Link copied!
Sign in / Sign up
20
Shares

হেয়ার কন্ডিশনার কি শুধু চুলেই ব্যবহার করা যায়?

 


শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার না লাগালে যেন চুল ধোওয়া সম্পূর্ণ হয় না। আসলে, চুলের রুক্ষভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয় এটি। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার লাগালে চুল হয় নরম ও কোমল। তবে, শুধু চুলের যত্নেই নয়, হেয়ার কন্ডিশনার ঘরোয়া বেশকিছু কাজেও লাগানো যায়। জেনে নিন, আর কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্ভব-

১. সিল্কের পোশাক পরিষ্কার করতে কাজে লাগাতে পারেন কন্ডিশনার। ড্রাই ক্লিনিংয়ের খরচ বাঁচাতে চাইলে এক গামলা জলে(স্বাভাবিক উষ্ণতা) এক চামচ কন্ডিশনার মিশিয়ে, তাতে সিল্কের পোশাক ভিজিয়ে রাখুন কয়েক মিনিট। কিছুক্ষণ পর তুলে ধুয়ে মেলে দিলেই তা পরিষ্কার হবে।

 

২. অন্তর্বাস পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার। খুব কোমলভাবে আপনার অন্তর্বাস পরিষ্কার করবে কন্ডিশনারের মিশ্রণ।

৩. চামড়ার জুতো পরিষ্কার করতে পারেন কন্ডিশনার দিয়ে। কাদা বা কোনও ময়লা লেগে থাকা জুতো প্রথমে ভালো করে শুকিয়ে নিন। এরপর কিছুটা কন্ডিশনার জুতোয় লাগিয়ে পরিষ্কার কাপড়ের টুকরো দিয়ে ঘষে ঘষে ফেনা তৈরি করুন। তারপর ধুয়ে নিলেই জুতো থেকে সব ময়লা দূর হয়ে যাবে।

৪. একটা তুলোর বলে কন্ডিশনার নিয়ে চোখের মেকআপ পরিষ্কার করে ফেলুন। জোরে ঘষে মেকআপ তুলবেন না। হালকা হাতে কন্ডিশনার লাগানো তুলো দিয়ে মেকআপ মুছে নিন। নাহলে, মেকআপ থেকে ক্ষতি হবে চোখ ও তার চারপাশের ত্বকে।

৫. মেকআপ ব্রাশ বা পেইন্ট ব্রাশ ব্যবহারের পর শক্ত হয়ে যায়। ব্রাশে থাকা ব্রিসলসের গায়ে মেকআপ বা রং আটকে যাওয়ার এমনটা হয়। ব্যবহারের পর ব্রাশ জলে ধুয়ে নিন। এবার তাতে কন্ডিশনার লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে নিলেই তা আগের মতো নরম হয়ে যাবে।

 

৬. নখের চারপাশের চামড়া বা কিউটিকল মাঝে মাঝে শুকিয়ে যায়। শক্ত ও খরখরে হয়ে ওঠে ওই অংশ। নখের চারপাশের চামড়া নরম রাখতে ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার।

৭. জামাকাপড় বা পর্দা থেকে কখনও কখনও দুর্গন্ধ বেরোয়। এই দুর্গন্ধ দূর করতে কাজে লাগাতে পারেন হেয়ার কন্ডিশনার। জলে সামান্য কন্ডিশনার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। এবার দুর্গন্ধযুক্ত কাপড়ে স্প্রে করে দিন।

৮. কাপড় নরম রাখতেও কাজ দেয় কন্ডিশনার। একটা কাপড়ের টুকরো কন্ডিশনারে ভিজিয়ে নিন। এবার কেচে শুকোনোর জন্য মেশিনে দেওয়া বাকি কাপড়ের সঙ্গে ওই কাপড়ের টুকরোটাও দিয়ে দিন। জামাকাপড় নরম থাকবে।

৯. ধাতুর তৈরি গয়না পরিষ্কার করতেও ব্যবহার করা যায় কন্ডিশনার। বিশেষ করে রুপোর গয়না, খুব সহজেই তাতে কালচে ছোপ পড়ে যায়। একটি পাত্রে কন্ডিশনার ও দাগ হয়ে যাওয়া গয়না ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ রেখে সুতির কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এবার জলে ধুয়ে নিলেই সব দাগ দূর হয়ে যাবে।

১০. বাড়িতে থাকা লোহার যন্ত্রপাতিতে অনেক সময় মরচে পড়ে যায়। এমন যন্ত্রপাতির গায়ে কন্ডিশনার লাগিয়ে পরিষ্কার করুন। মরচে দূর হবে।

১১. আটকে যাওয়া ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করতেও কাজে লাগাতে পারেন কন্ডিশনার। ড্রেনের মুখে কিছুটা কন্ডিশনার ঢেলে দিন। এবার সামান্য গরম জল দিন। আটকে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

১২. স্নানের সময় সামান্য কন্ডিশনার নিয়ে সারা গায়ে মেখে নিন। তারপর গায়ে জল ঢেলে তা পরিষ্কার করে নিন। শীতকালের শুষ্কভাব দূর হবে খুব সহজেই।

১৩. কন্ডিশনার দিয়ে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি আসবাব পরিষ্কার করতে পারেন। পরিষ্কার নরম কাপড়ে সামান্য কন্ডিশনার নিয়ে আসবাব পরিষ্কার করুন। আপনার স্টোভ হোক বা রেফ্রিজ়ারেটর, সবই চকচক করবে।

১৪. শেভিং ক্রিমের বদলেও ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার। শেভিং করার আগে ত্বকে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিলে তা শুষ্ক হয় না। কোমলতা বজায় থাকে।

 

১৫. অনেক সময় আঙুলে আংটি আটকে যায়। কিছুতেই তা বের করা যায় না। এমন অবস্থায় কাজে লাগতে পারে কন্ডিশনার। আংটির উপর ও নিচে আঙুলের যে অংশ রয়েছে তাতে লাগিয়ে নিন কন্ডিশনার। এবার হালকা করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তা আঙুল থেকে বের করে নিন। কন্ডিশনার পিচ্ছিল হওয়ার আংটি সহজেই বেরিয়ে আসবে।

১৬. কেটে যাওয়া জায়গায় ব্যান্ডেড লাগালে অনেক সময় তা চামড়র সঙ্গে আটকে যায়। ব্যান্ডেডে থাকা আঁঠার কারণেই এমনটা হয়। আটকে যাওয়া ব্যান্ডেডের চারপাশে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিলে তা আলগা হয়ে যায় আর সহজেই খুলে আসে।

 

১৭. দরজা বা জানলার কবজা কখনও কখনও শক্ত হয়ে যায়। খুলতে বা বন্ধ করতে গেলে বিকট আওয়াজ হয়। এমন হলে ওই কবজাতে কিছুটা কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। আলগা হয়ে যাবে, আর খোলার সময় বিকট আওয়াজ বা কষ্ট হবে না।

১৮. জ্যাকেট বা সোয়েটারের চেইন খুলতে সমস্যা হলে ব্যবহার করুন কন্ডিশনার। চেইনে কন্ডিশনার লাগিয়ে তা খোলা-বন্ধ করলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon