Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

গর্ভকালীন অবস্থায় সৌন্দর্য চর্চা করতে গিয়ে যেই ভুলগুলি ভুলেও করবেন না


গর্ভাবস্থার সৌন্দর্য অন্যরকম। আর এই সৌন্দর্য দেখতে পায় শুধু নিজের বাড়ির মানুষেরাই। তবুও আপনার নিজের মন খুতখুতে থেকেই যায়। যেমন, মোটা লাগছেনা তো; চোখের নিচে কালি পড়লনা তো; চুল রুক্ষ লাগছে না তো, ইত্যাদি। এরকম আরও কত কি।

স্বাভাবিকভাবেই আপনি আগের মতোই নিজের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন, বা আরও বেশি কিছু করার চেষ্টা করছেন। একটা বিষয় হয়তো ভুলে গেছেন যে আপনি এখন গর্ভাবস্থায় রয়েছেন! অর্থাৎ শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবেনা। নিজেকে আরও সুন্দর দেখাতে গিয়ে যদি গর্ভের সন্তানের সামান্যতম ক্ষতিও হয়, তা আপনি মেনে নিতে পারবেন না।

আপনি হয়তো জানেন না যে রুপ পরিচর্যায় ব্যবহৃত কিছু জিনিস এবং সৌন্দর্যপরিচর্যায় রাসয়নিক পর্দাথ থাকার কারণে এটি গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আজকের পোস্টে আমরা আপনাদের সতর্ক করব গর্ভাবস্থায় এই ৬টি বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য

১। হেয়ার রিবন্ডিং

সুন্দর নরম ঝলমলে চুল সব নারী চায়। আর এই সিল্কি নরম চুল পেতে নারীরা হেয়ার রিবন্ডিং করে থাকেন। কিন্তু গর্ভকালীন অবস্থায় হেয়ার রিবন্ডিং করা থেকে বিরত থাকুন। হেয়ার রিবন্ডিং এ সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড নামক এক ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যা জলের সাথে মিশে ত্বক জ্বালাপোড়া এবং অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া রিবন্ডিং মাথার তালু থেকে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে যা রক্তের সাথে মিশে আপনার সন্তানের ক্ষতি করতে পারে।

২। ফেসিয়াল

সাধারণ ফেসিয়াল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার হয় এমন কোন ফেসিয়াল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়। তাপ শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়।

৩। চুলে রং করা

অল্প পরিমাণ চুলের রংও ত্বক শুষে নেয় যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু গর্ভাবস্থায় শরীর সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই, এইসময় সামান্য রাসায়নিক পদার্থও শরীর নিতে পারে না। তাই গর্ভাবস্থায় চুলে রং ব্যবহার না করাই ভাল। এর কেমিক্যাল উপাদান শিশুর বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে।

৪। ট্যাটু আঁকা

শরীরের ট্যাটু আঁকানোর শখ অনেকেরই থাকে। ট্যাটুর কেমিক্যাল প্রভাব কম হলেও এর থেকে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা থেকে হেপাটাইটিস বি-এর মত মারাত্নক রোগও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন অবস্থায় ট্যাটু আঁকা থেকে দূরে থাকুন।

৫। টিট হোয়াটিং

এই সময় বিশেষজ্ঞরা দাঁত হোয়াটিং করতে বারণ করেন। এতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল উপাদান শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই এইসময় যদি দাঁত সাদা করতে চান তাহলে প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করুন। তার জন্যে এক টুকরো স্ট্রবেরি কিংবা তেজপাতা আর লেবুর খোসার গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন।

৬। নাক, কান ফুটো করা

নাক অথবা কান ফুটো করা সরাসরি শিশুর ক্ষতি না করলেও অনেক সময় এতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে যা থেকে অন্যান্য অসুখ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়েদের থাকতে হয় একটু বেশি সচেতন। তাই, এই সময় মায়েরা ত্বকের যত্নে করতে পারেন নিচের কাজগুলি।

১। গর্ভাবস্থায় শরীর আগের তুলনায় একটু বেশি ভারী হয়ে যায় যার কারণে শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে ভাঁজে ময়লা জমতে পারে। এই সময় সপ্তাহে একদিন উষ্ণ গরম জল দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করে পরিষ্কার করতে পারেন। স্নানের পর তলপেটে এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল আলতো হাতে মালিশ করুন। এতে পেটের ত্বক সহজে প্রসারিত হবে এবং ত্বকও টান টান থাকবে।

২। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারেন ঘরোয়া কোন প্যাক যেমন মধু, শসা, গাজরের রস, মেথি গুঁড়ো দিয়ে প্যাক। এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়া কাঁচা হলুদ, মধু, মুলতানি মাটি, মসুর ডাল দিয়ে তৈরি প্যাক স্বাভাবিক ত্বকের অধিকারীরা ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য কাঠবাদাম পেস্ট, সয়াবিন পাউডার, গাজরের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে।এতে ত্বক হবে মসৃণ ও কোমল। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিম এবং চন্দন এক্সট্র্যাক্ট সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ দিয়ে মুখে ধুয়ে নিন। এরপর ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম লাগিয়ে নেবেন।

৩। গর্ভাবস্থায় ত্বকে খুব সাধারণ একটি সমস্যা হল প্রসারিত চিহ্ন। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে অ্যালোভেরা জেল। চিনগুলির জায়গায় অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করে লাগান। এছাড়া ত্বক ময়েশ্চারাইজ করার প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরিবর্তে তিলের তেল, নারকেল তেল ও ক্যাস্টর ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

৪। অনেক সময় ত্বকে কালো বা বাদামি রঙের দাগ দেখা যায় যা অবহেলা করলে ত্বকে বসে যেতে পারে। ত্বকের কালো দাগ দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন পেঁপের প্যাক। ১ কাপ পাকা পেঁপের পেস্ট, ২ চা চামচ লেবুর রস, ২ চা চামচ মধু এবং ১/৫ কাপ টকদই মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এটি ত্বকে লাগিয়ে আধ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। তারপর পর উষ্ণ গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া আলুর রস যেকোন কালো দাগ দূর করতে বেশ কার্যকরী। আলুর দুটি স্লাইস করে নিন। এবার এটি ত্বকের কালো দাগের ওপর মালিশ করুন। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন।

এছাড়া প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ জল পান করুন। জল শরীর থেকে ক্ষতিকর পর্দাথ বের করে। গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। চিকিৎসকের দেওয়া ডায়েট চার্ট সঠিকভাবে অনুসরণ করুন।

এইসময় মায়েদের ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। সিনথেটিক কাপড় ব্যবহার না করে সুতি কাপড় ব্যবহার করা ভাল। রাতে অব্যশই ঢিলেঢালা নরম কাপড় পরে ঘুমানো উচিত, তাতে ঘুম ভাল হয়। গর্ভাবস্থায় উঁচু হিলের জুতা ব্যবহার করা বন্ধ করুন। নরম আরামদায়ক জুতা পরা উচিত।

গর্ভাবস্থার সময়টি স্পর্শকাতর একটি সময়। তাই, এই সময় প্রতিটি নারীকে থাকতে হয় একটু বেশি সচেতন। কারণ এইসময়ের একটি ছোট ভুল হতে পারে সারা জীবনের বিষন্নতার কারণ। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon