Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

গর্ভকালীন অবস্থায় মানসিক অবসাদ এবং কিভাবে তা আপনার গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করে

গর্ভকালীন অবস্থা যে কোন নারীর জীবনের সবথেকে সুখের এবং আনন্দের সময় হওয়া বাঞ্ছনীয়। যদিও মা হতে চলেছেন এমন কিছু নারীর কাছে, এই সময়টি দুশ্চিন্তা, ভয় আশঙ্কা এমনকি মানসিক অবসাদে্র সময়। ৬%-এর কাছাকাছি মহিলারা মানসিক অবসাদের শিকার হন তাদের জীবনের প্রথম দিকের বা পরের পর্যায়ে। এই হার বেড়ে ১০% হতে পারে (১ থেকে ১০)সেইসব মহিলাদের জন্য যাদের মধ্যে গর্ভকালীন অবস্থায় মানসিক চাপের কিছু কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।

অবসাদ একটি মানসিক অবস্থান যার আবেগময় প্রভাব থাকে প্রত্যেক ৪জন নারীর মধ্যে একজনের উপর তাদের সারা জীবনকালে। অতএব এটা আশ্চর্‍্যের বিষয় নয় যে গর্ভাবস্থায়ও মেয়েরা মানসিক অবসাদের শিকার হতে পারেন। তথাপি, প্রায়শ, মেয়েদের গর্ভাবস্থার অবসাদকে গর্ভকালে ঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয় না যেহেতু সকলে মনে করেন যে এটি সাধারনতঃ হর্মোন ঘাটতির ফল। এই আন্দাজ সন্তানের মা এবং আগত সন্তান উভয়ের পক্ষেই ভয়ঙ্কর হতে পারে। গর্ভাবস্থার অবসাদ একটি অসুখ যার চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ করা যায়।

যাই হোক, প্রাথমিকভাবে রোগের নির্ণয় এবং পরিচর্যা জরুরী। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থার অবসাদে আক্রান্ত হন, তাদের বাচ্চাদের কৈশোর সময়ে মানসিক অবসাদে ভোগার সম্ভাবনা অন্যান্য ছেলেমেয়েদের দেড়গুণ হয়।

 

গর্ভকালীন অবস্থায় মানসিক অবসাদ

শিশু জন্মানোর আগের অবস্থাতে বা গর্ভকালীন অবস্থাতে মানসিক অবসাদ একটি মানসিক অবস্থার বিচলন যা অন্যান্য মানসিক অসুস্থতার মত। মানসিক স্থিতির বিচলন একটি শরীরবৃত্তীয় অসুস্থতা যার মধ্যে আছে মস্তিস্কের কোষগুলির রসায়ন পরিবর্তন সংক্রান্ত অসুস্থতা। গর্ভকালীন অবস্থাতে হর্মোনের পরিবর্তন আপনার মস্তিস্কে বিদ্যমান সেইসব রাসায়নিক পদার্থগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যেগুলি অবসাদ এবং দুঃশ্চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে জানা গেছে। এগুলি গর্ভকালীন অবস্থাতে কষ্টকর জীবন যাপনের থেকে তৈরি হওয়া মানসিক অবসাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খুব বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি করতে পারে।

 

গর্ভকালীন অবস্থায় মানসিক অবসাদের লক্ষণগুলি

মানসিক অবসাদে আছেন এমন সন্তানসম্ভবা মায়েরা ২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কয়েকটি উপসর্গের মুখোমুখি হতে পারেন -

১। উদ্বেগ

২। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি

৩। যে সমস্ত কাজ কর্মে আগ্রহী ছিলেন বা ভালবাসতেন সেই কাজে আগ্রহ হারানো

৪। খুব কম সময় ঘুমানো বা অত্যাধিক বেশী সময় ঘুমানো

৫। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন

৬। নিজেকে গুরুত্বহীন বা দোষী ভাবা

৭। কোন কাজে মন দিতে না পারা

৮। ক্রমাগত মৃত্যু, আত্মহত্যা বা নিরাশার বোধ

 

গর্ভকালীন অবস্থায় কোন কোন বিষয় মানসিক অবসাদের বৃদ্ধি ঘটায়?

১। অত্যন্ত চাপের জীবন যাপন

২। অতীতে ঘটা অবমাননা এবং ভয়ের ইতিহাস

৩। ঘটতে থাকা ঘটনাগুলির জটিলতা

৪। আগের কোন গর্ভপাতের ঘটনা

৫। পারিবারিক বা নিজস্ব মানসিক অবসাদেয় ইতিহাস

৬। পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়

৭। সন্তানধারণের অসুবিধা দূরীকরণ সংক্রান্ত ওষুধ খাওয়া

 

“বেবী ব্লুজ” এবং সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরের মানসিক অবসাদের মধ্যে পার্থক্য

“বেবী ব্লুজ” কথাটিকে “সন্তান জন্মানোর পরের পর্যায়ের মানসিক অবসাদ” বা “পোস্টন্যাটাল ডিপ্রেশন” নামেও অভিহিত করা হয়। এটি একটি গর্ভাবস্থার পরের উদ্বেগ যাতে অনেক নতুন মায়েরা ভোগেন। এটি সাধারনতঃ শিশু জন্মানোর ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে শুরু হয় এবং ১০ থেক ১৪ দিন পর্যন্ত বজায় থাকে।

সন্তান জন্মানোর পরের পর্যায়ের মানসিক অবসাদে অনেক মায়েদের মানসিক স্থিতির পরিবর্তন হয়। তারা নিজেদেরকে প্রান্তিক এবং আবদ্ধ মনে করতে থাকেন এবং তাদের ক্ষিদে এবং ঘুমের ব্যাঘাত বোধ হতে থাকে। প্রায় ৮০ শতাংশ মায়েরা “বেবী ব্লুজ” জটিলতাতে আক্রান্ত হন। এটি একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন এবং আপনা আপনি নিরাময় হয়। প্রায় ১৩ শতাংশ মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মানোর পরের পর্যায়ের মানসিক অবসাদ দেখা যায়, যা অনেক বেশী গভীর এবং অনেকদিন এর প্রকোপ রয়ে যায়। যদি আপনি আগে মানসিক অবসাদে ভুগে থাকেন বা আপনার কোন পারিবারিক ইতিহাস থাকে তাবে আপনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কিছু উপসর্গ – মনে হওয়া যেন আপনি আপনার ছোট বাচ্চার যত্ন নিতে পারবেন না – চূড়ান্ত উদ্বেগ থেকে আতঙ্কের মানসিক আঘাত – সিদ্ধান্ত নিতে না পারা – নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যাওয়া – অত্যন্ত দুঃখের বোধ – নিরাশা। সঠিকভাবে জানা যায় না সন্তান জন্মানোর পরের পর্যায়ের মানসিক অবসাদের কারণ কি, কিন্তু আপনার যদি মনে হয় এই ধরণের কোন উপসর্গ হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে সহায়তা নেওয়া দরকার। আপনার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন বা জন স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয়ে দেখা করুন।

এই সমস্ত উপসর্গ দেখা দিতে পারে -

১। আপনার মনে হতে পারে যে আপনি আপনার ছোট্ট বাচ্চাকে যত্ন করতে পারবেন না

২। চূড়ান্ত উদ্বেগ থেকে আপনি আতঙ্কের মানসিক আঘাত বোধ করতে পারেন

৩। কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধাতে পড়তে পারেন

৪। মনে হতে পারে যে আপনার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে

৫। নিজেকে ভীষণ শোকগ্রস্ত মনে হতে পারে

৬। নিরাশার ভাব আসতে পারে

সঠিকভাবে জানা যায় না সন্তান জন্মানোর পরের পর্যায়ের মানসিক অবসাদের কারণ কি, কিন্তু আপনার যদি মনে হয় এই ধরণের কোন উপসর্গ হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে সহায়তা নেওয়া দরকার। আপনার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন বা জন স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয়ে দেখা করুন।

 

মায়ের অবসাদ কি ভাবে বয়সানুযায়ী শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করে?

সদ্যোজাত

সদ্যোজাতরা মায়ের অসুবিধার আঁচ সরাসরি ভোগ করে। তারা হয়ত অবসাদ্গ্রস্ত মায়ের সঙ্গে থাকতে ভালবাসে না বা মাকে নিয়ে তারা হয়ত হতাস বোধ করে।

এর ফলে যা ঘটতে পারে তার কয়েকটি -

১। শিশুদের বিকাশে বিলম্ব

২। ঘুমে অসুবিধা

৩। আরো বেশি পেটব্যথা

৪। তারা ভীষণ চুপচাপ এবং নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে

৫। অন্যান্য শিশুর তুলনায় শিশু বিকাশের পর্যায় দক্ষতা অর্জন করতে দেরী করে।

হামাগুড়ি দেওয়ার পর্যায় এবং স্কুলে যাওয়ার আগের পর্যায়

মায়েরা অবসাদ্গ্রস্ত হলে এই পর্যায়ের বাচ্চারা যে আসুবিধাতে পড়ে -

১। স্কুলে যতটা ভাল করার মত ততটা ভাল করতে পারে না

২। খুব আক্রমণাত্মক এবং ধ্বংসাত্মক মানসিকতার হয়

৩। নিয়ম মানতে খুব অসুবিধার সৃষ্টি করে

৪। অন্যের সঙ্গে সহজে মিশতে চায় না

৫। কম স্বনির্ভর হয়

স্কুলে–যাওয়া বাচ্চারা

সে সমস্ত স্কুলে–যাওয়া বাচ্চাদের মায়েরা অবসাদ্গ্রস্ত তাদের বাচ্চারা ভুগতে পারে -

১। উদ্বেগ, অবসাদ এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যাতে ভোগার সম্বাবনা বেশী থাকে

২। স্কুলে যতটা ভাল করার মত ততটা ভাল করতে পারে না

৩। অ্যাটেনসন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD)-এর অসুখে ভোগার ঝুঁকি বেড়ে যায়

৪। শিখতে অসুবিধা হয়

৫। অন্যের সাথে পারস্পরিক ব্যবহারেও সমস্যা তৈরি হয়

কিশোর সময়ের বাচ্চারা

সে সমস্ত কিশোর বাচ্চাদের মায়েরা মানসিক অবসাদে ভুগছেন তাদের অনেকগুলি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়, তাদের কয়েকটি -

১। উদ্বেগ সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা

২। গভীর অবসাদ

৩। জিনিসপত্রের অপচয়

৪। ব্যবহারিক বিশৃঙ্খলা

৫। শিক্ষা গ্রহণের অসুবিধা

৬। অ্যাটেনসন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার

 

আপনি কি করতে পারেন?

যদি আপনি আপনার ডাক্তারের কাছে আপনার অবসাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে অসুবিধা বোধ করেন তবে আপনি এমন কাউকে খুঁজে বের করুন যার সঙ্গে আপনি সহজে সব কথা খুলে বলতে পারেন। এটি জরুরী যে অন্তত একজন জানুন যে আপনি কিরকম মানসিক অবস্থাতে আছেন এবং আপনাকে সাহায্য করতে চেষ্টা করুন। কখনওই সম্পূর্ণ একা একা অবসাদের মুখোমুখি হতে চেষ্টা করবেন না। তার দেখভাল এবং চিকিৎসার জন্য আপনার সন্তান আপনাকে চায়।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon