Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

কখন এবং কিভাবে বন্ধাত্বের জন্য সাহায্য চাইবেন?


সন্তান ধারণ করা সর্বদা সহজ হয়না এবং সবার ক্ষেত্রে সময়সীমাও রক্ষিত হয়না। বন্ধাত্ব নারী বা পুরুষ যে কারুর থাকতে পারে এবং মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।যদিও চাপের মুখে অধৈর্য হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার, তবু সময় থাকতে সাহায্য নেওয়াও খুবই জরুরি।তাই, কতদিন আপনি নিজে চেষ্টা চালানোর পর চিকিৎসকের সাহায্যের জন্য হাত বাড়াবেন এবং কিভাবে বন্ধাত্বের জন্য সাহায্য চাইবেন তার সম্বন্ধে বিশদে জানানো হলো।

কখন বন্ধাত্বের জন্য সাহায্য চাইবেন ?

আমেরিকান সোসাইটি অফ রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন ( American Society Of Reproductive Medicine ) এর মতে ,এক বছর অরক্ষিত যৌন মিলনের পরেও স্ত্রী গর্ভবতী না হলে দম্পতির চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।যদি নারীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের বেশি হয়, তাহলে এতোদিন অপেক্ষা না করলেও চলে। ছমাস অরক্ষিত যৌন মিলনের পরেই তাঁরা চিকিৎসকের সাহায্য নিতে পারেন।

এই সময়সীমার মধ্যে গর্ভে সন্তান না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।যদিও বয়সের সাথে অনুর্বরতা বৃদ্ধি পায়,অল্পবয়সী দম্পতিরও বন্ধ্যত্বের সমস্যা থাকতে পারে। কখনো কখনো বন্ধাত্ব কোন শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে। এটি সময়ের সাথে সাথে আরো সমস্যা-সঙ্কুল হয়ে উঠতে পারে।চিকিৎসকের সাহায্য নিতে যত দেরি হবে চিকিৎসায় সাফল্য লাভ করার সম্ভাবনাও ততই কমে যাবে।

যদি কোন নারীর ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়,এন্ডোমেট্রিওসিস (endometriosis), পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম(PCOS),সময়ের আগেই ঋতুবন্ধ বা মেনোপসের পারিবারিক ইতিহাস, জরায়ুর অকাল অক্ষমতার সমস্যা (primary ovarian insufficiency) অথবা দম্পতির মধ্যে কোন একজনের কখনো কোন যৌন রোগের ইতিহাস থাকে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

উপর্যুপরি দুবার গর্ভপাতও সমস্যা নির্দেশ করে, এবং এক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক ।

কিভাবে সাহায্য পেতে পারেন?


১. আপনার পরিচিত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন

বন্ধ্যত্বের জন্য কোন ক্লিনিকে যাওয়ার আগে, আপনার পরিচিত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন এবং ইউরোলজিস্টের (urologist) সাথে যোগাযোগ করে আপনার সঙ্গীর উর্বরতার পরীক্ষা করিয়ে নিন । ইউরোলজিস্টেরা কিছু সাধারণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন হলে রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রিনোলজিস্টের (Reproductive endocrinologist) কাছে প্রেরণ করেন।

২. প্রাথমিক উর্বরতার পরীক্ষা

নারীর উর্বরতা পরীক্ষায় প্রাথমিক ভাবে রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্য পরীক্ষা করা হয়।আপনার চিকিৎসক প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা যেমন পেলভিক টেস্ট( pelvic test),pap smear( pap smear)এবং সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিসিস(STD) টেস্ট করার পরামর্শ দিতে পারেন। আপনাদের লক্ষণ বিচার করে ভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড(vaginal ultrasound),এইচ এস জি(HSG) অথবা ডায়াগোনেস্টিক ল্যাপরোস্কপি(diagnostic laparoscopy) করতেও বলতে পারেন।


৩. বন্ধ্যত্বের প্রাথমিক চিকিৎসা

প্রাথমিক উর্বরতার পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আপনার ডাক্তার হয়তো আপনাকে বন্ধ্যত্বের প্রাথমিক চিকিৎসা যেমন লেটরোজোল( Letrozole),মেটফরমিন (Metformin) এর কথা বলবেন। যদি কোন শারীরিক কাঠামোগত ত্রুটি থাকে আপনার স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ আপনাকে শল্যচিকিৎসা(surgery) করতে বলবেন অথবা আপনাকে উর্বরতা বিশেষজ্ঞ( fertility specialist) এর কাছে পাঠাবেন ।

যদি পুরুষের বন্ধ্যত্বের সমস্যা থাকে,আপনার সঙ্গীকে হয়তো এনড্রোলজিস্ট (andrologist) এর কাছে পাঠানো হবে।

৪. ফার্টিলিটি ক্লিনিক বা বন্ধাত্ব দূরীকরণ চিকিৎসালয়

যদি বন্ধ্যত্বের প্রাথমিক চিকিৎসা বিফল হয় অথবা পরীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা যায় আপনার বিশেষজ্ঞের দ্বারা চিকিৎসার প্রয়োজন, আপনাকে বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হবে।তার মানে আপনাকে একটি উপযুক্ত বন্ধাত্ব চিকিৎসার ক্লিনিক বেছে নিতে হবে ।



৫. আরো কিছু উর্বরতার পরীক্ষা

বেশি ভাগ ক্ষেত্রে (যদিও সবসময়ই নয়) উর্বরতা বিশেষজ্ঞ বন্ধাত্ব ক্লিনিক গুলো আরো নতুন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলে অথবা আগে করা পরীক্ষা পুনর্বার করতে বলে।

৬. ভবিষ্যতের কার্যক্রম আলোচনা করা

আপনি উর্বরতা সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলির ফলাফল হাতে পেয়ে গেলে, ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে আপনার জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা প্রণালী নিয়ে ভবিষ্যত কার্যক্রম আলোচনা করবেন । চিকিৎসা নিয়ে আপনার সব দ্বিধা প্রশ্ন করে দূর করুন,কত শতাংশ দম্পতি এতে সফল হন এবং এর খরচ কতো।


৭. পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধাত্বের চিকিৎসার সূচনা

আপনি এবং আপনার সঙ্গী যখন চিকিৎসা করানো বিষয়ে মনস্থির করে ফেলবেন, হয়তো দেখবেন প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসার সূচনা অপেক্ষাকৃত সরল লাগছে । আবার এমনও হতে পারে চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ জটিল এবং সমস্যা সঙ্কুল মনে হচ্ছে। আপনারা চিকিৎসায় উচ্ছসিত হতে পারেন।যদি চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করতে কোন সমস্যা হয় আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন ।

৮. অসফল হলে চিকিৎসা পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করুন

প্রথম বারেই চিকিৎসা সফল নাও হতে পারে, এবং বন্ধাত্বের চিকিৎসা বারংবার নানাবিধ চেষ্টাতেই সফল হয়।তাই, একটি পদ্ধতি অসফল হলে আপনার চিকিৎসক হয়তো অন্য কোন পদ্ধতির প্রস্তাব দিতে পারেন।একজন ভালো ডাক্তার জানেন কখন একই চিকিৎসা পদ্ধতি আরো কিছু বেশি দিন ধরে অনুসরণ করা উচিত।


৯. চিকিৎসা সফল হলে একটি স্বাস্থ্যকর গর্ভধারণ কালের পরিকল্পনা করুন

যদি আপনার চিকিৎসা সাফল্য লাভ করে, আপনার ফার্টিলিটি ক্লিনিক গর্ভকালের প্রথম কয়েক সপ্তাহ খুব মনোযোগের সাথে নজর রাখবে এবং আপনার কিছু হরমোনের চিকিৎসা বা ইঞ্জেকশনের প্রয়োজন হতে পারে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon