Link copied!
Sign in / Sign up
7
Shares

শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে লাইফস্টাইলে কি কি পরিবর্তন আনবেন?


বর্তমানে আমরা সকলেই, প্রতিদিনের কাজের চাপে নিজেদের লাইফস্টাইলের প্রতি নজর দেওয়া প্রায় ভুলেই গেছি । এবং আজকালকার এই আধুনিক জীবনযাপন যে আমাদের কতটা ক্ষতি করছে, তা হয়ত আমরা নিজেরাই জানি না । বয়স্ক হোক বা ছোট, উচ্চ রক্তচাপ, পুষ্টির অভাব, স্থুলতা বা মেদবহুলতা, অতি কোলেস্টেরলের মত সমস্যা গুলি এখন খুবই সাধারন । এবং এগুলি আমাদের ভুলের কারনেই হচ্ছে ।

কোলেস্টেরল শব্দটির সাথে তো আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত, টেলিভিশন বা রেডিও তে শরীর সম্বন্ধীয় প্রোগ্রামে এই শব্দটি বহুবার ব্যবহৃত হয় । কিন্তু, কিভাবে এটি আমাদের ক্ষতি করে, সেটা কি জানেন ?

অতি কোলেস্টেরল মস্তিষ্কে সমস্যা, স্ট্রোক, রক্ত প্রবাহের গতি রোধ, বুকে ব্যাথা, হার্ট অ্যাটাক, পিত্ত কোষে পাথর জমার মত সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে । যদিও কিছু কিছু বিষয় যেমন মানুষের বয়স, পরিবারের স্বাস্থের পূর্ব ইতিহাস ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় যা কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন করে শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ।

বিশ্লেষণ 

কোলেস্টেরল এক প্রকারের ফ্যাট জাতীয় পদার্থ যা, আমাদের শরীরে স্নায়ু কে নিরাপদ রাখতে, নতুন কোষ তৈরি করতে এবং হরমোন তৈরিতে ব্যবহৃত হয় । শুধু যে আপনার খাদ্যের মাধ্যমেই শরীরে কোলেস্টেরল প্রবেশ করছে তা নয়, আমাদের যকৃৎ ও কোলেস্টেরল তৈরি করে । দেহের ৭৫% কোলেস্টেরলই যকৃৎ দ্বারা তৈরি হয় । এবং বাকি ২৫% কোলেস্টেরল খাদ্যের মাধ্যমের শরীরে প্রবেশ করে ।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই যাতে কোলেস্টেরল অতি পরিমাণে না বেড়ে যায়, আমাদের আগেই এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ । সেই কারনেই শিশুদের মধ্যে কোলেস্টেরল এর সমস্যা কম দেখা যায়, তবে যাদের পরিবারে কোলেস্টেরল এর সমস্যা রয়েছে এবং স্থুলতার কারনেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, প্রতি ডেসিলিটারে ২০০ মিলিগ্রামের নিচে কোলেস্টেরল থাকলে তা সাধারন কোলেস্টেরল মাত্রা মানা হয় । যদি প্রতি ডেসিলিটারে ২০০ থেকে ২৩৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল মজুত থাকে তবে তা সাধারন মাত্রার থেকে সামান্য বেশি, এবং প্রতি ডেসিলিটারে ২৪০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি কোলেস্টেরল মজুত থাকলে তাকে অতি কোলেস্টেরল মাত্রা বলা হয়ে থাকে ।

এলডিএল কোলেস্টেরল এর মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১০০ মিলিগ্রাম থাকা উচিৎ । তবে কোন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেটি প্রতি ডেসিলিটারে ১০০ থেকে ১২৯ মিলিগ্রাম হতে পারে । এক্ষেত্রে প্রতি ডেসিলিটারে ১৩০ থেকে ১৫৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল সাধারন মাত্রার থেকে সামান্য বেশি, এবং সেটি প্রতি ডেসিলিটারে ১৬০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হলে তা অতি কোলেস্টেরল মাত্রা রুপে গন্য করা হবে ।

এবার কিছু উপায় সম্পর্কে জেনে নিন, যেগুলো পালন করলে আপনি আপনার শরীরের কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন ।

হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারি, এমন খাবার গুলি নিজের ডায়েটে যোগ করুন –

আগেই বলেছি, দেহের ২৫% কোলেস্টেরল খাদ্যের মাধ্যমেই শরীরে প্রবেশ করে । তাই, নিজের ডায়েট এর দিকে খেয়াল রাখা খুবই প্রয়োজন ।

ভালো ফ্যাট এবং খারাপ ফ্যাটের পার্থক্য – আপনারা হয়ত সর্বদাই ফ্যাটের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে থাকেন, কিন্তু আপনারা অনেকেই ‘ভালো ফ্যাটের’ ব্যাপারে জানেন না । ট্রানস ফ্যাট বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট যা মাংস, ডেয়ারি-জাত খাদ্য, নারকেল তেল ইত্যাদিতে পাওয়া যায় তা শরীরে কম-ঘনত্ব যুক্ত লিপোপ্রোটিন অর্থাৎ বাজে ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । সর্বদাই মাংশের ছোট পিস, কম ফ্যাট যুক্ত ডেয়ারি-জাত খাদ্য, অলিভ অয়েল অথবা ক্যানোলা অয়েল ব্যবহার করুন । কোলেস্টেরল কম করতে হয়ত আমাদের এমন কিছু খাদ্য বেছে নিতে হবে যেগুলির দাম একটু বেশি, কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সমস্ত খাদ্য বেছে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে ।

প্রোটিনের উৎস - নিয়মিত মাছ, ডাল, মটর, বাদাম ইত্যাদি খাবার গুলি খেতে পারেন, এগুলিতে বেশি পরিমাণে প্রোটিন এবং কম কোলেস্টেরল মজুত রয়েছে । প্রোটিনের আরেকটি ভালো উৎস হল বিভিন্ন শস্যদানা সমৃদ্ধ বা মাল্টিগ্রেইন আটা, সাধারন আটা ব্যবহার না করে মাল্টিগ্রেইন আটা ব্যবহার করতে পারেন । অনেক গবেষণার পর, আমরা এমন এক আটা খুজে পেয়েছি যা স্বাদে এবং গুনে অনবদ্য । আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটা বিভিন্ন শস্যদানা যেমন গম, ওট, চানা, ভুট্টা, সোয়া ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয় । এতে খুবই অল্প পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, যা আপনাকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে । যেহেতু আমাদেরকে বাড়ির প্রতিটি সদস্যের জন্যই রুটি বানাতে হয়, তাই অন্যান্য আটার বদলে স্বাস্থকর মাল্টিগ্রেইন আটা ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ ।

ফাইবার - ফাইবারের ভালো উৎস যেমন ওট, ফল, বার্লি, কলাইশুঁটি, বাদাম, বিভিন্ন বীজ ইত্যাদি খাবার গুলিকে নিজের প্রতিদিনের ডায়েটে যোগ করুন । আশ্চর্যের ব্যাপার হল, আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটাতেও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার মজুত রয়েছে । এতে শুধু ফাইবার নয়, বিভিন্ন ভিটামিনও মজুত রয়েছে, যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং আপনাকে করে তুলবে আরো শক্তিশালী । আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটা দিয়ে বানানো রুটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং গুনেও অনবদ্য, একবার এই আটা দিয়ে রুটি বানিয়েই দেখুন না ।

বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলুন 

আপনি এখনও জিমে যাওয়া বা ব্যায়াম করা শুরু না করে থাকলে, তাড়াতাড়ি সেগুলো শুরু করে দিন, কারন অতি স্থুলতা শরীরে কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে । প্রতিদিনের আহারকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন, এবং যখন তখন মুখরোচক খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন । এতে আপনি যথেষ্ট উপকৃত হবেন । এবং মনে রাখেবন, ৫ কেজি ওজন কমালেও আপনার শরীরের কোলেস্টেরল মাত্রায় দারুন পরিবর্তন আসবে ।

মেদবহুল শিশুদের ভবিষ্যতে কোলেস্টেরল এর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেশি । খেয়াল রাখবেন, আপনার শিশু যেন বাইরের মুখরোচক খাবার গুলি বেশি পরিমাণে না খায়, এবং সে যেন সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকে । এবং সেই জন্য তাকে এমন কিছু খাবার খাওয়ান যা স্বাস্থ্যকর এবং সারাদিন তাকে শক্তির জোগান দেবে । আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটায় বিভিন্ন ভিটামিন এবং মিনারেলস মজুত রয়েছে যা আপনার বাচ্চাকে স্বাস্থ্যবান করে তুলতে সাহায্য করবে । তাই আজ থেকেই আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটা ব্যবহার শুরু করুন ।


ধূমপান ত্যাগ করুন 

ধূমপানের সাথে এলডিএল কোলেস্টেরলের সম্পর্ক রয়েছে । একবার কোন ব্যক্তি ধূমপান ছেড়ে দিলে, এক বছরের মধ্যেই তার হ্রিদপিন্ডে সমস্যার ঝুঁকি ৫০% কমে যায় । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধূমপান ছেড়ে দিন, এই ব্যাপারে আপনি আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন ।

হাটা-চলা করুন 

নিয়মিত প্রতিদিন শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করতে কিন্তু ভুলবেন না । আমাদের সবারই, সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট করা উচিৎ । কিছু কিছু সামান্য বিষয় যেমন লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার করা, ১০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি আপনার শরীরে বাজে ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করবে ।

একজন মা হিসেবে, পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থের প্রতি খেয়াল রাখা আমাদের কর্তব্য । আপনি জেনে খুশি হবেন যে, কিছু কিছু ছোটোখাটো লাইফস্টাইল এর পরিবর্তন যেমন ফ্যাট-যুক্ত দুধের বদলে কম ফ্যাটযুক্ত দুধ ( লো-ফ্যাট মিল্ক ), মাখনের পরিবর্তে অলিভ অয়েল, রোজকার অন্যান্য আটার পরিবর্তে আশীর্বাদ মাল্টিগ্রেইন আটা ইত্যাদি আপনাকে ও আপনার পরিবারকে আরো স্বাস্থ্যবান করে তুলবে ।  

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon