Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

কুসংস্কার নয়, মাসিকের সময় মেনে চলুন এগুলি


নারীর জন্য মাসিক সাধারণ একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। প্রত্যেক মাসে নির্দিষ্ট সময়ে মাসিক শুরু হওয়ার মাধ্যমে একজন নারীর শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত হয়। এই ঋতুচক্রের সময় নারীদের কিছু কাজ করা থেকে, কিছু খাদ্য গ্র্রহন করা থেকে বিরত থাকতে হয় নিজেদের সুস্বাস্থ্যের জন্যে, কিন্তু অনেকেই যে ব্যপারগুলো সম্পর্কে একেবারেই জানেন না। পরিবারের বয়স্ক কারোর কাছ থেকে জেনে আসা কথার সাথে বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানী এবং ডাক্তারদের তথ্যের মধ্যে অনেক অমিল পাওয়া যায়।

ভুলবশত অথবা অজ্ঞতার ফলে না জেনে মাসিকের সময়ে অনেকেই এমন কিছু করে ফেলেন যা এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। মাসিকের সময় কোন কাজগুলো এড়িয়ে যাওয়া দরকার তা নিজের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য প্রতিটি নারীর জেনে রাখা উচিৎ। আসুন জেনে নেওয়া যাক-

১. শেভ করা অথবা ওয়াক্স করা বন্ধ রাখুন 

মাসিকের সময়ে শরীরে ‘ইস্ট্রোজেন’ এর মাত্রা অনেক বেশী পরিমাণে কমে যায়। ইস্ট্রোজেন-এর মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরে ব্যাথার অনুভূতি অনেক বেশী তীব্রভাবে বেড়ে যায়। অর্থ্যাৎ, শরীর অনেক বেশী অনুভূতিশীলপূর্ণ হয়ে থাকে, যার ফলে মাসিকের সময়ে ত্বকে শেভ করা অথবা ওয়াক্স করা অন্ধ রাখা উচিৎ। শেভ করার সময় অসাবধানতায় কেটে গেলে কষ্ট অনেক বেশী বেড়ে যাবে। এছাড়াও ওয়াক্সিং এর সময়ে অনেক বেশী কষ্ট হয়, যার মাত্রা মাসিকের সময় বেড়ে যায় আরও অনেকটা। 


২. বেশী আবেগপূর্ণ সিনেমা দেখা থেকে দূরে থাকতে হবে

এটা নিশ্চই প্রত্যেকজন মহিলা নিজে থেকেই বুঝতে পারেন যে মাসিক চলাকালীন মেজাজ খুব বেশী মাত্রায় অস্থিতিশীল অবস্তায় থাকে। এর মূল কারণ, মাসিকের ফলে শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটা। হরমোনের তারতম্য দেখা দেওয়ার ফলে শরীরের অসামঞ্জস্যতা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে মনও অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত এবং আবেগ ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে। এমন অবস্থায় খুব বেশী আবেগপূর্ণ সিনেমা দেখলে মনের উপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। আবেগপূর্ণ সিনেমা দেখার পরিবর্তে মাসিকের সময়ে হালকা ধাঁচের সিনেমা দেখলে মন ভালো থাকবে।


৩. চুপচাপ অকর্মণ্যভাবে বসে থাকা নয় 

এতদিন ধরে আমরা জেনে এসেছে যে মাসিকের সময় খুব বেশী কাজ করা উচিত না। অথবা নিয়মিত ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ের গবেষণা জানাচ্ছে একেবারেই অন্য কথা। মাসিকের সময়ে শারীরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ। শারীরিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে পেটব্যথা, মানসিক দুশ্চিন্তা অথবা মনের বিক্ষিপ্ত ভাব কমে যায় অনেকখানি।

৪. দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকতে হবে

যদিও মাসিকের সময়ে শরীরে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন থাকে,তাও এই সময়ে দুধ এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য যেমন; পনীর বা দই খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিৎ। কারণ এই সব খাদ্যে রয়েছে একটি এসিড। এই এসিডের নাম ‘অ্যারাকিডোনিক এসিড।’ এই এসিড পেটের নীচের অংশে অর্থাৎ তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা সৃষ্টি করার জন্য দায়ী।


৫. স্যানিটারি ন্যাপকিন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা উচিত নয় 

অনেকেই অলসতার জন্য অথবা অজ্ঞতার জন্য একই স্যানিটারি ন্যাপকিন সারাদিন ধরে ব্যবহার করে থাকেন। এটি নারীর স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকর। প্রত্যেকটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্যাকেটে লেখা থাকে ৮ ঘণ্টা পরপর বদলানোর কথা। তবে নিজের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ৪-৫ ঘণ্টা পরপর স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলানো খুব জরুরি। না হলে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামণ ঘটে থাকে এবং দূর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।


৬. অতিরিক্ত নুন যুক্ত খাদ্য এড়িয়ে যেতে হবে

মাসিকের সময় এমন ধরণের খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ যে খাবারে অনেক বেশী পরিমাণে নুন  রয়েছে, যেমন; ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, চানাচুর ইত্যাদি। নুনে থাকা সোডিয়াম মাসিকের সময়ে রক্তপ্রবাহ মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, পেটে ব্যথা, জল আসার মতো সমস্যাগুলোও বেড়ে যায় অনেকখানি।


৭. বেশী ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা নয় 

অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে মাসিকের সময়ে শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যায় বলে এই সময়ে বেশী ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ। একই সাথে এটাও মনে করেন যে এই সময়ে বেশী ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে তাতে ওজন বাড়াবে না। অথচ এই দুটি ধারণাই একেবারে ভুল। আসল ব্যাপার হলো, মাসিকের সময়ে সাধারণ খাবার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিৎ প্রতিটি নারীর। কিন্তু, বেশী ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে সেটি শরীরে চর্বি হিসেবে জমে থাকবে যা পরে ব্যায়ামের মাধ্যমে কমাতে হবে। রক্তপ্রবাহের ফলে কোনো ওজন বাড়বে না,এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon