Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

গর্ভাবস্থার সময় গান শোনা বা সংগীতের প্রভাব সম্পর্কে জানেন?


গর্ভ-সংস্কার (গর্ভ - ভ্রূণ; সংস্কার - মন গঠন) সহজ কথায় হল গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মনগঠন। বহুকাল ধরে এটি বিশ্বাস করা হয় যে শিশুর মানসিক ও আচরণগত উন্নতি শুরু হয় তাকে গর্ভে ধারন করার পর থেকেই, এছাড়াও তার চারিত্রিক গঠনও একই সাথে শুরু হয়। মায়ের মনের অবস্থা, কি আলাপ এবং কিভাবে সে বাচ্ছার সাথে আলাপ করছে, সংগীতের সংস্পর্শে থাকা, জোরে বাচ্ছার জন্য পড়া, গর্ভে সুশীল ছোঁয়া/ম্যাসাজ, যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের মাধ্যমে মনকে একত্রিত করা- সবটাই এই গর্ভ সংস্কারে সাহায্য করে।

বহু চিকিৎসক-পরীক্ষক তাদের পরীক্ষা ও পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে গর্ভে থাকা বাচ্ছার উপর সঙ্গীতের প্রভাবকে দৃঢ় করেছেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, এক গুরুত্বপূর্ণ উন্নতির তুলনা লক্ষ্য করা গেছে যে সমস্ত বাচ্ছা গর্ভাবস্থায় মায়ের সাথে সঙ্গীতের সাহচর্যে আছে তাদের মনস্তাত্বিক জ্ঞান, আচরণগত ও মানসিক অনুভূতি এবং আবেগের সাথে যেসব বাচ্ছারা সঙ্গীতের সাহচর্য লাভ করছেনা তাদের মধ্যে।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, বিশেষ করে কল্যাণী রাগ যদি প্রতিদিন ২০ মিনিট করে শোনা হয় তবে শিশুর কমনীয়তা, সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা ও মানসিক স্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। তাই এখানে গর্ভ সংস্কারের মধ্যে সঙ্গীত শ্রবণের কিছু উপকারিতা আলোচনা করা হল।


১. শ্রবণক্ষমতার বৃদ্ধি

গর্ভাবস্থায় মা যদি কানে ইয়ারফোন বা হেডফোন সহযোগে গান শোনে তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে বাচ্ছার মনোযোগ ও শ্রবণ অনুভূতির উন্নতি ঘটায়। যদিও এই সময়ে বাচ্ছার পক্ষে সঙ্গীত বোঝা সম্ভব নয় কিন্তু সঙ্গীতের সুর ও ছন্দকে সে উপলদ্ধি করে। এইভাবেই বাচ্ছার মনোযোগ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সময়ের সাথে সাথে গর্ভে বাচ্ছারা সঙ্গীতে সাড়া দিতে শুরু করে।


২. অভিব্যক্তি প্রকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি

এটি লক্ষণীয় যে, যখন আপনি সঙ্গীত শুনছেন তখন গর্ভের শিশুটি সেই সুর-তালকে অনুভব করে তখনই তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করার চেষ্টা করে। বাচ্ছা কিছুসময় ওই ছন্দে নিজেকে মাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় শিহরিত হয়ে উঠে। এইভাবেই সঙ্গীত বাচ্ছাদের গর্ভের বিচরণকে প্রসারিত করে তোলে।


৩. ব্যক্তিত্বের উন্নতি প্রসারণ

গর্ভাবস্থায় সঙ্গীত শ্রবণ কিছু সময় আপনার শিশুর ব্যক্তিত্ব তৈরিতেও সাহায্য করতে পারে। সুন্দর সুর বা নরম তালের সঙ্গীত শিশুর ধীর-স্থির মনকে গঠন করতে সাহায্য করতে পারে, অপরদিকে দ্রুত লয়ের সঙ্গীত তাকে প্রচন্ড আক্রমনাত্বক বা উদ্বিগ্ন মানসিকতার করে তুলতে পারে। যদিও এটি একটি সাধারণ বিশ্বাস যুগ-যুগান্তরের। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কিন্তু এটির উপর বিশ্বাস করে পরীক্ষা করা যেতেই পারে।


৪. ধকল নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন

গর্ভধারণ করার পর খুব স্বাভাবিকভাবে কিছু হরমোনাল পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হয় যার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে নারীদের কিছু ধকল সইতে হয়। প্রত্যেক অনুভূতির এক উচ্চ বহিঃপ্রকাশ হয় এইসময়, যার মধ্যে খারাপ, চাপযুক্ত ও নেতিবাচক চিন্তা অবশ্যই থাকে। এর ফলে হটাৎ হটাৎ মেজাজ পরিবর্তন, হটাৎ মেজাজ হারানো এবং আরো অন্যান্য জটিল ঘটনা হয়ে থাকে। নরম ও মনোগ্রাহী সঙ্গীত এইসময় আপনাকে গর্ভ-বিষয়ক ধকল থেকে নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।


৫. জন্ম পরবর্তী প্রভাব: শান্ত করায় সাহায্য করে

বহু গবেষক দাবি করেন যে যে কিছু কিছু জন্ম পরবর্তী প্রভাব থাকে সঙ্গীতের, যা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত শোনা হয়েছে। আপনার গর্ভের শিশুটি আপনার নিয়মিত শোনা সঙ্গীতকে মনে রাখে। তারমানে আপনি জন্মের পর ওই সঙ্গীত আপনার ছোট্ট ভগবানের উপহারটিকে শান্ত করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন এই দুনিয়া দেখার পর। সঙ্গীত আপনার শিশুকে মুহূর্তের মধ্যে শান্ত এবং ঘুমপাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নরম তালের সঙ্গীত শোনা অভ্যাস করতে হবে গর্ভাবস্থায় আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য। রক গান বা জোরে বাজা দ্রুত লয়ের গান আপনার শিশুকে মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিতে পারে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon