Link copied!
Sign in / Sign up
3
Shares

ভারত জুড়ে ১০টি অদ্ভুত রীতিনীতি যা শিশু জন্মানোর পর পালন করা হয়


১. শিশুর মাথা কামানো

একটি শিশুর মাথা বা তার প্রথম চুল কমানোর অনুষ্ঠান 'মুণ্ডন' নামে পরিচিত। এটি বিশ্বাস করা হয় যে এটি শিশুকে শুদ্ধ করে কিছু লোক বিশ্বাস করে যে তাদের বাচ্চাদের চুল পরিহার কবলে শিশুটি তার অতীতের জীবনের নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত হতে পারে এবং এর ফলে তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য একটি দীর্ঘ জীবন এবং ভাল ভবিষ্যত প্রদান করা হবে। এই ঐতিহ্য ভারতে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের মধ্যে পাওয়া যায়। সাধারণত, জন্মের ৬ মাস পরে বা প্রথম তিন বছরে চুল কাটা হয়।

২. শিশুকে ফেলে দেওয়া

প্রায় ৭০০ বছর ধরে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের এই ভয়ানক অনুষ্ঠানটি প্রচলিত হয়েছে। শিশুর, দুই বছর বা তার কম বয়সে, ৫০ ফুট উঁচু কোনো মন্দিরের ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় তাকে, এবং নিচে এক রাশ ভিড় শিশুকে ধরার আশা করে। এটি ভালো ভাগ্য এবং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য আনতে বলে মানা হয়। যারা শিশু জন্মের জন্মের জন্যে অপেক্ষা করে, তারাও এই অনুষ্ঠানে সামিল থাকে।

৩. মহিলা যৌনাঙ্গচ্ছেদ

মহিলা যৌনাঙ্গ কাটা, শুধুমাত্র আফ্রিকা অঞ্চলের একটি অনুশীলন নয়, তবে ভারতের আদিবাসী সমাজগুলিতেও যেমন মুম্বাইয়ের ভিন্দী বাজারে ছয় থেকে সাত বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত এই অভ্যেসের স্বীকার হতে হয়। বোহরা সম্প্রদায়ের প্রধানত শিয়া উপ-সাম্রাজ্য মহিলা যৌনাঙ্গচ্ছেদকে গোপনে চর্চা করে। এই ধরণের কাজটিও একজন অপ্রশিক্ষন প্রাপ্ত কোনো মহিলাকে দিয়েই করানো হয়। এর পিছনে বিশ্বাস হল যে ক্লিটোরিস একটি 'অবাঞ্ছিত চামড়া' বা 'শয়তানের যৌনাঙ্গ' বা মাংসের একটি অনৈতিক গুঁড়ো যে 'পাপের উৎস' হিসাবে উল্লেখ করা হয়। অনেক মায়েরাই না চাইতেও তাদের শিশুকে এই অভ্যাসের স্বীকার করতে বাধ্য হয় তাদের পরিবারের বয়স্ক শ্বাশুড়ি বা কাকিমাদের পালায় পড়ে।

৪. ফুটন্ত দুধ দিয়ে একটি সদ্যজাতককে স্নান

এই ঐতিহ্য, করাহ পুজা নামে পরিচিত যা ঈশ্বরকে খুশি করার জন্যে পালন করা হয়। এই অদ্ভুত ঐতিহ্যটি ভারতবর্ষের কিছু অংশে প্রচলিত হয় যেখানে পিতা বাচ্চাকে দুধ দিয়ে নবজাত শিশুকে স্নান করান। এটি সাধারণত হিন্দু মন্দিরগুলিতে দেখা যায় যাতে লোকজন ভিড় করে ঘুরে ঘুরে দেখতে পায়।

৫. পুরুষ যৌনাঙ্গ খৎনা

ডব্লিউএইচও'র মতে, প্রত্যেক ৩০% এর মধ্যে ১৫ জন পুরুষের যৌনাঙ্গ খৎনা করা হয়েছে। এটি একটি এইচআইভি প্রতিরোধকারী বিকল্প হিসাবে সুপারিশ করা হয়। ভারতবর্ষে প্রায় ৫০% -৬০% পুরুষের এইচআইভি / এসটিআই সংক্রমণ এর দ্বারা হ্রাস পায়। ভারতে প্রায় ১২০ মিলিয়ন জনসংখ্যা রয়েছে। এই প্রথা স্বাভাবিকভাবে ইসলাম ও ইহুদীধর্ম মত ধর্মের সঙ্গে যুক্ত।

৬. আধান

মুসলমানদের মধ্যে একটি বিশ্বাস আছে যে “ঈশ্বর মহান, ঈশ্বরের উপর আর কেউ নেইএবং মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল”। একটি নবজাতক শিশুর শোনা প্রথম শব্দ হওয়া উচিত “আল্লাহ” । তাই শিশু জন্মের পর এই প্রার্থনা সাধারণত শিশু এর ডান কানে শিশুর পিতা ফিসফিস করে উচ্চারণ করে থাকেন।

৭. ব্যাপ্টিজম

ব্যাপ্টিজম ক্যাথলিকদের একটি সাধারণ অভ্যাস এবং এছাড়াও ভারতে ব্যবহার করা হয়। এটা শিশুর মধ্যে থেকে মূল পাপ সাফ করার একটি উপায় হিসাবে দেখা হয়। যাজক বাচ্চার কপালের উপর কয়েকটি জলের ফোটা ছিটিয়ে দেন বা অভিবাদন পাঠ করার সময় শিশুটির মাথা উপর জল ঢেলে দেন।

৮. কর্ণভেদ

কর্ণভেদ বা কান ফুটো করা হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে বিখ্যাত। এটি বিশ্বাস করা হয় যে কানের লতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আকুপাংচার পয়েন্ট এবং ভবিষ্যতে এটি সুস্বাস্থের মান রাখতে পারে। কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে, এটা কেউ শক্তিকে বিদায় করে। মণ্ডন অনুষ্ঠান বা জন্মের প্রথম বা তৃতীয় বছরে এইকর্ণভেদ অনুষ্ঠান একসাথেই পালন করা যায়।

৯. শিশুকে বালির মধ্যে দমন করা

কর্ণাটকে, এই বিদ্বেষপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুশীলনকারীরা বিশ্বাস করে যে শারীরিকভাবে অক্ষম শিশুকে ঘাড় অবধি বালিতে বপন পুঁতে রাখলে তাদের অক্ষমতাগুলির নিরাময় হয়। সূর্যগ্রহণের আগে, সূর্যোদয়ের আগে, গভীর গভীর গর্ত খনন করা হয় এবং শিশুদের এক ঘন্টার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে গর্তের মধ্যে রাখা হয়।

১০. গরুর সারে গড়ানো

মধ্য প্রদেশের বেতুলের ক্ষুদ্র গ্রামে গরু এই ঐতিহ্যটি দেখা যায়। এখানে মানুষ বিশ্বাস করে যে গরুর গোবরে গড়াগড়ি করলে তাদের সন্তানদের জন্যে সৌভাগ্য ও সুস্থ জীবন নিয়ে আসবে। এছাড়াও, হিন্দুরা গরুকে পবিত্র বলে মনে করে এবং তাদের গোবর ঔষধের বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে। ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় হিন্দু উৎসব, দিপাবলির পরে এই অনুশীলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon