Link copied!
Sign in / Sign up
1
Shares

আপনার শিশু কেন নখ বা আঙ্গুল কামড়ায়?


শিশুদের বিভিন্ন আচরণজনিত সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট একটি কারণকে দায়ী করা সম্ভব নয়। অনেক কিছুরই সম্মিলিত প্রভাবের ফলে শিশুর মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। আর সেই নিয়ে সন্তানের মা-বাবার চিন্তা কিছু কম নয়। ঠেক তেমনি দাঁত দিয়ে নখ কাটা বা আঙুল চোষার ক্ষেত্রেও অনেক বিষয়ের প্রভাব রয়েছে।

কারণ

১. দুই থেকে তিন বছরের শিশুর আঙুল চোষাটা স্বাভাবিক। ব্রেস্টফিড বা ফিডারে দুধ পান করা শিশুরা অনেক সময় অভ্যাসবশত আঙুল চোষে, যা ধীরে ধীরে চলে যায়।

২. বাড়ির পরিবেশ আনন্দময় না হলে শিশুর মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। যেখানে শিশু বেশির ভাগ সময় অবহেলিত থাকে, মা-বাবা শিশুর প্রতি উদাসীন থাকেন, সেখানে শিশু বিকল্প হিসেবে দাঁত দিয়ে নখ কেটে বা আঙুল চুষে আনন্দ পায়।

৩. দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুর মধ্যে দাঁত দিয়ে নখ কাটার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। স্নায়বিক উত্তেজনার কারণেই শিশুরা এটা বেশি করে থাকে।

৪. শিশু যখন নিঃসঙ্গ বা একঘেয়ে বোধ করে অথবা উত্কণ্ঠায় ভোগে, মানসিক চাপে থাকে, তখনো দাঁত দিয়ে নখ কাটে বা আঙুল চোষে। ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার বোধ থেকেও শিশু এমনটি করে থাকে।

প্রতিকার

শিশুর নখ কামড়ানো ও আঙুল চোষা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এটি কমে যায়। তবে ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে শিশু এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ না করলে ভাবার বিষয় আছে। এ সময় অভিভাবকদের এমন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সে এই অভ্যাসগুলো থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হতে পারে।

শিশুর নখ কামড়ানো ও আঙুল চোষায় করণীয়

১. সবচেয়ে বড় প্রতিকার হলো শিশুর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রকাশ করা। বাড়ির পরিবেশ এমন হতে হবে, যেখানে শিশু নিরাপদ বোধ করবে ও আনন্দে থাকবে।

২. শিশুর এসব অভ্যাসের জন্য বড়দের কোনোভাবেই উত্তেজিত হওয়া চলবে না। এই অভ্যাসগুলো দূর করার জন্য বকা দেওয়া যাবে না। সরাসরি নিষেধ বা অতিরিক্ত মনোযোগ না দেওয়াই ভালো। এতে শিশু আরো ভীত হয়ে উঠবে বা হীনম্মন্যতায় ভুগবে।

৩. শিশুকে উত্তেজনামুক্ত রাখতে হবে। এই অভ্যাসগুলোর কুফল সম্পর্কে শিশুর বোধগম্য হয়, এমনভাবে কিছু ধারণা দিতে হবে। যেমন খেলার ছলে কিংবা গল্প বলে এসব অভ্যাস সম্পর্কে অবহিত করা।

৪. শিশুর প্রাত্যহিক জীবনে আনন্দময় খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে এসব অভ্যাস সহজেই দূর হয়ে যাবে।

৫. শিশুর এই অভ্যাসগুলোর জন্য তাকে কখনোই লজ্জা দেওয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ লজ্জা দিলে তার আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। স্নেহ মমতাপূর্ণ আচরণে শিশু এই অভ্যাস থেকে সহজেই নিজেকে মুক্ত করতে পারবে।

আমাদের এই পোস্টটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। 

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
0%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon