Link copied!
Sign in / Sign up
0
Shares

আপনার প্রিয় বারান্দা কে কিভাবে সাজিয়ে রাখবেন


আপনার হয়তো রান্না ঘরের পর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বারান্দা। সন্ধ্যার সময় ঝুল বারান্দায় হাঁটা। বারান্দা ভর্তি গাছ আর একটি দোলনা। কিন্তু এই সময়ে বিরাট ফ্ল্যাটের ছোট এক বারান্দায় না থাকে হাটার জায়গা, না আছে স্বাধীনতা। দাঁড়ালেই সামনের বাসার পর্দা বাড়ি খায় গ্রিলে। অনেকেই কাপড় শুকিয়েই ব্যয় করে বারান্দা।

আচ্ছা, বারান্দা কি শুধু কাপড় শুকানোর জন্যই তৈরি…? প্রতিটি বাড়িতে বারান্দা থাকবেই। কিন্তু ভাড়া বাড়ির বারান্দায় ছোট হবার জন্য ঠিক মতো দাঁড়ানো যায় না। তবে আপনার বাড়িতে একটি বারান্দা আছে এবং তাতে শুধুই যদি কাপড় শোকানোর জন্য ব্যবহার তাহলে কিন্তু বিপদ! কাপড় শুকানো, ছেলের পুরনো সাইকেল রাখা, বাড়ির বাড়তি আবর্জনা, খবরের কাগজ এসব করেই যদি বারান্দায় ভিড় জমিয়ে রাখেন তো নিঃশ্বাস নেবেন কোথায়? একটু হাঁটবেন বা বিকেলের সময় কাটাবেন কোথায়? মুগ্ধতা খুঁজবেনই বা কোথায়? আসুন না, এ অবহেলিত বারান্দাকেই সুন্দর করে সাজাই।

আপনার বারান্দা সাজাতে প্রথমেই যা লাগবে তা হলো গাছ। পাতাবাহার বাঁ বাহারি ফুলের গাছ, বারান্দার সাথে সম্পূর্ণ বাড়ির ছবি বদলে দেবে। বিভিন্ন পাতাবাহার, লতানো, ঝুলানো আর ফুলগাছ দিয়ে সাজাতে পারেন বারান্দাটা। ফার্ন, অর্কিড বা মানিপ্ল্যান্ট জাতীয় গাছগুলোকে ঝুলিয়ে দিন বারান্দায়। মাটির পাত্রে শিকল দিয়ে ঝুলবে লতানো গাছ। ঝোপ জাতীয় গাছ রাখতে পারেন বারান্দায়। বিভিন্ন ধরণের নকশা করা পটারি পাবেন বিভিন্ন গৃহসজ্জার দোকানে অথবা নিজের ইচ্ছে মতো রং দিয়ে সাজাতে পারেন পটারি। আর গাছ! সে তো পেয়ে যাবেন যে কোনো নার্সারিতে। বারান্দায় একটু বেশি জায়গা থাকলে সেখানে জীবজন্তু বা পাখিও পুষতে পারেন। ভোরে পাখিগুলো আপনাকে জাগিয়ে তুলবে তাদের কণ্ঠস্বরে।

আপনি যদি চান এবং আপনার বারান্দা যদি বোরো হয় তবে বারান্দায় বসার ব্যবস্থা করলে কিন্তু মন্দ হয় না, সকালে খবরের কাগজ-এর সঙ্গে চা, এবং বিকেল বা সন্ধ্যায় আড্ডা দেয়ার জন্যে বারান্দার সাথে কারুর তুলনা হয় না। কিন্তু তাই বলে যদি ভাবেন সোফাসেট বারান্দায় বসবেন সেটা বসানোটা বোকামি। ভালো লাগলে হালকা ধরণের কিছু ফার্নিচার। যেমন বেতের মোরা বা কিছু কাঠের চেয়ার, ছোট্ট টেবিল অথবা রকিং চেয়ার বা আরাম কেদারাও রাখতে পারেন। অন্য ভাবে সাজানোর জন্য ২-৩ টি মাটির মুর্তি, বড় শোপিস রাখতে পারেন। রঙ্গিন আলোর ল্যাম্পশেডও রাখতে পারেন বারান্দায়। সন্ধ্যার পর অপূর্ব সুন্দর এবং মোহনীয় এক পরিবেশ তৈরী হবে। এবার যদি আপনার ভালো লাগে তবে এতো কিছুর পরও ঝুলাতে পারেন একটি দোলনা।

বারান্দার জন্য কিছু সাবধানতা মেনে চলুন

১। রাস্তা থেকে বারান্দা দেখা গেলে বারান্দায় সবসময় কাপড় না ঝুলিয়ে রাখাই ভালো। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় কাপড় শুকালে বাকি সময় বারান্দা খোলা রাখুন। যাতে হাওয়া চলাচল করতে পারে।

২। গাছে জল দেওয়ার পর মেঝে পরিষ্কার কিনা লক্ষ্য রাখবেন। জল পরলে তা সাথে সাথে মুছে নেবেন।

৩। যদি বারান্দাকে ঘিরে আড়াল করতে চান তাহলে লতানো গাছ, বাঁশের ঘরখড়ি বাঁ কাপড়ের পর্দা দিয়ে আড়াল করা ভালো। খবরের কাগজ, কার্টুন বক্স বা পলিথিন এই সব দিয়ে ঢাকলে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু লাগবে।

৪। পশুপাখি যদি পোষেন তবে তার যত্নের পাশাপাশি বারান্দা পরিষ্কার রাখা দরকার।

৫। আপনার বারান্দা কেমন তার ওপর নির্ভর করে আপনি কিভাবে সাজাবেন আপনার বারান্দা। নতুবা সব একসঙ্গে রাখতে গেলে জগাখিচুড়ি পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তবে আর দেরি কেন? নিজের ইচ্ছেমতো ও পছন্দের সঙ্গে সাজিয়ে তুলুন বারান্দাকে। একটু হয়ত বাড়তি খরচ হবে। কিন্তু এতদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা বারান্দাটা যদি আপনার প্রিয় জায়গা হয়ে যায়, তাতে আসা করি কিছু মন্দ হবে না।


Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon