Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

পাটিসাপটা ছাড়া বাঙালিদের পৌষ-পার্বন কিসের!!


বাঙালি মানেই পিঠা ও পায়েসের ভরপুর আয়োজন এই পৌষ-পার্বনে। বিভিন্ন ধরণের আকার ও স্বাদের পিঠার মধ্যে পরিচিত নাম পাটিসাপটা পিঠা। বাহারি সব পিঠার এই ভীড়ে, পুরে ভরা সুস্বাদু পাটিসাপটা পিঠা অন্যতম। পরিবার আর অতিথি আপ্যায়নে পাটিসাপটার জুড়ি নেই। যেকোনো সময় খুব সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন এই চমৎকার পাটিসাপটা। আসুন জেনে নিন তারই কিছু বিভিন্ন ধরণের রেসিপি।

১. তালের পাটিসাপটা

উপকরণপিঠার জন্য: তালের গোলা ১ কাপ, ময়দা আধা কাপ, চালের গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, ডিম ১টি।

পুরের জন্য: কোরানো নারকেল ১ কাপ, দুধের ক্ষীর আধা কাপ, চিনি আধা কাপ। সব উপকরণ একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে পুর তৈরি করে নিতে হবে।

প্রণালী: তালের গোলার সঙ্গে পিঠার বাকি সব উপকরণ দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এবার তাওয়াতে সামান্য ঘি লাগিয়ে হাতলে করে গোলা দিয়ে তাওয়া ঘুরিয়ে রুটি তৈরি করতে হবে। ওপরটা শুকিয়ে এলে পুর দিয়ে রোল করে পিঠা তৈরি করতে হবে। ব্যস হয়ে গেল তালের পাটিসাপটা।

২. সুজির পাটিসাপটা

উপকরণ: দুধ ২ লিটার, চিনি ৫০০ গ্রাম, সুজি দুই টেবিল চামচ,মিহি নারিকেল কোরা আধা কাপ, চালের গুঁড়ো ১ কেজি, ময়দা আধা কাপ, তেল ভাজার জন্য, নুন স্বাদমতো, জল পরিমাণ মতো।

প্রণালী: প্রথমে অর্ধেক চিনি আর দুধ ঘন করে জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। এবার তার ভেতর সুজি আর নারিকেল কোরা ছেড়ে ক্ষীর তৈরি করে নিন। ক্ষীর ঘন হলে নামিয়ে রাখুন। এবার চালের গুঁড়ো, বাকি চিনি, জল আর নুন দিয়ে পাতলা গোলা করে নিন। ফ্রাই প্যানে সামান্য তেল লাগিয়ে গরম করে নিতে হবে। এবার আধা কাপ গোলা দিয়ে একটা পাতলা রুটির মতো করে বানিয়ে নিন। রুটির ওপরের দিকে শুকিয়ে এলে এক টেবিল চামচ পরিমান ক্ষীর দিয়ে মুড়িয়ে পাটিসাপটার আকার দিয়ে আরেকটু ভেজে নিন। এভাবে একটি একটি করে পিঠা বানিয়ে নামিয়ে আনুন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন মজার পাটিসাপটা পিঠা।

৩. গুড়ের পাটিসাপটা

উপকরণ: ১/২ কাপ ময়দা, ১/২ কাপ জল, ১/৪ চা চামচ নুন, ১/২ কাপ চালের গুঁড়ো, ১/৪ চা চামচ বেকিং, ২-৩ টে চামচ খেজুর গুড়

ক্ষীর তৈরির উপকরণ: ১ লিটার দুধ, ৭/৮ টি কিশমিশ, ২ টা এলাচ-দারুচিনি, ১/৪ কাপ চিনি বা গুড়, ২ টে চামচ নারকেল কোরানো ২ টে চামচ

প্রণালি: প্রথমে ময়দা,নুন , চালের গুঁড়ো, বেকিং পাউডার, খেজুরের গুড় এবং জল মিশিয়ে মাঝারি আকার এর পাতলা গোলা তৈরি করে রাখুন। একটি পাত্রে ১ লিটার দুধ নিয়ে সেটা ফুটিয়ে ২ কাপ করুন। এরপর ঘন করা দুধের ভেতর কিশমিশ, এলাচ- দারুচিনি, চিনি এবং নারকেল দিন। সবশেষে ২ টেবিল চামচ চালের গুড়া সামান্য জলে গুলে নিন, তারপর ঢেলে নাড়তে থাকুন। ক্ষীর ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। এবার গরম তাওয়া বা নন-স্টিক প্যানে কয়েক ফোঁটা তেল ছড়িয়ে অল্প গরম করে নিন। তাওয়া গরম হয়ে গেলে তাতে ডালের চামচের এক চামচ গোলা ঢেলে ছড়িয়ে রুটির মত করে নিন। এবার একপাশে খানিকটা ক্ষীর দিয়ে মুড়িয়ে দিন। সাঁকা শেষে নামিয়ে ফেলুন। এভাবে বাকি গোলা ও ক্ষীর দিয়ে পাটিসাপটা তৈরি করুন। সব পিঠা তৈরি শেষে সুন্দর একটি পাত্রে পরিবেশন করুন।

৪. পুর ভরা পাটিসাপটা

উপকরণ: দুধ ২ লিটার, চিনি ৫০০ গ্রাম, সুজি দুই টেবিল চামচ, মিহি নারিকেল কোরা আধা কাপ, চালের গুঁড়ো ১ কেজি, ময়দা আধা কাপ, তেল ভাজার জন্য, নুন স্বাদমতো, জল পরিমাণ মতো।

প্রণালী : প্রথমে অর্ধেক চিনি আর দুধ ঘন করে জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। এবার তার ভেতর সুজি আর নারিকেল কোরা ছেড়ে ক্ষীর তৈরি করে নিন। ক্ষীর ঘন হলে নামিয়ে রাখুন। এবার চালের গুঁড়ো, বাকি চিনি, জল আর নুন দিয়ে পাতলা গোলা করে নিন। ফ্রাই প্যানে সামান্য তেল লাগিয়ে গরম করে নিতে হবে। এবার আধা কাপ গোলা দিয়ে একটা পাতলা রুটির মতো করে বানিয়ে নিন। রুটির ওপরের দিকে শুকিয়ে এলে এক টেবিল চামচ পরিমান ক্ষীর দিয়ে মুড়িয়ে পাটিসাপটার আকার দিয়ে আরেকটু ভেজে নিন। এভাবে একটি একটি করে পিঠা বানিয়ে নামিয়ে আনুন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন মজার পাটিসাপটা পিঠা।

৫. জাফরানি ক্ষিরের পাটিসাপটা

ক্ষিরের জন্য : দুধ ২ কাপ, ডাবল ক্রিম ১ কাপ (না দিলেও হবে), চিনি আধা কাপ, জাফরান ১ চিমটি, চালের গুঁড়ো বা কর্নফ্লাওয়ার ১ চা-চামচ।

প্রণালী : দুধ খুব ঘন করে জ্বাল দিতে হবে। ফুটে উঠলে চিনি, ক্রিম, জাফরান দিয়ে নাড়তে থাকুন। ক্ষির না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে হবে। নইলে পাতিলের তলায় লেগে যাবে। দুধ যখন খুব ঘন হয়ে আসবে তখন চালেরগুঁড়ো বা কর্নফ্লাওয়ার একটু জল দিয়ে গুলে নিয়ে দুধে মিশিয়ে নাড়তে হবে। ক্ষির ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে।

পিঠার গোলা : চালেরগুঁড়ো ১ কাপ, ময়দা ১ কাপ, গুড় ১ কাপ বা স্বাদ অনুযায়ী চিনিও দিতে পারেন, জল ১ কাপ। গুড় জল দিয়ে ওভেনর আগুনে গলিয়ে নিতে হবে। গুড় ঠান্ডা হলে চালের গুঁড়ো আর ময়দা মিশিয়ে এক ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন। তারপর একটি ছড়ানো ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল দিয়ে ডালের বড় চামচের এক চামচ গোলা নিয়ে প্যান দিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাপর মাঝাখানে দেড় চা-চামচ ক্ষির দিয়ে পিঠা ভাজ করে নিতে হবে। গোলা খুব ঘন বা পাতলা হবে না। গুড় গরম থাকতে কখনও ময়দা আর চালের গুঁড়োর সঙ্গে মেশাবেন না। তাই ঠাণ্ডা করে তারপর মেশাবেন। পিঠার গোলায় চালের গুঁড়ো আর ময়দা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। শুধু চালের গুঁড়ো দিয়ে করলে পিঠা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর মাঝখানে থেকে ভেঙে যায়।

৬. নুডুলস পাটিসাপটা

উপকরণ : নুডুলস- ১ প্যাকেট, মুরগীর হাড় ছাড়া মাংস – আধা কাপ, গাজর কুচি সামান্য, পাতা কপি সামান্য, ডিম- ৫/৬ টি, কুচানো কাঁচা মরিচ -৫/৬ টি, কুচানো ক্যাপসিকাম-১ টি, কুচানো পেঁয়াজ – ২/৩ টি, নুন পরিমান মত, সয়াসস- ১ টেবিল চামচ, তেল পরিমাণ মত

প্রণালি : প্রথমে নুডুলস সেদ্ধ করে নিন। কড়াইতে সামান্য তেল গরম তেল করে একে একে মুরগীর মাংস,গাজর, পেঁয়াজ,পাতা কপি, কাঁচা মরিচ, সয়াসস, নুন দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এবার নুডলস সব উপকরণের মধ্যে দিয়ে দিন। নামানোর আগে ক্যাপসিকাম দিন, সামান্য ভাজা হলে নামান। ফ্রাই প্যানে সামান্য তেল দিয়ে ডিম গুলো ফেটে পাটি সাপটার মত ভেজে নিন। তার ভেতর নুডলসের পুর দিন, পাটি সাপটার মত করে ভাঁজ দিন। এবার গরম গরম পরিবেশন করুন চিলি সস দিয়ে।

৭. খেজুর গুড়ের পাটিসাপটা

উপকরন: মিহি বাটা চালের গুঁড়ো ২ কাপ, খেজুর গুড়ের পাটিসাপটা, খেজুর গুড় ১ কাপ, তেল ১ কাপ, ক্ষিরসা

ক্ষিরসার উপকরন: দুধ দেড় লিটার, পোলাওর চালের গুঁড়ো টেবিল চামচ(একটু মিহি নয়), চিনি আধা কাপ, নারকেল কোড়ানো ১/২ কাপ, খেজুর গুড় ২ টেবিল চামচ।

ক্ষিরসার প্রণালী : দুধ ঘন করে অল্প অল্প চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। সামান্য দুধ তুলে ঠান্ডা করে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো গুলিয়ে দুধ ঢেলে দিতে হবে। ওভেন থেকে নামিয়ে খেজুর গুড় ও নারকেল কোড়ানো মিশিয়ে আবার ওভেনে দিয়ে একটু শুকনা শুকনা করে নামাতে হবে।

পাটিসাপটা প্রণালী: প্রথমে চালের গুঁড়ো ও গুড় জল দিয়ে মিশিয়ে পাতলা গোলা তৈরি করুন। এবার ওভেনে ফ্রাইপ্যান গরম হলে তেল ব্রাশ করে তাতে চামচ দিয়ে গোলা ছড়িয়ে দিন। ওই রুটির ওপর ক্ষিরসা দিয়ে পুর ভরে পাটিসাপটার ভাঁজ করে এপিট-ওপিঠ ছেঁকে তুলে নিন। এভাবে সব ভেজে নিন।

৮. নারকেল ক্ষীর পাটিসাপটা

উপকরণ: নারিকেল বাটা ১ কাপ, দুধ ২ লিটার, এলাচ ৪/৫ টি, দারচিনি ২/৩ টি, তেজপাতা ২ টি, চিনি ১ কাপ, আতপ চালের গুঁড়ি/পোলার চালের গুঁড়ি ৩ কাপ, খেজুরের গুঁড় কুরানো ১১/২ কাপ, নুন পরিমাণ মতো, তেল, জল ১ কাপ

প্রণালী: প্রথমে ক্ষীরের জন্য দুধ, এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা, সামান্য নুন দিয়ে জ্বাল দিবেন। দুধ ১ লিটার পরিমাণ ঘন করবেন। ১/৪ কাপ ঘন দুধ তুলে রাখুন। বাকি দুধে বাটা নারিকেল ও ১ কাপ চিনি/ গুঁড় মিশিয়ে ফুটিয়ে নিবেন। তুলে রাখা দুধে ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ি গুলে ক্ষীরে দিন ও ঘন ঘন নাড়বেন। হালুয়ার মত ক্ষীর তৈরি করুন। হালকা গরম জলে চালের গুঁড়ি, চিনি/ গুঁড় দিয়ে গোলা তৈরি করে ১ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। গোলা যেন খুব ঘন না হয় আবার পাতলাও না হয়। ফ্রাইপ্যান বা তেলতেলে কড়াই গরম করে সামান্য তৈল মাখান। ১/২ কাপ গোলা ফ্রাইপ্যানে দিয়ে প্যান ঘুরিয়ে গোলা ছরিয়ে ঢেকে দিন। পিঠার উপরের দিক শুকিয়ে গেলে ১ টেবিল চামচ ক্ষীর একপাশে দিয়ে পিঠা মুড়ে তুলে নিন। ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন।

৯. ডিমের পাটিসাপটা

উপকরণ: দুধ দেড় লিটার, , পোলাওর চালের গুঁড়ো ২ কাপ, , ডিম ১টি, , ময়দা সিকি কাপ, চিনি আধাকাপ, চালের গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, মালাই আধাকাপ, কুসুম গরম জল পরিমাণমতো।

প্রণালী: দুধ ঘন করে অল্প অল্প চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করতে হবে। সামান্য দুধ তুলে ঠান্ডা করে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো গুলিয়ে দুধ ঢেলে দিতে হবে। ওভেন থেকে নামিয়ে মালাই মিশিয়ে আবার ওভেনে দিয়ে একটু শুকনা শুকনা করে নামাতে হবে। ময়দা, চালের গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, চিনি, ডিম ও জল দিয়ে গুলিয়ে ২ ঘণ্টা রাখতে হবে। ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল লাগিয়ে বড় গোল চামচ দিয়ে এক থেকে দেড় চামচ গোলা ঢেলে প্যানে ঘুরিয়ে বড় রুটির মতো করে গোল করতে হবে। রুটি সেকা শুকিয়ে এলে ২ টেবিল চামচ দুধের ক্ষীর রুটির ওপর লম্বাভাবে দিয়ে রুটি ভাঁজ করে মুড়িয়ে নিতে হবে।

১০. রঙ্গিলা পাটিসাপটা

উপকরণ:  দুধ ১ লিটার, ৩টি এলাচ, চিনি ১/২ কাপ, ৩ টেবিল চামচ সুজি বা চালের গুঁড়ো,  ১কাপ চালের গুঁড়ো,  ১/২ কাপ ময়দা, ১/৪ কাপ সুজি, ১/৩ কাপ চিনি, ২-১/২ কাপ জল, ১ টেবিল চামচ ঘি, ফুড কালার, তেল। 

প্রণালী: এই পাটিসাপটা সম্পূর্ণ রকমের ভিন্ন এবং মজাদার। আপনি এত দিন যে সকল পাটিসাপটা বানিয়েছেন তার থেকেও অন্য রকমের হওয়ার কারণে শিশু থেকে বাড়ির সকলের ভালো লাগবে। পাটিসাপটার সম্পূর্ণ রেসিপি জানার জন্য নিচের এই ভিডিও টি দেখুন।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon