Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

মাঝ বয়সী বাঙালি মহিলাদের জীবন থেকে আকাঙ্খা কমে যাওয়ার কারণ কি?

পাল্টে যাচ্ছে সময়। এবং সেটাও, খুব দ্রুত। গৃহবধূ হোন বা কর্মরতা, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন সকলে। আর সেই ব্যস্ততার ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো। নীরবে...

স্বামী, সন্তান, অর্থ, ভাল চাকরি— সব মিলিয়ে উপরে উপরে বেশ ভরাট ব্যাপার। কিন্তু তলে তলে দীর্ণ হচ্ছেন একজন। সংসারের যন্ত্র যাঁর সৌজন্য তেল খাওয়া মেশিনের মতো সচল, তিনি কেমন আছেন? গড়় বাঙালি পরিবারে সেই খবর নেওয়ার সময় কি কারও রয়েছে? সম্ভবত নেই। কেননা, গত দু’দশকে বাঙালি সমাজ এবং পারিবারিক গঠন যেভাবে পাল্টে গিয়েছে, তাতে গতি এসেছে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই আছে। কিন্তু যে বিন্দুটিকে ঘিরে এই গোটা তন্ত্র আবর্তিত হচ্ছে, সেটির উপরে চাপ বেড়েছে দিনে দিনে। এবং, শুনতে খারাপ লাগলেও, তাঁরা, অর্থাৎ এই চক্রের কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁদের অবস্থান, তাঁদের প্রতি উপেক্ষা বাড়ছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালি পরিবারে মহিলাদের, বিশেষ করে মাঝবয়সি মহিলাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে, এমনটা অবশ্যই নয়। কিন্তু ঘটনাচক্র যেভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে, তাতে তাঁদের সমস্যাটাই সবথেকে বেশি। কীভাবে তাঁদের যৌনচেতনা ধাক্কা খাচ্ছে প্রতিপদে, তা একবার তাঁদের একটি দিনের কার্যতালিকার উপরে চোখ বোলালেই পরিষ্কার হবে।

দিনের শুরু থেকেই সংসারের চাকা গ়়ড়ায় ছেলেমেয়েকে নিয়ে এঁদের ব্যস্ততার মধ্যে। তাদের স্কুলের জন্য তৈরি করা, স্কুলের গাড়়িতে তুলে দেওয়া বা পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু। এর পরে বাড়ি ফিরে স্বামীকে অফিসের জন্য তৈরি করা। তাঁর ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ। সঙ্গে নিজের অফিস থাকলে কথাই নেই। বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো জুড়ে থাকে পরিচারিকাকে সামাল দেওয়া। তিনি না-এলে খাটুনি ডাব্‌ল। অফিস থাকলে এর পরে বস‌্, সহকর্মীদের সামাল দেওয়া। না-থাকলে ঘরের বাকি কাজ করে দুপুরে নাকেমুখে গুঁজে ক্ষণিকের বিশ্রাম।

বিকেলও শুরু হয় সন্তানদের দিয়ে। সন্ধের সময়েও তাদেরই অধিকার একচেটিয়া। পড়ানো বা পড়াতে নিয়ে যাওয়া, ফিরে রাতের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা। কর্মরতাদের এ সবই করতে হয় কানে অফিসের ফোন গুঁজে। হা-ক্লান্ত শরীর এর পরে রাতে আর যৌনতায় সাড়া দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না।

এর সঙ্গে জুড়ে নেওয়া যাক মাঝবয়সের নানা শারীরিক সমস্যা। নানা স্ত্রীরোগ শরীরে জাঁকিয়ে বসতে থাকে এই সময় থেকেই। শারীরিক এবং মানসিক চাপ বাড়লে, এই সব রোগও ডালপালা ছড়াতে থাকে দ্রুত। যা অনিবার্যভাবে প্রভাব ফেলে লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষার উপরে। কমতে থাকে যৌনমিলনের ইচ্ছা। এর পরিণতি একটিই, তীব্র মানসিক অবসাদ।

ঠিক এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে গড় বাঙালি পরিবারের মহিলাদের মাঝবয়স। এর থেকে মুক্তির উপায় কী? খুঁজতে হবে...অবশ্যই খুঁজতে হবে...

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon