Link copied!
Sign in / Sign up
13
Shares

ব্রেন টিউমার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য

টিউমার হচ্ছে শরীরের যে কোনো জায়গায় বা অঙ্গে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং এই টিউমারটি যখন ব্রেনের ভেতরে হয় তখন সেটাকে আমরা বলি ব্রেন টিউমার।   

লক্ষণ

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ একেক সময় একেক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়ার এই তিনটিকে আমরা সব টিউমারের ক্ষেত্রে ধরতে পারি। এ ছাড়াও অনেক সময় রোগীর অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন: রোগীর খিঁচুনি হতে পারে অথবা শরীরের যে কোনো একদিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যায় অথবা তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে।

অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের নিঃসরণের আধিক্য বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যা ব্রেন টিউমারের রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

ব্রেন টিউমার কেন হয়

ব্রেন টিউমারের কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। খারাপ টিউমার শরীরের অন্য জায়গা থেকে ক্যান্সারের রূপ নিয়ে ব্রেনের মধ্যে চলে যায়। বংশগত কারণেও ব্রেন টিউমার হতে পারে।

কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি?

কিছু টিউমার আছে ছোটদের বেশি হয়, আবার কিছু টিউমার আছে যা ৬০ বছরের ওপরে গেলে বেশি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের টিউমারের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। একেক ক্ষেত্রে টিউমারটি একেক রকমভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলে আমরা ওভাবে বলতে পারব না কাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। এককথায় যে কোনো বয়সের, যে কোনো পুরুষ বা মহিলার টিউমার হতে পারে। একেক ধরনের টিউমার শিশু বা মহিলা বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে একেক রকমের হতে পারে। এটা সত্যি দুঃখজনক যে, আমাদের দেশে ক্রমশ আমরা এর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখছি। তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।

ব্রেন টিউমার কি সারানো সম্ভব

ব্রেন টিউমার মানেই ক্যান্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খারাপ টিউমার বা ক্যান্সার টিউমার, কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যযোগ্য। কিছু কিছু টিউমার আছে চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ ভালো হয়ে যায়। আর কিছু আছে যা থেকে আপৎ হতে পারে।

ব্রেন টিউমার কীভাবে চিহ্নিত করা হয়? এর জন্য কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়

যে কোনো রোগ নির্ণয়ের প্রথম পদ্ধতিই হচ্ছে তাকে ক্লিনিকে আনা, পর্যবেক্ষণে রাখা।

১. রোগীর বিশেষ শারীরিক পরীক্ষা করা যেটাকে আমরা বলি নিউরোলজিক্যাল বিশ্লেষণ। রোগীর বর্ণনা থেকে এবং রোগের লক্ষণ দেখে ধারণা করা যায়।

২. মাথার নরমাল প্লেন এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা কিছু ধারণা করতে পারি কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয়। পদ্ধতি হচ্ছে সিটি-স্ক্যান এবং আরও ভালো হচ্ছে এম.আর.আই।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর পরিণতি কী

সাধারণভাবে আমরা টিউমারকে ২ ভাগে ভাগ করি। ১. ভালো টিউমার, ২. খারাপ টিউমার।

ভালো টিউমার যদি সঠিকভাবে অপারেশন করে সম্পূর্ণ বের করা যায় তাহলে রোগী স¤পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে। আর যদি ক্যান্সার টিউমার হয় তবে তারও রকমবেদ আছে।

কিছু কিছু খারাপ টিউমার আছে যা হলে রোগী কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে পারে। আর কিছু কিছু টিউমার আছে যা এতই খারাপ যে, রোগী ৬ মাস থেকে ১ বছরের বেশি বেঁচে থাকে না।

ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী কী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়

যে কোনো টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে সার্জারি বা অপারেশন। অপারেশন করে রোগীর টিউমারকে বের করে, বায়োপসি করে প্রকৃতি নির্ণয় করে পরবর্তী চিকিৎসা করা হয়। তবে এখন হোমিও ট্রিটমেন্টও এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে।

কী কী ধরনের মুখে খাওয়ার ওষুধ আছে

ব্রেন টিউমারে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা কোনোভাবেই সম্ভব নয় তবে রোগের লক্ষণগুলোর চিকিৎসা ওষুধ দ্বারা করা সম্ভব।

টিউমারের জন্য যেসব লক্ষণ যেমন মাথাব্যথা ও বমি হওয়া এইসব লক্ষণের চিকিৎসায় আমরা ওষুধ দিয়ে করতে পারব। তাও সাময়িকভাবে। টিউমার যখন আস্তে আস্তে বড় হবে টিউমারের লক্ষণগুলো আরও বেশি প্রকট হয়ে ধরা পড়বে; যার ফলে ওষুধ দিয়ে শুধু সাময়িকভাবে তার লক্ষণগুলোকে কিছুদিন কমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু ওষুধের চিকিৎসা টিউমারের জন্য নয়।

অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা

অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেনটা খুলে ব্রেনের যে লোকেশনে টিউমারটা আছে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে টিউমারটাকে সরিয়ে আনা হয়। ক্যান্সার টিউমারের ক্ষেত্রে আমরা যতটুকু সম্ভব বের করে দিই। যতখানি বের করা যায় রোগীর উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।

এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যার মাধ্যমে ব্রেন টিউমার বের করার জন্য মগজ বা ব্রেন খুলতে হয় না। রেডিও সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছোট টিউমার যেমন – ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির ছোট যেগুলো হয় সেগুলো ছোট বা নষ্ট করে দেয়া হয়।

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় রঞ্জনরশ্মির ভূমিকা

রঞ্জন-রশ্মি টিউমারটিকে আপাত ছোট করে দেয় বা টিউমারের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আর রঞ্জনরশ্মি বলতে আমরা বুঝি অপারেশন করার পর রেডিওথেরাপি দেয়াকে।

যা আমরা দিই অপারেশন করার পর যদি দেখা যায় যে টিউমারি ক্যান্সার টিউমার বা খারাপ টিউমার। সে ক্ষেত্রে রোগীকে আগে থেকেই বলে দেয়া হয় সার্জারি করলে সম্পূর্ণভাবে এটি ভালো হবে না এবং অপারেশন করার পরেও রঞ্জনরশ্মি বা রেডিওথেরাপি মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। টিউমারটি বের করে দেয়ার পর ওই ‘খরচ খুব বেশি’ রোগীদের এই ধারণাটা পরিষ্কার নয়, যখন মনে করবে যে এই সার্জারি বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ভালো হচ্ছে তখন রোগী স্বাভাবিকভাবে চলে আসবে।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon