Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

আপনার গর্ভের শিশুকি থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত? কি ভাবে জানবেন


থ্যালাসেমিয়া প্রধানত একটি রক্তের রোগ। এই রোগটি জিনগত কারণে এবং বংশ পরম্পরায় পরবর্তী প্রজন্মে চলতে থাকতে পারে। এই রোগের কারণে রক্তে কিছু সংখ্যক খারাপ হিমোগ্লোবিন তৈরী হয়। যার কারণে রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায় এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি বছর ৭ হাজারেরও বেশি শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই থ্যালসেমিয়া রোগ বোঝা যায়। থ্যালাসেমিয়ার কারণে শরীরে লোহিতকণিকার পরিমান কম থাকলে এবং এর আকার ছোট হলে এনেমিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

জেনে রাখুন

বাবা ও মা দুই জনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা তা জানার জন্য আপনার গর্ভধারণের পরেই পরীক্ষা করা উচিত। পরীক্ষার দ্বারাই জানা যাবে যে আপনার গর্ভের শিশুটি এই রোগে আক্রান্ত আছে কিনা। এবং সে কোন প্রকারের বাহক, মেজর বা মাইনর থ্যালাসেমিয়া তে ভুগছে কিনা। এই সময়ে যে পরীক্ষা গুলো করা হয়ে থাকে সেগুলো হলো

১। কোরিওনিক ভিলিয়াস স্যাম্পলিং

মায়ের গর্ভে বাচ্চা গর্ভফুল এর মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে থাকে। আল্ট্রাসনো মেসিনের ছবি দেখে নিডল-এর দ্বারা গর্ভফুল থেকে সামান্য কিছু কোষকলা শরীরের বাইরে নিয়ে আসা হয়। এই পদ্ধতিকে করিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং বলে। মায়ের গর্ভে বাচ্চার বয়স যখন ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহ তখন করিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং করা হয়।

২। এ্যামনিওসেনটিসিস

মায়ের গর্ভের মধ্যে শিশু একটি বিশেষ তরল পদার্থের মধ্যে অবস্থান করে। এই তরল পদার্থকে এ্যামনিওটিক ফ্লুইড বলা হয়। প্রথমে আল্ট্রাসনো মেসিনের সাহায্যে জরায়ুর ভিতরে শিশু ও গর্ভফুলের অবস্থান সঠিক করা হয়। আল্ট্রাসনো মেসিনের ছবি দেখে একটি সুক্ষ নিডল মায়ের পেটের উপর দিয়ে বাচ্চার চারপাশের যে তরল পদার্থ থেকে তার মধ্যে প্রবেশ করে, সিরিঞ্জের সাহয্যে ১৫ থেকে ২০ মিলি তরল পদার্থ টেনে আনা হয়। গর্ভাবস্থার ১৫ হতে ১৮ সপ্তাহে এ্যামনিওসেনটেসিস পরীক্ষা করা হয়।

৩। ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলিং

বাচ্চার আম্বিলিকাল কর্ড থেকে ব্লাড স্যাম্পল নেয়া হয়। গর্ভাবস্থার ১৮-২১ সপ্তাহের মধ্যে এই পরীক্ষা করা হয়।

এই পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে ০.৫-২% পর্যন্ত গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে, অর্থাৎ প্রতি ১০০ বা ২০০ পরীক্ষায় একটি গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারনেই এই পরীক্ষা করার আগে গর্ভপাতের ঝুঁকির বিষয়টি ভালভাবে চিন্তা করে দেখা উচিৎ। ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে গর্ভের বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কিনা তা নির্নয় করা হয়ে থাকে। আলট্রাসনোগ্রাফী পরীক্ষা করে গর্ভের বাচ্চা ও গর্ভফুলের অবস্থান, বাচ্চার বয়স, জরায়ুর গঠন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক ঠিক করেন কোন পরীক্ষা মায়ের জন্য প্রয়োজন।

এই পরীক্ষার রিপোর্ট অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তবে মনে রাখতে হবে, থ্যালাসেমিয়া নির্নয়ের জন্য এই পরীক্ষা করা হলে শিশুর থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কিনা তা বোঝা যাবে অন্য রোগ নয়।

মা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে গর্ভধারণে কি প্রভাব পরতে পারে?

যে সকল নারীরা থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত এবং ব্লাড ট্রান্সফিউশন এর প্রয়োজন আছে তাদের মধ্যে অনেকই গর্ভধারণ করতে পারেন না। তবে অনেকেই আছে যারা এই রোগে আক্রান্ত হওয়া পরেও গর্ভধারণ করতে পারেন কিন্তু সেই ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় তাদের অত্যন্ত সাবধান ও সতর্ক থাকতে হয়। গর্ভাবস্থায় মায়দের থ্যালাসেমিয়া থাকলে এই সময় হৃদপিণ্ড এবং লিভার গর্ভাবস্থায় খুবই সংবেদনশীল থাকে। তাই থ্যালাসেমিয়াই আক্রান্ত মায়েদের গর্ভাবস্থায় সময় প্রতিদিনের ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। গর্ভাবস্থার সময়ে প্রতিটি মায়ের শরীরে রক্তের পরিমান বহুগুন বেড়ে যায়। সেই জন্য এই সময় হৃদপিণ্ডকে বেশী কাজ করতে হয় শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সরবরাহের জন্য। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মায়দের গর্ভাবস্থায় টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ও অনেক বেড়ে যায়। তাই গর্ভধারণের আগে থেকে এবং গর্ভধারণের সম্পূর্ণ সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।

মায়েরা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশু নিউরাল টিউব ডিফেক্টের বেড়ে যায়। তাই এ সময় নিয়মিত ফলিক এসিড যুক্ত খাবার গ্রহন করা উচিত। এর ফলে বাচ্চার এই ধরণের ত্রুটির ঝুঁকি কমে। ফলিক এসিড মায়ের শরীরের রক্তকে বিশুদ্ধ রাখতেও সাহায্য করে। এর ফলে এনেমিয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। মা যদি বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজরে আক্রান্ত হয় তবে তার হাড়ের গঠন স্বাভাবিক নাও হতে পারে যার কারণে নরমাল ডেলিভারির সময় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মায়েদের সম্পূর্ণ সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন হসপিটালে বা নার্সিঙহোমে ডেলিভারি করানো উচিত।

তবে আমরা যদি চাই তবে আমাদের সমাজ থেকে এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারি। কিভাবে?

প্রথমত, বিয়ের আগে আমরা আমাদের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীর রক্তপরীক্ষা করে নির্বাচন করতে পারি, যাতে কোনভাবে এই রোগের বাহকের সাথে বিয়ে না হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত,, যদি বিয়ে হয়েই যায়, তবে গর্ভস্থ সন্তান কে পরীক্ষা করে, তার জন্মের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই পদ্ধতিতে সবাই সচেতন হলে আমাদের সমাজ থেকে এবং জীবন থেকে থ্যালাসেমিয়া রোধ এবং একসময় সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon