Link copied!
Sign in / Sign up
5
Shares

হামাগুড়ি দেওয়া কেন আপনার শিশুর পক্ষে ভালো?


শিশুর বিকাশে হামাগুড়ি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।হাঁটা চলার দক্ষতার পাশাপাশি এটি শিশুকে বাড়বৃদ্ধিতে উদ্দীপনা জোগায় এবং অন্যান্য কাজের নৈপুণ্য বৃদ্ধি করে। শিশুর বৃদ্ধির এই স্তরকে অনেক শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ শিশুর মনস্তাত্বিক বিকাশের প্রথম স্তরে বলে থাকেন। হামা টানা শিশুর শারীরিক ভারসাম্য, শক্তি, দৃষ্টি এবং দূরত্বের সমন্বয় দক্ষতা (visual spatial skills),মেরুদন্ডের বিকাশ (spinal alignment) এবং সামাজিক আবেগের উন্নতিতে খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে।শিশু হামাগুড়ি কাটার ফলে আরো নানারকম সুফল পায়।আমরা সেগুলির মধ্যে কয়েকটির সম্বন্ধে বলছি।


১. শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি

হামাগুড়ি দিতে শেখার সাথে সাথে শিশু প্রধান প্রধান শারীরিক দক্ষতা (gross motor skills) অর্জন করে যেগুলি হাত পা এবং পুরো শরীর দিয়ে করা বড় বড় গতিবিধির দ্বারা প্রাপ্ত হয়।এই শারীরিক দক্ষতা গুলি প্রয়োজন হয় যখন বড় হয়ে তারা হাঁটে,দৌড়াদৌড়ি করে বা লাফায়। হামা টানা সূক্ষ্ম শারীরিক দক্ষতা( fine motor skills) যেমন হাত এবং আঙুলের শক্তিও বৃদ্ধি করে থাকে। একটি শিশু যখন হামাগুড়ি দেয় সে শারীরিক ভারসাম্য রাখতে শেখে যা তাকে হাঁটতে শেখার সময় ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস যোগায়।হামাগুড়ি কাটা শিশুর চোখ এবং হাতের সমন্বয়য বৃদ্ধি করে।


২. দূরত্বের ধারণা (Spatial understand)

হামাগুড়ি দেওয়া শিশুকে স্থান এবং দূরত্বের ধারণা তৈরিতে সাহায্য করে ।এটি শিশুর দিকের ধারণা এবং চারপাশের জগৎ সম্পর্কে বোধ জাগায়,তার পারিপার্শিক পরিমণ্ডলে তার নিজের অবস্থান এবং সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে। বারংবার অভ্যাসের দ্বারা শিশু সামনে কোন বাধা এলে ঘুরে ইপ্সিত লক্ষ্যের দিকে যাওয়ার সহজসাধ্য পথ খুঁজে বের করতে পারে, এবং বাধা ভেদ করে যাওয়া সম্ভব নয় বুঝতে পারে ।এই বোধটি আজীবন তাদের সাহায্য করবে ইপ্সিত পথ খুঁজে বের করতে এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে ।


৩. দ্বিনেত্র দৃষ্টি (Binocular vision)

একটি শিশু যখন হামাগুড়ি দিতে শেখে, তখন সে তার পছন্দের জিনিসের কাছে পৌঁছতে পারে । সে কাছে দূরের এবং ঠিক ভুলের ধারণা অনুধাবন করে। এই আবিষ্কারের উপর নির্ভর করে শিশু অতি দ্রুতগতিতে দৃশ্যমান দক্ষতা বৃদ্ধি করে।দুটি চোখের সমন্বয়ের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক ছবি আঁকাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে। শিশু নিজেকে শিক্ষা দেয় দুরত্ব দেখতে এবং নিজের হাতের দিকে তাকাতে ,তারপর নিজের পছন্দের খেলনা থেকে তার দূরত্ব নির্ধারণ করে সে হামা টানতে শুরু করে । দ্বিনেত্র দৃষ্টির দ্বারা আমরা বস্তুর দূরত্ব সম্বন্ধে ধারণা স্থির করি, এটিই আমাদের ভবিষ্যতে গাড়ি চালানো,বল ধরা বা ব্ল্যাকবোর্ড থেকে লেখা টোকার কাজে সক্ষম করে ।


৪. মস্তিষ্কের সমন্বয়

আমরা জানি আমাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম যা আমরা সম্পাদন করি মস্তিষ্কের দুটি গোলার্ধের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সেগুলি নিজেদের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে কিছু গতিবিধির সমন্বয়ের মাধ্যমে। সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য ,দক্ষিণ এবং বাম মস্তিষ্কের সমন্বয় জরুরি। এই সমন্বয়ের শক্তি বৃদ্ধি পায় যখন একটি শিশু হামাগুড়ি কাটে কারণ মস্তিষ্ককে গতিবিধি, দৃষ্টি এবং শ্রবণ একইসঙ্গে প্রক্রিয়া করতে হয়। শিশু যত বেশি হামাগুড়ি দেয় তার গতিবিধি ততই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং তাদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় ।


৫. আত্মবিশ্বাস

হামাগুড়ি দেওয়ার সময় বাচ্চারা নিজেদের জীবনের প্রথম সিদ্ধান্ত নিতে শেখে ।এটি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।তারা ঝুঁকি নেয়,কিছু ক্ষেত্রে সফল হয় কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, এর ফলে তারা নিজেদের ক্ষমতা ,সম্ভাবনা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হয়। শিশুরা হামাগুড়ি মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ করা, পথ খোঁজা এবং পথে বাধা অনুসন্ধান করাও শেখে ,যাতে সে চোট আঘাত এড়িয়ে যেতে পারে ।

৬. শিশু যত হামাগুড়ি দেয়, সে হাঁটার জন্য ততই প্রস্তুত হতে থাকে। হামা টানা বাচ্চা শারীরিক শক্তি ও সঞ্চয় করে যেটি তাকে হাঁটতে সাহায্য করে । যখন তারা আসবাব বা দেয়াল ধরে উঠে দাঁড়ায় ,তাদের পা এবং কোমরের নিম্নভাগের পশ্চাদ্দেশের পেশী শক্তিশালী হতে শুরু করে এবং মেরুদন্ডের স্বাভাবিক বক্ররেখার বিকাশ ঘটে। হাঁটার জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon