Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

জন্মের পর ৯দিন পর্যন্ত মা সদ্যজাতকে রেখে দিলেন তার নাড়ি সমেত! কি হলো তারপর?


সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে, নতুন নতুন চিন্তাধারা ও আবিষ্কার বিশ্ব গ্রহন করেছে। আমরা এটা উপেক্ষা করতে পারবনা, বিশ্বে এই নানান নতুন চিন্তাধারার সাথে জন্ম পদ্ধতিতেও এসেছে নানা নতুনত্ব। আর‘লোটাস বার্থ’ হল এরমি একটা নতুন আবিষ্কার। না, এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের কথা বলছিনা। এ হল এক নতুন জন্ম পদ্ধতি। বিশ্বজুড়ে যা নিয়ে এখন চলছে বিস্তর গবেষণা ও অনুশীলন। যা কিনা একদিকে যেমন চর্চিত হচ্ছে, ঠিক তেমনই অন্যদিকে গ্রহণযোগ্যতাও পাচ্ছে।

ভানেসা ফিসার একজন নতুন মা। যিনি প্রথমে ভুরু কুঁচকে ছিলেন, যখন তিনি সিধান্ত নিয়েছিলেন এই পদ্ধতিতে তার শিশুর জন্ম হবে। যেখানে কিনা বাচ্ছার নাভির থেকে বেরনো অংশ, বা নাড়ি না কেটে, রেখে দেওয়া হয়। যেটা নিজে থেকেই ঝরে পড়ে যায় জন্মের কিছুদিন পর। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বাচ্ছার জন্মের পরই এটা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ফিশার তার ভেবেছিল, কীভাবে তার তার ছোট্ট সোনামণিকে তার স্বাগত জানানো উচিত। এবং অবশেষে সে গ্রহন করে এই পদ্ধতি। কিন্তু কীভাবে শিশুর জন্ম হয় এই ‘লোটাস বার্থ’ পদ্ধতিতে? যেখানে নাড়িকে রেখে দেওয়া হয়। আদৌ কি এটা বাচ্ছার জন্য ভালো? চলুন দেখা যাক।

‘লোটাস বার্থ’ কি? ও কীভাবে হয় এটি

‘লোটাস বার্থ’ জন্মের এই ধারনাটি এসেছে, নাড়ির কিছু তাৎপর্য ও হিন্দু ও বুদ্ধ ধর্মে এই পদ্মের নিষ্ঠা থেকে। হিন্দু ও বুদ্ধ ধর্মে এই ফুল পূজার কাজে ব্যবহার করা হয়। হিন্দু ধর্মের বহু দেবদেবী এই পদ্মের ওপর অধিষ্ঠান করেন। তাই এটি খুবই শুভ। এই কালচারের কথা মাথায় রেখেই এই নামকরণ। এক্ষেত্রে জন্মের পর বাচ্ছার নাড়ি তার নাভি থেকে আলাদা করা হয়না। বাচ্ছাকে রাখা হয় তার নাড়ি সমেত। নাড়িটি যতদিন থাকে ততদিন রেখে দেওয়া হয়। নাড়িকে নিজে থেকেই শুকিয়ে যাওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হয়। বাচ্ছার বাবা মাও বাচ্ছাকে নিয়ে যান এই নাড়ি সমেত। এমনকি সেই নাড়ির স্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলেও।

ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অর্গানাইজেশন এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ ও গর্ভফুল বা প্লাসেন্টায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। প্লাসেন্টা থেকেই বের হওয়া নাড়ি যুক্ত থাকে শিশুর নাভিতে। তাই এই প্লাসেন্টা থেকেই শিশুর শরীরে যায় আয়রন। যেটা শিশুর শরীরের আয়রনের চাহিদা পুরোপুরি মেটায়। যার ফলে শৈশবে কখনও শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়ার মত রোগ হওয়ার সম্ভবনা অনেকটা কম।

বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা ছাড়াও, এই পদ্ধতি অনেক বেশী প্রাকৃতিক। ও কম বেদনাদায়ক। ফিশার এর কথায়, এখন নতুন বাবা মায়েদের এই পদ্ধতি নিয়ে ভাবা উচিত। কারন এর কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। এইসব স্বাস্থ্য উপকারিতা বাচ্ছা লাভ করে, ওই প্লাসেন্টা থেকেই।

যদিও ফিশার, এর জন্য তার পরিবারের তরফ থেকে বেশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। কিন্তু তার স্বামী তার পাশে ছিলেন। এরম একটা রীতিবিরুদ্ধ পদ্ধতি নিয়ে ছিল বেশ অনিশ্চয়তা। যদিও এর বিভিন্ন বাস্তবিক দিক ও সবকিছু বিচার বিবেচনা করেই এই পদ্ধতিকে গ্রহন করা হয়েছিল। এতে বাচ্ছাকে অনেকবেশী যত্নে রাখতে হয়। অনেক সতর্ক থাকতে হয়। বাচ্ছা হয়ে যাবার পর এটা সাধারণত পাঁচদিন লাগে নিজে থেকে ঝরে পড়তে। ফিশার দেখে,৯ দিনের মাথায় এটা সম্পূর্ণ রূপে শরীর থেকে বিছিন্ন হয়ে গেছে।

“আমার ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত নাড়িটি আলাদা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার বাচ্ছাকে ধরবে না। আমি অনলাইন বিভিন্ন আর্টিকেলে পড়েছিলাম এটা অস্বাস্থ্যকর। এবং অনেক ডাক্তারেরই মতে এটা থেকে ইনফেকশন হতে পারে। কিন্তু আমার মনের এই উদ্বেগ দূর করার জন্য, আমি কোনও সঠিক গবেষণা মূলক তথ্য খুঁজে পাইনি”। তিনি বলেন।

কিন্তু ডাক্তাররা কি এই পদ্ধতি সুপারিশ করেন?

আমেরিকান কলেজ অব অবসটেট্রিকিইয়ান্স ও গায়নোকোলোজিস্ট এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জন্মের পর ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড পরও যদি নাড়ি আলাদা না করা হয় শরীর থেকে তাহলে, তাহলে রক্তে আয়রন পরিমাণ বাড়ে এটা ঠিক। শরীরে আয়রনের চাহিদা মেটে। কিন্তু, আদৌ এটা কতটা ভালো বা উপকারী বাচ্ছার জন্য, সেবিষয়ে ডাক্তাররা এখনো নিশ্চিত নন।

কিন্তু আমরা কি ঔষধের সিমাবদ্ধতার সাথে অনেকবেশী অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি? যে নতুন কোনও পদ্ধতিকে গ্রহন করতে পারছিনা? এটা সঠিক কিনা সেটা তো সময়ই বলবে। কিন্তু, যদি আপনারাও এই পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেন এবং কিছু সিধান্ত নেন, তাহলে বলব, কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, এর উপকারিতা ও অপকারিতা ও অন্যান্য সবকিছু ভালো করে যেনে নিন।                

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon