইডার ভিনেগার

খাবার খাওয়ার আগে ১-২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার জলে মিশিয়ে পান করুন। এটি রক্তের ইলসুলিন এবং ব্লাড সুগার কমিয়ে দিয়ে থাকে। যা মাসিক নিয়মিত করে থাকে।

৪। ব্যায়াম

নিদিষ্ট কিছু ব্যায়াম যেমন লাফানো, নাচ ইত্যাদি করলে অনেক সময় মাসিক হয়ে যায়। এর কারণে পেশি বাঁধা পেয়ে থাকে যার কারণে পেশি সংকোচন শুরু করে, শরীরে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দিয়ে থাকে। ঋতুস্রাব শেষ হবার পরে ব্যায়াম করলে পরবর্তী সময়ে সঠিক সময়ে মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫। টক জাতীয় ফল

টক জাতীয় ফল বিশেষ করে তেঁতুল মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে থাকে। চিনি মেশানো জলে তেঁতুল এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এর সাথে লবণ, চিনি এবং জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুই বার পান করুন। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করে দেবে।

আপনি যদি প্রায়ই অনিয়মিত মাসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে বুঝতে হবে আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করার সময় হয়ে এসেছেন। খাদ্যতালিকায় শাক সবজি, ফল রাখুন। আনারস অনেক সময় অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করে দিয়ে থাকে।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon