Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

একটি শিশু আপনার খরচ খাতায় কি প্রভাব ফেলে?


শুরুতেই বলে রাখি যে সংসারে একটি শিশুর আগমন পরিবারে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধি থেকে কিছু কম নয়। এর অর্থ যা আশংকা করা হয়েছিল খরচ তার থেকেও বৃদ্ধি পাবে। তাদের যে পরিমাণ যত্ন ও পরিচর্যা দরকার যা আসলে তাদের ছোট্ট আকৃতির তুলনায় অনেক বেশী, তাই তার জন্মের পর থেকে প্রথম মাসের খরচের বহর দেখে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বেন না। নির্দিষ্ঠ আর্থিক পরিকল্পনা এবং খসড়া খরচ ব্যয় নির্মাণ না করার ফলে অভিভাবকেরা বাচ্চাদের সববিষয়ে সেরা সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রায়শঃই নিজেদের অর্থভান্ডারে বড়সড় গর্ত করে ফেলেন।

উল্লেখের অপেক্ষা রাখে না যে উপার্জিত অর্থ যদি ঠিকমত নিয়ন্ত্রণ করা না যায় এবং সবকিছু খুঁটিনাটি ভেবে ভেবে যদি খসড়া ব্যয় পরিকল্পনা না করা যায়, সংসারে এই নতুন খরচের বোঝা আপনার আর্থিক স্থিতিকে ধাক্কা দিতে পারে। সেই কারণে, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যয় পরিকল্পনা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আগে থেকেই ছক করে হওয়া দরকার। আগে থেকেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বাজেট করে নেওয়া দরকার এবং পরিবারের উভয় পক্ষকেই খরচের ক্ষেত্রেই বাজেট মধ্যস্থ সীমা মেনে চলার চেষ্টা করা উচিত। পরিবারের সদস্যদের আয়ের পরিমাণ বা বৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে বাজেট পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যার অনুকরণে আপনি একটি নির্দিষ্ঠ বাজেটের মধ্যে থেকে বুদ্ধিদীপ্তভাবে খরচ পরিচালনা করেও সর্বাধিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারেন।

 

১। প্রয়োজনীয় আয়োজনের খরচে কার্পণ্য করবেন না

বাজেট অনুপালন করে ব্যয় সংকোচন এবং বুদ্ধিদীপ্তভাবে খরচ পরিচালনাকরার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি নিয়ে আলোচনা করার আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিশ্চয় করে নেওয়া দরকার যে কিছু জরুরী খরচ আছে যেগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না, সেক্ষেত্রে কার্পণ্য করা চলবে না। প্রয়োজনীয় আয়োজন যেমন, ডায়পার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টী এবং পরিপূরক খাদ্যন। এগুলি সংক্রান্ত খরচ যা বন্ধ করা/ কমানো যাবে না। এই খরচগুলি বাজেটমাফিক চলে না তাই আপনার বাজেটকে এর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক রাখতে হবে কেননা আপনাকে বাচ্চার জন্য স্বাস্থ্যপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক শৈশব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কি আপনার প্রয়োজন এবং কোনটি আকাঙ্খা আপনার খসড়া ব্যয় পরিকল্পনাতে তার রূপদান আপনাকে আর্থিকভাবে আরও সচেতন করে তুলবে। প্রয়োজনের সঙ্গে কার্পণ্য নয় এবং সময় সময়ে দাবী/আকাঙ্খার সঙ্গে আপোষ করুন।

২। অত্যাধিক লাই দেবেন না

অভিভাবকেরা অনেক সময় বাচ্চাদের বড় বেশী লাই দেন যার ফল আর কিছু নয় বাচ্চার ভবিষ্যতের দফা রফা হয় এবং খরচও হয়ে ওঠে বেলাগাম। তাদেরকে উপহার দিন খেলনা কিনে দিন কিন্তু একটু বুঝে নিন কখন থামতে হবে, জেনে নিন যে একটা সর্ব সীমা আছে এবং আপনার বাজেটের সাবধানবাণী শুনুন যা আপনি নিশ্চয় খুঁটীনাটি ভেবে আগে থেকে তৈরি করে রেখেছেন। অভিভাবকেরা অনেক সময় বাচ্চাদের বায়না এবং কান্নাতে ভুলে যান এবং শেষ পর্যন্ত সেইগুলোই কিনে বসেন যা বাচ্চা দাবী করছে। যদিও বাচ্চাদের প্রতি ভালবাসা এবং সংসারে তাদের গুরুত্ব বোঝানোর অন্য পথ খোলা আছে। তাদেরকে এটাও বলা যেতে পারে যে কোন একটির জন্য কত খরচ সামলাতে হবে এবং সেটির প্রকৃত গুরুত্ব কতটুকু। তাদের কম খরচের খেলা এবং মজাতে সংযুক্ত করুন। আই প্যাড নিয়ে খেলার পরিবর্তে তাদেরকে নিয়ে পার্কে যান। আপনার বাজেটের একটা সামান্য অংশই বিনোদনের জন্য বরাদ্দ করা উচিত।

 

৩। অনেক আগে থেকে আপনার সঞ্চয় পরিকল্পনা তৈরি করুন

পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যে, যেই মূহুর্তে গর্ভধারণের খবর মিলেছে অভিভাবকেরা আলোচনা করে তাদের ভবিষ্যত সঞ্চয় এবং ব্যয় পরিকল্পনা স্থির করে ফেলুন। মনে রাখুন যে আপনার মাসিক ব্যয়ের বাজেট আর আগের মত থাকবে না। শিশুর মা গর্ভবতী হওয়ার সময় থেকেই একটা শিশু তহবিল তৈরি করে নেওয়া উচিত, আপনার ব্যয় পরিকল্পনা খসড়াকে শিশুর জন্ম পর্যন্ত আটকিয়ে রাখবেন না। মাসিক সঞ্চয়ের অংশ এই তহবিলের সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে যা ভবিষ্যতে খুব জরুরী সহায়তা দেবে। স্থির করে রাখুন যে এই শিশু তহবিল আপনার সাধারণ জমা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখবেন এবং এই সঞ্চয় শুধু মাত্র শিশুর জন্মের পর খরচ করা হবে। আপনি এইসব যাবতীয় বিষয়ের উপর নজর রাখতে পারেন একমাত্র বাজেটের মাধ্যমে। পরামর্শ দেওয়া যায় যে এই তহবিল আলাদাভাবে সরিয়ে রাখুন যাতে আপাতকালীন পরিস্থিতিতে এই অর্থ ব্যয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও অভিভাবকদের উচিত নিজেদের খরচ পর্যালোচনা করার অভ্যাস তৈরি করা এবং তাদের বাজেটের তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখা। কয়েক মাসের বাজেট পর্যালোচনা করলে আপনি খরচের ধরণধারণ বুঝে যাবেন।

 

৪। জামাকাপড় জমিয়ে রাখবেন না

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি শৈশব আবস্থায় ক্রমাগত এবং দ্রুত হওয়ার ফলে, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা নিজেদের জামাকাপড়ের মাপ ছাড়িয়ে বেড়ে ওঠে। তাই আপনাদের পরামর্শ, কবে তারা কত বড় হবে ভেবে আগে থেকে একগাদা জামাকাপড় কিনে রাখার পরিবর্তে তাদের মাপ অনুযায়ী ধীরে ধীরে জামাকাপড় কেনাকাটা করুন, নাহলে অপ্রয়োজনে আপনার বাজেট ধাক্কা খাবে। সদ্যোজাতদের জন্য প্যাক বা কিট কেনার সময়ও এমন জামাকাপড় ও রঙের কিট কেনা উচিত যা লিঙ্গনির্বিশেষে ব্যবহার করা যায়, অন্যথায় নির্দিষ্ট কোন লিঙ্গের অথা ভেবে কিট কিনলে সেটি নষ্ট হতে পারে। এই সময়ে আপনার বাজেট মেনে এমন দ্রব্য কেনেকাটা করতে হয় যেগুলি টেকসই। মূল্যবান জামাকাপড় কেনার জন্য আপনার বাজেটের অর্থ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয় কেননা শিশুটি হয়ত ওই দামী জামাকাপড় মাত্র এক আধ দিন পরার সময় পাবে, এমনকি শিশুর কাছে পরার জন্য ওই কাপড় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। জুতোর ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। দামী চামড়ার জুতো, চটি ইত্যাদি কিনে আপনার বাজেট সংকট তৈরি না করে বুদ্ধিমানের কাজ হবে বুটির মত সস্তা দরের আরামদায়ক জিনিস কেনা।

 

৫। একটি সময়ভিত্তিক জীবন বীমা পলিসি করান

আপনার বাজেট শুধুমাত্র যে আপনার টাকা খরচ-এর হিসাব রাখবে তা নয়, বাজেট আপনার সব অর্থনৈতিক কাজকর্মের নির্দেশিকা। সদ্যোজাত শিশুর আসার সাথে সাথে আপনি বাজেট নির্মাণে সচেষ্ট হন যাতে আপনার আয়কে আপনি বিভিন্ন ব্যয় বাজেটে আনুপাতিক হারে ভেঙ্গে দিতে পারেন। আয়ের যে অংশকে আপনি বাজেটে আলাদা করে সরিয়ে রেখেছেন সেই অর্থকে ভালভাবে ব্যয় করার একটা গুরুত্বপূর্ণ পথ হচ্ছে বেশী মূল্যের একটি জীবন বীমা প্রকল্পে বিনিয়োগ করা। কোন দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে পড়লে এই বীমা প্রকল্প আপনার শিশুকে অর্থনৈতিক দূরবস্থা থেকে মুক্তি দেবে।

 

৬। আপনার ভূসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ-এর কাজ শুরু করুন

বাজেট শুধুমাত্র আপনার বর্তমান সময়ের জন্য নয়, এর প্রভাব পড়ে আপনার ভবিষ্যতেও। এই বছরে আপনি কত দক্ষতার সঙ্গে পরিকল্পনা করে বাজেট পরিচালনা করেছেন, তার প্রভাব পরের বছরের বাজেটের উপর পড়বে। আপনি বাজেটের উদ্বৃত্ত অর্থ কিভাবে খরচ করেন? আপনার কি পরিমাণ ভূসম্পত্তি আছে এবং সেগুলি থেকে কারা উপকৃত হচ্ছেন? আপনি যদি দুর্ভাগ্যের শিকার হন তবে কে আপনার সন্তানকে দেখবে? এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

 

৭। একাধিক ভাবে ব্যাবহা্র করা যায় এমন আসবাব

ভুলে গেলে চলবে না যে আপনার বাজেটের মধ্যে রাখতে হবে ভিন্ন ভিন্ন এমন কিছু আসবাব কেনা যেমন হতে পারে শিশুর দোলনা বা তার ড্রেসার, যেগুলি আপনার ঘরের জায়গা আটকে রাখবে। আপনার বাজেটের ব্যয় মাথায় রেখে এমন আসবাব পছন্দ করুন যেগুলি দুভাবে ব্যবহার করা যায়। হতে পারে কোন ড্রেসার টেবিল যেটিকে সাধারণ টেবিলে পরিনত করা যায় বা কোন শিশু খাট যেটিকে সুবিধামত শিশুর চলন সহায়ক বিছানা হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এইভাবে আপনার বাজেট থেকে দুটি আসবাবের জন্য আলাদা আলাদা করে খরচ করতে হবে না। 

 

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Tinystep Baby-Safe Natural Toxin-Free Floor Cleaner

Dear Mommy,

We hope you enjoyed reading our article. Thank you for your continued love, support and trust in Tinystep. If you are new here, welcome to Tinystep!

Recently, we launched a baby-safe, natural and toxin-free floor cleaner. Recommended by moms and doctors all over India, this floor-cleaner liquid gets rid of germs and stains without adding harmful toxins to the floor. Click here to buy it and let us know if you liked it.

Stay tuned for our future product launches - we plan to launch a range of homecare products that will keep your little explorer healthy, safe and happy!

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon