Link copied!
Sign in / Sign up
11
Shares

যৌনতা থেকে সংসার সবকিছু দুর্দান্ত চলার সত্ত্বেও কেন মানসিকভাবে ভোগেন মাঝ বয়সী বাঙালি মেয়েরা?

ঘর, সংসার, অর্থ, পরিবার, শরীর— কী নেই? তবু কীসের অভাব কুরে কুরে খাচ্ছে মধ্যবয়সি বাঙালি মহিলাদের? কেন তীব্র মানসিক চাপ গ্রাস করছে তাঁদের?

বাঙালি নয়, পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মাঝবয়সি মহিলাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সমানভাবে প্রযোজ্য বাঙালিদের ক্ষেত্রেও।

মাঝবয়সে পৌঁছলেই মানসিকভাবে চাপ উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে বাঙালি মহিলাদের। ৩৫ পেরিয়ে যাওয়ার পরে মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণও দেখা যায়। প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন বাঙালি মহিলার মধ্যে কিছু না কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে ভুলে যাওয়া, আত্মবিশ্বাসের অভাবের মতো আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো কিন্তু প্রভাবে বড় সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অনেকের মধ্যেই অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি) বাসা বাঁধতে শুরু করে।

কী থেকে এই সমস্যার সূত্রপাত? গোড়াতেই আসে অবসাদ বা ডিপ্রেশন। এই বয়সে এসে যৌনচাহিদা বেড়ে যায়। সেটা একেবারে জৈবিক কারণে। ইসট্রোজেন হরমোন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হতে থাকে। কিন্তু মানসিক তৃপ্তি আসে কি? সেটা নির্ভর করে সঙ্গীর যৌনক্ষমতার উপরে। ঘটনা হল, এই সময়ে জীবনে পাওয়া বা না-পাওয়ার হিসেবগুলো অনেক বেশি পরিমাণে আসতে থাকে। শরীর আর মনের মধ্যে তৈরি হয় এক অদ্ভুত দূরত্বের। এই শূন্যস্থান পূরণ করা হয়ে ওঠে কঠিন থেকে কঠিনতর।

একদিকে পরিবার, অন্যদিকে চাকরি। সঙ্গে সমাজ এবং সামাজিকতা— বাঙালি মহিলাদের উপর চাপ কিন্তু দিনে দিনে বাড়ছে। যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল শরীর আর মনের দূরত্বে, তার উপরে চেপে বসতে থাকে হরেক রকমের দায়িত্বভার। সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে কেরিয়ার-সর্বস্ব স্বামীর যত্নআত্তি— নিজেকে নিয়ে ভাবার ফুরসত পান না আজকের বাঙালি নারী।

এর সঙ্গেই জৈবিক নিয়মে ধীরে ধীরে শরীরে আসে নানা পরিবর্তন। যা মূলত হরমোনের কারুকাজ। মনের উপরে এই প্রভাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেতিবাচক হয়। সব মিলিয়ে শুরু হয় খিটখিটে মেজাজ, কারণে-অকারণে রাগ। পরিবারের সকলের জন্য প্রাণপাত করার পরেও সকলে বিরক্ত হন। এতে আরও চাপ বাড়তে থাকে।

তা হলে সমাধান? মনোবিদরা বলছেন, এই বয়স থেকেই প্রয়োজন সহমর্মিতার। নারী-শরীরে যেভাবে এবং যে গতিতে এই বয়সে পরিবর্তন আসে, পুরুষদের শরীরে সেভাবে আসে না। ফলে, যে মানসিক টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে একজন মহিলাকে যেতে হয়, সেটা কোনও পুরুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। মাঝবয়সে যদি কেউ অবসাদে ভোগেন বা খিটখিটে হয়ে যান, তা হলে বুঝতে হবে সমস্যাটা মূলত শারীরিক এবং স্বাভাবিক। সেই অর্থে এর কোনও ওষুধ নেই। সমাধান একটিই— স্নেহ আর ভালবাসা। একটু উষ্ণতা আর অনেক অনেক রঙিন স্বপ্ন

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon