Link copied!
Sign in / Sign up
11
Shares

আপনার প্রশংসা কিভাবে আপনার সন্তানের জীবন পরিবর্তন করে জানেন?


প্রত্যেকটি শিশু তার বাবা মায়ের প্রাণ হয়। অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন ও চান যে সন্তান যাতে পৃথিবীর সব সুখ পেতে পারে, জীবনে বড় হয়ে ওঠে ও বাবা মায়ের নাম উজ্জ্বল করে। আজ্ঞে হ্যাঁ, সন্তানকে যেমন বাবা মা পৃথিবীতে জানান তেমন তার বড় হওয়া ও শিক্ষার পেছনেও তাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা বলতে শুধু স্কুলে যাওয়া, বই পড়া বা পড়াশুনা নয়, শিক্ষা হল জীবনে ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় বড় হওয়া,  চিন্তা করা, নিজের ভালো মন্দ নিজে থেকে বিচার করতে পারা, ইত্যাদি। এসবকিছুর পেছনেই যেমন পরিবেশ, শিক্ষাস্থান ও বন্ধুদের ভূমিকা থাকে, তার চেয়ে ঢের বেশি ভুমিকা অভিভাবকের। আগেই বলেছি সন্তান বাবা মায়ের প্রাণ, কিন্তু তাকে আদর-যত্ন দিয়ে বড় করার সময় অনেক জিনিস খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আদর-যত্ন এমন জিনিস যে আপনি অতিরিক্ত দিলে তার কুপ্রভাব পড়তে পারে যেমন সন্তান অতিরিক্ত পেতে পেতে না পাওয়ার কষ্ট বা দুঃসময় লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে গর্তে পারেনা, জেদি বা উশৃঙ্খল স্বভাবের তৈরী হতে পারে, ইত্যাদি। আবার আদর যত্ন  হলে হয় উল্টো। সন্তান বাবা মায়ের সাথে মানসিকভাবে দূরে সরে যায়, ভুল সঙ্গে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বিগড়ে যায়, সে নিজেও ভবিষ্যতে ভালোবাসতে শেখেন। 

আদর যত্নের পাশাপাশি বাবা মায়েদের আরেকটা জিনিসও দেখা প্রয়োজন যেটা হল সন্তান যেন অকর্মন্ন বা উল্টো দিকে অতিরিক্ত পড়াশুনা বা কাজ করে নির্মম কোনোটাই না হয়ে যায়। তাকে যেমন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে তেমন অন্য সবদিক ব্যালেন্স করেও চলার পথ জানতে হবে। এই জিনিসটি তৈরী করতে হলে আপনার ছোটবেলা থেকেই সন্তানের জন্যে দক্ষতা অর্জন করাতে হবে।

এক্ষেত্রে প্রশংসা অনেক বড় ভুমিকা রাখে। যেসব বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের পরম আদর ও আদর্শেবড় হ্যায় তাদের মানসিকতা হয় মমতাশীল ও সৃজনশীল। ছাত্রাবস্থায় তারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রিয় হয়ে ওঠে, পড়াশুনা ছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার কর্মে দক্ষতা অর্জন করে এবং কর্মজীবনে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। আসলে এগুলো কিছুই বড় হলে হয় না, এগুলোর ভিদ একদম ছোটবেলা থেকেই তৈরী হয়ে যায়। 

শিশু যখনই কোনো ছোট ছোট উন্নয়নমূলক কাজ করবে, সেটির সরাসরি ভুল না ধরে বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রশংসা না করে শিশুসুলভ ভাবে তাঁকে প্রশংসা করুন ও উৎসাহ দিন যাতে সে আরো গভীরে গিয়ে ভাবার প্রবণতা গড়ে তোলে। কে বলতে পারে, একদিন আপনার শিশুই যে দেশ বিদেশে বিশাল বড় একজন ব্যক্তি হয়ে নাম করবে না?

শিশুদের মন কাঁচের মত হয়। তারা যেমন ইতিবাচক আবহাওয়া পেলে চনমনে হয়ে ওঠে, তেমনি নেতিবাচক আবহাওয়া পেলে ভেঙে পরে। সে পড়াশুনার ক্ষেত্রেই হোক বা যেকোনো ক্ষেত্রে।ধীরে ধীরে এটি ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। বাবা মা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হল তার মনকে ইতিবাচক করে তোলা যেখানে প্রশংসা অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তার মানে এই নয় যে আপনি তার ভুলগুলিকেও শুধরাবেন না। নিজের সন্তানকে বুঝুন, তার সাথে সময় কাটান, কথা বলুন। তার ছোট ছোট ইচ্ছায় নিজেকেও সামিল করুন, প্রশংসা করুন, ভুলগুলিকে বুঝিয়ে ভাঙার চেষ্টা করুন। তার মন যখন কোনোরকম দোটানায় থাকবে তাকে জিগেশ করুন তার মত সব থেকে বেশি কি বলে। মত ভালো হলে তাকে প্রশংসা করুন, ভুল হলে বোঝান যে কেন তা ভুল, কি কি হতে পারে, ইত্যাদি। সবসময় নিজের মত চাপিয়ে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা কেড়ে নেবেন না। এভাবে তার আত্মবিশ্বাস দিনে দিনে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, সে আপনার প্রতি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে।

আমাদের পোস্ট যদি আপনার ভাল লেগে থাকে, তাহলে নিশ্চই শেয়ার করুন। হয়ে উঠুন গর্বিত বাবা মা।

Click here for the best in baby advice
What do you think?
0%
Wow!
100%
Like
0%
Not bad
0%
What?
scroll up icon