Link copied!
Sign in / Sign up
4
Shares

ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি কি এবং কি এর কারণ?

অনেক সময় শোনা যায়, কোন মহিলা পাকস্থলীর ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে গেছেন, কিন্তু ফিরেছেন কোলে সন্তান নিয়ে । এরকম ঘটনা সত্যিই অস্বাভাবিক মনে হয় । কিভাবে একজন মহিলা বুঝবেন না যে তিনি গর্ভবতী ? অবশ্য চিকিৎসাশাস্ত্রে এর একটি যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা রয়েছে । এই ধরনের প্রেগনেন্সি কে ‘ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি’ বলা হয় । এই ধরনের ঘটনায় সাধারণত, কোন মহিলা ২০ সপ্তাহের আগে বুঝতে পারেন না যে তিনি গর্ভবতী ।

কখনও কখনও প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার পর ব্যাপারটি বোঝা যায় । প্রত্যেক ৪৫০ মহিলার মধ্যে ১ জনের সাথে এমন ঘটনা ঘটে । এটি খুবই বিরল ঘটনা, তাই সাধারণত আমরা এর ব্যাপারে বেশি কিছু জানি না । যেসকল মহিলা দের শরীরে এইচসিজি (হিউম্যান ক্রনিক গোনাডোট্রোপিন) হরমোন অত্যন্ত কম পরিমাণে থাকে তাদের ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । একজন মহিলা গর্ভবতী কি না তা, ডাক্তাররা এইচসিজি হরমোনের সাহায্যেই পরীক্ষা করে দেখেন । এবং এই কারনেই ঘরোয়া প্রেগনেন্সি টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা, মূত্র পরীক্ষা, এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি টেস্টেও কোন মহিলা গর্ভবতী কি না তা ধরা পড়ে না । ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি অনেকগুলি কারনে হতে পারে । এখানে সেরকমই কিছু কারন সম্বন্ধে আলোচনা করা হল –

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের প্রভাবে মহিলাদের শরীরে হরমোনের মাত্রা প্রভাবিত হয় । ডিম্বাশয়ে অনেক ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয় ফলে শরীরে বেশি মাত্রায় হরমোন নির্গত হতে থাকে। এবং তার ফলে ডিম্বাশয়ের আকৃতিও বেড়ে যেতে পারে । যদিও এটি খুব বেশি ক্ষতিকারক নয়, কিন্তু এর ফলে শরীরে হরমোনের মাত্রার তারতম্য ঘটে ।

সাম্প্রতিক প্রেগনেন্সি

যদি আপনি খুব সাম্প্রতিক কালে প্রেগন্যান্ট হয়ে থাকেন, তবে সম্ভবত এখনও আপনার শরীরে হরমোনের মাত্রা স্থিতিশীল হয়নি । প্রেগনেন্সির পরে শরীরে হরমোনের মাত্রা স্থিতিশীল হতে একটু সময় লাগে । এবং এই সময়ে হরমোনের মাত্রার হেরফের ঘটতে পারে । এই সময়ে সাধারণত, শরীরে এইচসিজি –র মাত্রা কম থাকে, তাই এই সময়ে অরক্ষিত যৌন মিলনের কারনে ক্রিপটিক প্রেগনেন্সির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

শরীরে কম ফ্যাট

শরীরে কম ফ্যাটের কারনেও হরমোনের মাত্রার তারতম্য ঘটতে পারে । শরীরে ফ্যাটের পরিমান একেবারে কম হয়ে গেলে, ইস্ট্রোজেন নামক হরমোনের উৎপাদন কমে যায় । ইস্ট্রোজেন হরমোন প্রেগনেন্সির লক্ষণ গুলিকে ফুটিয়ে তোলে যেমন স্তনের বৃদ্ধি, প্রাতঃকালীন অসুস্থতা বা ‘মর্নিং সিকনেস’ ইত্যাদি । তাছারাও এটি এইচসিজি হরমোন উৎপাদনের প্রক্রিয়াটিকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি

কিছু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি যেমন ডিপ্রোভেরা, নরপ্লান্ট, বস মিরেনা কয়েল থেকে এমন কিছু হরমোন নির্গত হয় যা শরীরের সাধারণ প্রেগনেন্সি হরমোন কে ক্ষতিগ্রস্ত করে । এতে প্রেগনেন্সির সম্ভাবনা বেড়ে যায় । কিছু বড়ি তে আবার প্রোজেস্টেরন এর মাত্রা অত্যাধিক পরিমাণে বেশি থাকে, যা উত্তেজিত করার মাধ্যমে জরায়ু কে প্রেগনেন্সির জন্য তৈরি করে । বাচ্চা জন্মানোর পর, না জেনে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি নিয়মিত খেতে থাকলে, ক্রিপটিক প্রেগনেন্সির সমস্যা দেখা দিতে পারে ।


স্ট্রেস

আপনি অত্যাধিক পরিমাণে স্ট্রেসের কারনে ভুগলে, শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাবে । এর ফলে আপনার শরীরে হরমোনের মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং প্রেগনেন্সির লক্ষণ গুলি কমে যেতে পারে বা গোপন থেকে যেতে পারে । নিজের সন্তানের জন্য নিজেকে স্ট্রেস মুক্ত রাখা প্রত্যেক মায়ের কর্তব্য । অত্যাধিক স্ট্রেসের কারনে ‘মিসক্যারেজ’ বা অকাল গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় । কিন্তু, ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি ভ্রূণের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon