Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

আপনার গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থের ওপর প্রভাব পড়ে এমন কোন পাঁচটি কাজ আপনি করে থাকেন?

গর্ভাবস্থা নারী জীবনের একটি প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়,তাই গর্ভিণী হবু মা নানারকম বাড়তি সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করাই হোক বা একটা ফল খাওয়াই হোক,সবসময়ই একটি উচিত অনুচিতের দ্বিধা মনের মধ্যে কাজ করে। তাহলে বেশী ভাগ মা কেন আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহার্য নিত্যনৈমিত্তিক সাধারণ জিনিসে যে টক্সিন বা বিষাক্ত জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলি বিষয়ে অসচেতন হবেন।

 

আমরা যখন রাসায়নিক পদার্থ শব্দটি উচ্চারণ করছি আমরা কিন্তু কলকারখানা বা গবেষণাগারে ব্যবহৃত কোন শিল্প রাসায়নিকের কথা বলছি না যেগুলো মানুষ মুখে মুখোশ পরে ব্যবহার করছে, এরকম কিছু আপনি দেখতে অভ্যস্ত ।আমরা সেই সব রাসায়নিকের সম্বন্ধে বলছি যেগুলো আপনার গৃহস্থালি আনাচেকানাচে লুকিয়ে আছে ।একদম ঠিক ধরেছেন,আপনার বাড়ি পরিষ্কারের সামগ্রী যেগুলি ক্ষতিকারক রাসায়নিকে পরিপূর্ণ সেগুলি আপনার এবং আপনার গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি করতে পারে ।

সন্তানসম্ভবা নারী, যখন এইসব হানিকারক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে তখন সেটি প্লাসেন্টা বা নাড়ি দ্বারা বাহিত হয়ে ক্রমবর্ধমান গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতি সাধন করে।এর ফলাফল স্বরুপ প্রসসবকালীন ত্রুটি,মস্তিষ্ক এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ত্রুটি এমনকি শিশুর জন্মের পর তার মধ্যে ক্রমবিকাশগত ও আচারণগত পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

কতগুলি সাধারণ জিনিস যার মধ্যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপস্থিত থাকে:

1 . আপনার প্রতিদিনের খাবার

কিছু কিছু খাদ্যদ্রব্য যেমন কাঁচা ডিম ও মাংস,কফি ও মদ গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত।কিন্তু আপনার রান্নাঘরে রক্ষিত শাকসবজি এবং ফলমূলেও রাসায়নিক থাকতে পারে।এর পেছনে একটি কারণ হচ্ছে উৎপাদনের সময় ব্যবহৃত কীটনাশক এবং অপরটি হচ্ছে নিজের অজান্তে একটি দ্রব্য থেকে অপর দ্রব্যে রাসায়নিকের স্থানান্তর বা সংক্রমণ। এমন সম্ভাবনা থেকেই যায় আপনি ফ্লোর ক্লিয়ার অর্থাৎ মেঝে পরিষ্কারক স্পর্শ করলেন এবং তার ঠিক পরেই কিছু রান্না করলেন,আপনার এবং আপনার ছোট্ট সোনার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলো শুধুমাত্র এটার জন্য।

2 . যে হাওয়া আপনি নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেন:

আপনার গৃহস্থালিতে যেসব রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হচ্ছে শুধুমাত্র তার সাথে শারীরিক সংস্পর্শে আসাই আপনার পক্ষে ক্ষতিকর নয়।এই রাসায়নিক দ্রব্যেগুলি থেকে যে বিষাক্ত বাষ্প নির্গত হয়, যা আপনি এবং আপনার পরিবার না জেনে নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেন তাও আপনার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।এর ফলে নিশ্বাস বায়ুর গুণমান হ্রাস পায় এবং তার ফলাফল স্বরুপ সন্তানের জন্মগত ত্রুটি যেমন কম ওজনের শিশু,সময়ের পূর্বে জন্মানো শিশু এবং অটিস্টিক শিশুর জন্ম হতে পারে ।

 

3. যে জল আপনি পান করেন

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে সন্তান সম্ভবা নারী যাঁরা প্লাস্টিকের বোতল থেকে জল খান তাঁদের স্থূলকায় শিশুর জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।এর কারণ প্লাস্টিকে উপস্থিত BPA (bisphenol A) সন্তানসম্ভবা মায়ের হরমোনে ভারসাম্য ব্যাহত করে এবং গর্ভাবস্থায় ক্ষুধার ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।

 

এই একই BPA আবার ঘর পরিষ্কারের সামগ্রী যেমন গ্যাস পরিষ্কারক,বাসন মাজার তরল এবং মেঝে পরিষ্কারকে উপস্থিত থাকে।

4. যে প্রসাধনী আপনি ব্যবহার করেন

ঠিক যেভাবে গর্ভাবস্থায় আপনি কি খাচ্ছেন তার ভূমিকা আছে একইভাবে আপনি ত্বকে কি মাখছে না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।বহু ত্বকের যত্ন নেওয়ার দ্রব্য সামগ্রী এবং প্রসাধনীতে রেটিনয়েড (retinoids),হাইড্রক্সি এসিড ( hydroxy acids) এবং স্যালিসিলিক এসিড (salicylic acids) ইত্যাদি থাকে যেগুলি গর্ভস্থ ভ্রূণের পক্ষে চুড়ান্ত ক্ষতিকর ।অবিলম্বে নিরাপদ এবং কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করা শুরু করুন।

 

5.ঘর পরিষ্কারক যা আপনি ব্যবহার করেন

আপনি বাড়ি পরিষ্কারের জন্য যে জিনিসগুলো প্রতিদিন ব্যবহার করেন তাতে ফ্যালেট (phthalates),এমোনিয়া ক্লোরাইড(ammonia chloride),2- বিউটক্সিএথানল (2-Butoxyethanol) এবং ফসফেট (phosphates)থাকে।এইসব রাসায়নিক পদার্থগুলি বেশী ভাগ ক্ষেত্রেই এন্ডোক্রিন(endocrine) বা অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যকারীতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে প্রবল নিশ্বাসের কষ্ট এবং হৃদরোগের কারণ ঘটতে পারে।এইসব রাসায়নিক দ্রব্য যেহেতু ত্বকের দ্বারা শোষিত হয় সেহেতু এগুলি আপনার গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon