Link copied!
Sign in / Sign up
7
Shares

নিষ্ঠা ভোরে কামাখ্যার যোনি পুজো অথচ মাসিক নাকি অপবিত্র!


আষাঢ় মাস মানে বর্ষা এবং বৃষ্টি মানে হল সৃষ্টির প্রতীক। এই সময়ে কামাখ্যা মন্দিরে পালিত হয় সৃষ্টির আর এক প্রতীক। হিন্দু ধর্মে বলা হয়, বছরে এই একবারই তিনদিনের জন্য রজঃস্বলা হন দেবী কামাখ্যা যিনি হলেন দেবী দুর্গার আর এক রূপ।

১০৮ টা সতীপীঠের অন্যতম এই তীর্থস্থানের উল্লেখ আছে সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিষেণের লেখা এলাহাবাদ প্রশস্তিতে । এছাড়া হিন্দু পুরাণ তো রয়েছেই । যেখানে তাণ্ডবরত মহাদেবের কাঁধে আত্ম ঘাতী সতীর দেহ ৫১ টুকরোতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় । বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায় সতীর দেহলতা । কিন্তু কোথায় পড়ে সতীর গর্ভ আর যোনি? জানা যায় না । অবশেষে কামদেব খুঁজতে শুরু করেন । ব্রহ্মার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে তাঁকে সেটা খুঁজে বের করতে হত । আজকের আসমে নীলাচল পাহাড়ের উপরে পাওয়া যায় সতীর গর্ভ ও যোনি । কামদেব খুঁজে পান বলে এই জায়গার নাম হয় ‘কামরূপ’। এবং কামদেবের আরাধ্যা বলে দেবীকে বলা হয় ‘কামাখ্যা’ । ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই মন্দিরকে নতুন করে বানান কুচবিহারের রাজা নরনারায়ণ । ১৬৬৫ তে ।

হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত এই মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে পাথরের ভাস্কর্য । তাকেই দেবীর যোনি হিসেবে পুজো করা হয় । প্রাকৃতিক ঝর্ণা এই পাথরকে সবসময় ভিজিয়ে রাখে ।

কামাখ্যা মন্দিরের সবথেকে বড় উৎসব হয় অম্বুবাচীতে । বলা হয়, আষাঢ় মাসে এই তিনদিন ঋতুমতী হন দেবী কামাখ্যা । বন্ধ রাখা হয় মন্দির । জনশ্রুতি, ওই তিনদিন লাল হয়ে যায় পাথরের ওই ভাস্কর্যও। বছরের ওই কটা দিন রং পাল্টায় কামাখ্যা মন্দির লাগোয়া ব্রহ্ম পুত্র নদও । হয়ে যায় লাল । কিন্তু এর পিছনে কোনও প্রাকৃতিক কারণ আছে কি? জানা যয়ানি । অনেকে বলেন, কামাখ্যা মন্দিরের পুরোহিতরাই নদের জলে প্রচুর সিঁদুর ঢেলে দেন । তাতেই লাল হয়ে যায় রং। কিন্তু সনাতন হিন্দুত্ববাদীরা মানতে চায় না সিঁদুর তত্ত্ব। তাদের কাছে সবই বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর।

এখন প্রশ্ন হল, মানুষ যখন কামরূপী মাকে এভাবে নিষ্ঠার সাথে পুজো করে এতো ভক্তি ও সাধনায় লিপ্ত হতে পারেন, তাহলে সেই মানুষই কিভাবে তার বা তার পাশের বাড়ির মেয়েটির মাসিককে অপবিত্র বা অস্বাভাবিক একটি ঘটনার মত কেন মনে করেন? একদিকে মায়ের উপাসনা যিনি কি না সৃষ্টির অধিপতি আবার আরেকদিকে সেই নারীরই অবহেলা আমাদের দেশের ভিন্নধর্মী রূপের পরিচয় দেয় যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

আমরা এখন ২১শে শতাব্দীতে বাস করি। তবুও এমন অনেক কুসংকার বা কল্পনা আজও আমাদের সমাজকে ঘিরে রেখেছে যা আমরাও সাত্ত্বিক ভয়ের কারণেই হোক বা মনের ইতস্তত বোধ থেকেই হোক; বিশ্বাস করে থাকি। তার মধ্যে একটি হল মহিলাদের মাসিক। আজকের দিনেও সমাজ মাসিক নিয়ে অনেক কুসংস্কার ধরে রেখেছে। আসুন এবার সবাই মিলে এই বাধন খুলে বেরিয়ে যাই!

মাসিক নিয়ে ৭ টি কথা যা বিশ্বাস করা বন্ধ করতে হবে
Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon