Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

মা হওয়ার পর আপনার কাছে যে ৫টি সম্পর্কের গুরুত্ব কমে আসে


অ্যারিস্টটল বলেছেন, “মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সামাজিক জীব; কোন একজন ব্যক্তি যিনি প্রাকৃতিকভাবে আসামাজিক তিনি হয় আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকেন বা অতিমানব। সমাজের গুরুত্ব ব্যক্তি গুরুত্ব থেকে অধিকতর।”

যে কোন একক ব্যক্তির পক্ষে এই বিশ্বে টিকে থাকার জন্য অন্য মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাল থাকার অন্যতম শর্ত হল অন্যদের সঙ্গে সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক রক্ষা করা। সুন্দর পারস্পরিক সম্পর্ক যে দীর্ঘস্থায়ী, নির্ভরযোগ্য এবং সুখী জীবন গঠনের সহায়ক, এর অনেক নিদর্শন আছে। এসব স্বত্তেও আপনি যখন মা হয়ে ওঠেন তখন কিছু কিছু সম্পর্ক আপনার কাছে গৌণ হয়ে যায়।

পরবর্তী অংশটুকু পড়ুন, হয়ত কয়েকটি আপনার পরিচিত মনে হবে।

 

১। ঘনিষ্ট আন্তরিক সম্পর্ক

মা হওয়ার পর যা আপনি সবার আগে এড়িয়ে যাবেন তা হল ঘনিষ্ট আন্তরিক সম্পর্ক। আপনাকে এটা মানতেই হবে যে যখন আপনি শিশুর ডায়াপার বদলাতে চলেছেন বা বাচ্চার ফেলে ছড়ানো আবর্জনা পরিষ্কার করছেন তখন আপনি কোন প্রেমেনুভুতির কথা ভাবতেই পারবেন না। তার উপর মা হওয়া একটি ২৪ ঘন্টার কাজ যার থেকে আপনি একদিনও ছুটি পাবেন না। আপনিই তখন তাদের পৃথিবী এবং তারা আপনার হয়ে ওঠেন।

 

২। আবেগময় সম্পর্ক

মা হওয়ার পর আপনার মনে হবে যেন আপনি স্বামীর সঙ্গে আবেগময় সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এটা তেমন খারাপ কিছু ব্যাপার নয় এবং সম্পূর্ণতঃ আপনার দোষও নয়। কখনও কখনও মায়েরা শিশুর জন্ম দেওয়ার পর বিষন্নতা এবং মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হন, এটি এক ধরণের মানসিক সমস্যা যা শিশু জন্মানোর পর অভিভাবক, বিশেষতঃ মায়ের উপর, প্রভাব বিস্তার করে। এটি একটি সাধারণ ব্যাপার এবং এর চিকিৎসা সম্ভব। এর উপসর্গগুলির মধ্যে আছে বিষাদ, উৎসাহের অভাব, যৌনতার প্রতি আকর্ষণ হারানো, দীর্ঘক্ষণ কান্না, অসহিষ্ণুতা এবং উদ্বেগ।

 

৩। পেশাগত সম্পর্ক

সহকর্মীদের এবং কার্যালয়ের অন্য সহযোগীদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কও যেন ক্ষীণ হয়ে আসে। এর অন্যতম কারণ এই যে মা হওয়ার পর আপনি সহকর্মীদের সাথে বাইরে যাওয়ার সময় পাবেন না। কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা রাতে বাইরে পার্টি করা যায় না, এবং কখনও আপনি বাইরে বেরোলেও আপনি ভাবতে থাকেন যে বাড়িতে আপনার বাচ্চা কি করছে, সে সময় মত খাবার খেল কিনা, তার কান্নার সময়ে তাকে কেউ সান্তনা দিল কিনা, ইত্যাদি। সুতরাং আপনার আনন্দের প্রচেষ্টা অর্থহীন হয়ে পড়ে যেহেতু আপনি সন্তানের থেকে দূরে থাকা সহ্য করতে পারেন না।

 

৪। অধিকার সচেতনতা

বেশ কিছু মায়েরা তাদের সন্তানের ব্যাপারে খুবই অধিকারবাদী হন। যখন আপনি চান না যে অন্য লোক আপনার বাচ্চাকে স্পর্শ করুক, তখন আপনি অন্যের অনুভুতিকে আহত করেন। যদিও এটা খুব সাধারণ ব্যাপার এবং এর জন্য হয়ত আপনার কাছে যথেষ্ট কারণ আছে – কিন্তু কোন মায়ের কাছ থেকে এই আচরন সমাজ ভালভাবে গ্রহণ করে না। আপনি আপনার বৃহত্তর পরিবারকে আপনার শিশুর থেকে আলাদা করতে পারেন না, বিশেষতঃ ঠাকুমা ঠাকুরদার কাছ থেকে কেননা তাঁরাও চান আপনার সন্তানের প্রতি তাদের স্নেহ প্রকাশ করতে।

 

৫। সামাজিক সম্পর্ক

যখন আপনি একজন মা হয়েছেন এবং কোন পাড়াতে বা ফ্ল্যাটে থাকেন, তখন পাড়ার বন্ধুদের বা আবাসনের বন্ধুদের আয়োজন করা কোন উৎসবে বা সামাজিক মিলন মেলাতে যোগদান করা আপনি বন্ধ রাখতে পারেন। হঠাৎ করে আপনি আবিষ্কার করবেন যে যেসব সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকা আপনি আগে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন সেগুলি থেকে আপনি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। যখন আপনি নতুন মা হয়েছেন তখন এটা সাধারন ঘটনা, কিন্তু এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে আপনার কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

 

যদিও প্রথম দিকে এই সমস্ত সম্পর্ক এবং অনুভূতিড় সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আপনার পক্ষে কষ্টকর হবে, কিন্তু অবশেষে আপনি নিশ্চিন্তভাবে উৎরে যাবেন। মানুষজন থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকতে চেষ্টা করুন, বিশেষ করে আপনার স্বামীর থেকে দূরে থাকবেন না। বরং এইসময় আপনার পাশে তার উপস্থিতি খুব স্বস্তিদায়ক মনে হবে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon